
যখন রেল লাইন পাতা, বিদ্যুতের টাওয়ার বসানো নিয়ে এখানে ওখানে সংঘাত বাড়ছে, গড়িয়াহাটের হকাররা সেখানে এক নতুন দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করলেন
প্রায় কুড়ি বছর আগের কথা। ১৯৯৬ সালের ২৪ নভেম্বর গভীর রাতে হাতিবাগানে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল হাজার হাজার হকারের ছাউনি। প্রতিবাদে রাত তিনটের সময় বাসে আগুন জ্বলেছিল গোলপার্কে। আজকের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনেকেই দেখেছিল সেই রাতে দেশপ্রিয় পার্কের ট্রামলাইনের উপরে বসে হকারদের শেড পাহারা দিতে।
কথাগুলো মনে পড়ে গেল, ২৬ মার্চের বিকেলে যখন দেখা গেল, চৈত্র সেলের আগে গড়িয়াহাটের হকাররা নিজেরাই পথচারীদের জন্য রাস্তা ছাড়তে উদ্যোগী হলেন। গড়িয়াহাটের প্রায় সাড়ে তিন হাজার হকার ফুটপাথে ব্যবসা করেন। দক্ষিণ কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েক লক্ষ মানুষ এই হকার বাজারের ক্রেতা। এই বাজারে কেনাকাটার এক অদ্ভুত পদ্ধতি আছে। বিক্রেতা যখন দাম বলবেন ৩০০, ক্রেতা ভালোমতো দেখে টেখে নিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে দাম বলবেন, ১৩০, টানাপোড়েনের শেষে দাম দাঁড়াবে ১৫০টাকা। তখন দু’জনেরই হাসি মুখ।
কারও নজর ছিল না। ফুটপাথ দখল সবার অলক্ষ্যে বেড়েই চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নজর পড়ল সরকারের। শুরু হল সমালোচনা। সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এল হকারদের সব ক’টি সংগঠন। তাদের নির্দেশে দোকানের মাপ কমানোর সিধান্ত নিল।
রবিবার গড়িয়াহাটের হকাররা দেখিয়ে দিলেন, এই শহর তাঁদেরও। শহরবাসীর পাশে আছেন তাঁরাও। যখন রেল লাইন পাতা, বিদ্যুতের টাওয়ার বসানো নিয়ে এখানে ওখানে সংঘাত বাড়ছে, গড়িয়াহাটের হকাররা সেখানে এক নতুন দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করলেন।
