
কৌশল না বদলাতে পারলে বাম এবং কংগ্রেস অচিরেই ‘বাংলা কংগ্রেসে’ পরিণত হবে
সাত পুরসভা এবং দুই ওয়ার্ডের (উপনির্বাচন) মোট ১৫০টি আসনের একটিও সিপিএম জিততে পারেনি। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ১৪২টি আসন। প্রশ্ন উঠেছে আগামী বিধনসভা ভোট পর্যন্ত কি সিপিএম টিকে থাকবে? সাম্প্রতিক পুর-ভোটের ফল নিয়ে বিজেপি এবং সিপিএম বলেছে সন্ত্রাস করে ভোটারদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। তাই যদি হয় তাহলে ধূপগুড়িতে কী করে বিজেপি ৪২ শতাংশ ভোট পেল? তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া যাক একমাত্র ধূপগুড়িতেই ঠিকঠাক ভোট হয়েছে, তাহলে দেখা যাচ্ছে ধূপগুড়িতে বামফ্রন্ট ভোট পেয়েছে ৮.৬ শতাংশ। আবার দেখা যাচ্ছে নলহাটিতেও বামফ্রন্ট ভোট পেয়েছে ৮.৭ শতাংশ। এবং বুনিয়াদপুরে বামফ্রন্ট পেয়েছে ৯শতাংশ ভোট। এর থেকে এমন মনে করা যেতেই পারে বামফ্রন্টের ভোটের খুব একটা এদিক ওদিক হয়নি, এটাই এই মুহূর্তে রাজ্যে বামফ্রন্টের ভোট। প্রায় ছ’লক্ষ ভোটারের ভোটদানের মতিগতি এ কথাই বলছে। এবং এই প্রায় ছ’লক্ষ ভোটারদের ভোটে বাম ফ্রন্ট প্রায় ৫৩ হাজার ভোট পেলেও, সিপিএম একটি আসনও পায়নি।
২০১৪ লোকসভা ভোটে বামফ্রন্ট ভোট পেয়েছিল ৩০শতাংশ। সেখান থেকে কমতে কমতে এবার এসে দাঁড়াল ৭.৫ শতাংশে। অন্য দিকে এবারের এই সাত পুরসভা ভোটে কংগ্রেস পেয়েছে ২.৬ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ এই দুই দলের মিলিত শক্তি এখন ১০ শতাংশের মতো। বোঝাই যাচ্ছে বাম এবং কংগ্রেসের ভোট বিজেপির দিকেই যাচ্ছে। তাই দুই দলের আজ এই অবস্থা। কংগ্রেস এই রাজ্যে অনেক দিন ধরেই অস্তাচলে। কিন্তু লড়াইটা এত দিন ছিল ত্রিমুখী। আগামী নির্বাচনগুলিতে কিন্তু লড়াইটা দ্বিমুখী হয়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছে। সম্পূর্ণ মেরুকরণের এই রাজনীতিতে কৌশল না বদলাতে পারলে বাম এবং কংগ্রেস অচিরেই ‘বাংলা কংগ্রেসে’ পরিণত হবে।
এই মুহূর্তে বলা যায় এই রাজ্যে এমন একটিও আসন নেই যে আসনে সিপিএম দাবি করতে পারে তারা নিশ্চিত জিতবে। কিন্তু কিছু আসনে এখনও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধলে জেতা সম্ভব। কিন্তু প্রকাশ কারাতরা যে পথে হাঁটছেন তাতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধা সম্ভব নয়। তাহলে কি এই জোট-বিতর্ককে ঘিরে সিপিএম আবার ভাঙবে? এসব নিয়ে অবশ্য সিপিএমের খুব একটা মাথা ব্যথা আছে বলে মনে হয় না। একটা দল যখন এই রকম গচরম অস্তিত্বের সংকটে ভূগছে তখন দেখা গেল তাদের দলের নেতারা দিনের পর দিন মিটিং করে চলেছেন ‘পরকীয়া’ কাকে বলে, কতটা পরকীয়া দোষের, দলের অমুক নেতা পরকীয়া করেছেন কি না ইত্যাদি ইত্যাদি। পুরসভার ভোটে দলের এই করুণ অবস্থা দেখে প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন। এই প্রসঙ্গে সোমনাথ সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘দলের তরুণদের বলছি দিল্লির শিকড়হীন নেতাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করুন। বাংলার যে নেতাদের হাত ধরে তলানিতে এসেছে দল, বিদ্রোহ করুন তাদের বিরুদ্ধেও’। সত্যিই কি সিপিএমে এমন বিদ্রোহ হতে পারে? পার্টির এক নেতা বললেন, ‘দলে এমন কোনও মুখ নেই যিনি এমন বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিতে পারেন! দলটা আসলে বুড়ো হয়ে গেছে’।
