
গাছ বাঁচাতে নিজে হাতে অনেক ওষুধও তৈরি করে দেন তিনি
রোজ ভোরে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির গাছেদের কাছে চলে যান তিনি। গাছেদের সঙ্গেই সেরে নেন প্রাণায়াম। আর টানা ষাট বছর ধরে এই কাজ করার ফল, এই ৭৯ বছর বয়সে পৌঁছেও তাঁর শরীরে কোনও রোগব্যাধি নেই। গাছই ওষুধ তাঁর কাছে। শহরের অনেকে তাঁকে গাছবুড়ো বলেন, কেউ বলেন গাছপাগল। কারও বাড়িতে গাছের কোনও অসুবিধে হলেও ডাক পড়ে শিলিগুড়ি রবীন্দ্রনগরের বৃদ্ধ যতন পালচৌধুরীর। এমনকি সামাজিক বনসৃজন দফতরের অফিসার সোনম ভুটিয়াও এই বৃদ্ধের সবুজ ভাবনার প্রশংসা করেন।
<উত্তরবঙ্গে এই সময় আকাশে থাকে মেঘ। এবারে তা নেই। চলছে অরণ্য সপ্তাহ। আর এই অরণ্য সপ্তাহেই অনেকের কাছে আরও বেশি করা আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছেন যতনবাবু। স্কুল জীবন থেকেই গাছ ভালবাসেন তিনি। ৭৯ বছর বয়সেও ভালবাসা কমেনি এতটুকু। বিভিন্ন ফুল মেলা থেকে শুরু করে রাজ্য কৃষি ও বন দফতরের কাছ থেকে অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন। বাড়িতে কোনও গাছ অসুস্থ হলে তাঁকে মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখেছেন অনেকেই। বিভিন্ন ফার্ন, বনসাই ছাড়াও আরও অনেক গাছ আছে তাঁর বাড়িতে। সকালে সব গাছকে, যার যা প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী জল, গোবর সার, খোল জল সহ অন্য খাবার দেন তিনি। দরকার হলে ওষুধও। সারাদিনই চলে তাঁর গাছ পরিচর্যা। একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল আর একটি নার্সিংহোমের ফুলের বাগানে গাছ পরিচর্যার জন্য নিয়মিত উপদেশ দিতে হয় তাঁকে। গাছ বাঁচাতে নিজে হাতে অনেক ওষুধও তৈরি করে দেন তিনি।
এছাড়াও, সারা বছর ধরেই গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন সকলকে। বলেন, গাছ লাগালে আর সবসময় গাছের কাছে থাকলে কথায় কথায় আর ওষুধ খেতে হবে না। গাছ হল প্রকৃতির বন্ধু। স্ত্রী গৌরি দেবীও স্বামীকে উৎসাহ দেন। যতনবাবু বলেন, বৃদ্ধ বয়সে আজকাল অনেকে বৃদ্ধাশ্রমে যাচ্ছেন। কিন্তু আমার কাছে গাছেরাই আশ্রম। সামাজিক বনসৃজন দফতরের আধিকারিক সোনম ভুটিয়া বলেন, অরণ্য সপ্তাহের উৎসব চলার মাঝেই যতনবাবুকে বিশেষ সম্মান জ্ঞাপন করবেন তাঁরা।
