ডিস্কো ডান্সার থেকে উনিশে এপ্রিল : ভারতীয় চলচ্চিত্রে নৃত্যশিল্প

পর্ব ১৩

ই শীতেই কলকাতা একটা অপূর্ব উৎসবে মেতে ওঠে। হ্যাঁ, চলচ্চিত্র উৎসবের কথাই বলছি। আমাদের ছোটোবেলায় যখন বিভিন্ন ভাষার বিদেশি ছবি আজকের মতো উপলব্ধ ছিল না, টিভিতে শুধুই ইংরেজি আমেরিকান সিনেমা দেখতে হত অথচ আমরা আরও অনেক কিছু দেখতে, বুঝতে চাইতাম তখন আমাদের একমাত্র রাস্তা ছিল কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের অন্তত একদিনের কোনও টিকিট বা ডেলিগেট কার্ড। যেভাবে হোক একটা পাস জোগাড় করে ছুট্টে যেতাম নন্দনে। অনেকটা ইডেন বা যুবভারতী ছোটার মতোই। তারপর বিভিন্ন ভাষার সঙ্গে সঙ্গে নানা রকম বিষয়ের নানা দেশের হরেক কিসিমের ছায়াছবি দেখার সৌভাগ্য আমাদের হত। দেশ, সমাজ, রাজনীতি, হিংসা ও যৌনতা- কোনও বিষয়ের ওপরই ছবি কিছু কম দেখতাম না। আবার শিল্প বিষয়ক সিনেমাও দেখতাম। আমার ভালো লাগত জীবনীভিত্তিক সিনেমা অর্থাৎ বায়োপিকগুলো। আর নৃত্যশিল্প নিয়ে এ ধরনের ছবিগুলো ছিল আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয়। এখনও দেখি। তবে ভারতবর্ষে নৃত্যশিল্প বা নৃত্যশিল্পীদের নিয়ে ছবি আজও খুবই কম তৈরি হয়। তা সত্ত্বেও এ-বিষয়ের এমন অনেক ছবি আছে যেগুলো আমাদের মনে গভীর দাগ কেটে গিয়েছে।

কল্পনা (১৯৪৮)

কেউ হন প্রতিভাধর। কেউ শিল্পী। আর কেউ থাকেন শুদ্ধ জিনিয়াস। উদয়শঙ্করকে যেন জিনিয়াস বললেও কম বলা হয়। পরাধীন ভারতবর্ষের প্রেক্ষাপটে এক যুবক, যাঁর অমন ভাস্কর্যসম শরীর, ওই রকম জ্ঞানবুদ্ধি আর বিভিন্ন শৈলির ভারতীয় নৃত্যকে একত্রিত করে নিজের মতো করে একটা নৃত্য উদ্ভাবন, এমন শুধু উদয়শঙ্করের পক্ষেই সম্ভব। সেই নৃত্য নিয়ে চল্লিশের দশকে পৃথিবীর যে প্রান্তেই তিনি যাচ্ছেন শহরের পর শহর জয় করে নিচ্ছেন। ইউরোপ, আমেরিকা- সব। এটুকু হলেও ভীষণরকম চলত কিন্তু উদয়শঙ্কর এক কালজয়ী সিনেমা তৈরি করে ফেললেন। একজন শিল্পীর কল্পনায় শিল্পে বড়ো হয়ে ওঠার কাহিনি। পুরোটাই একটা স্বপ্নযাত্রা। কী অসম্ভব সুন্দর ছবি কল্পনা। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও পুরোধা। সত্যজিৎ রায় শুধু নয়, মার্টিন স্করসেসি অবধি কল্পনা-র ভক্ত। আমরা তো কোন ছাড়! স্বপ্রতিষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড সিনেমা ফাউন্ডেশন-এর তরফে মার্টিন স্করসেসি নিজে উদয় শঙ্করের কল্পনা-কে সংরক্ষণ করেছেন। ভারতে নৃত্যশিল্প নিয়ে ছবির যে শুরুয়াত কল্পনা দিয়ে হয়েছিল তা অবশ্য ধরে রাখা যায়নি। উদয়শঙ্কর নিজেও আর ছবি বানাননি। আর ভারতীয় ছবিতে পরবর্তীকালে নৃত্যের ব্যবহার প্রচুর পরিমাণ হলেও নৃত্যশিল্পকে প্রধান করে আরেকটা কল্পনা কেউ নির্মাণ করতে পারেননি। এটা ট্রাজেডি!

গাইড (১৯৬৫)

বিজয় আনন্দের গাইড, আজকের বিচারে খুব উচ্চমানের না হলেও সেই ষাটের দশকের প্রেক্ষিতে অবশ্যই অনন্যসাধারণ। গাইড-এর গল্প আজ ভারতবর্ষের প্রায় সকলেই জানেন। আর.কে নারায়ণের যে-কোনও লেখাই মনুষ্যত্বের এমন কিছু দিক বারবার তুলে ধরেছে যা ভারতীয় সাহিত্য-সিনেমাকে সমৃদ্ধ করেছে। আমার যেটা সব চেয়ে ভালো লাগে এই ছবিতে সেটা হল রাজু (দেব আনন্দ) চরিত্রটি রোজি (ওয়াহিদা রহমান) মেয়েটির জন্য কেরিয়ার, সমাজ, সংস্কার- সব কিছু জলাঞ্জলি দিতে পারে কেবল রোজিকে সে ভালোবাসে বলে না সে সম্মান করে রোজির শিল্পের দিকটি। রোজি নাচতে চায়। নৃত্যশিল্পী হতে চায়। যে যুগে নৃত্যশিল্পকে দেহব্যবসার সমার্থক হিসেবে ভাবা হত সে যুগের মুকুর গাইড। আর এই ছবির মধ্যে দিয়ে পরিচালক দেখিয়েছেন শিল্প নিয়ে বিশেষ করে নৃত্যশিল্প নিয়ে সমাজে যতই কুসংস্কার থাক না কেন আমাদের শেষ পর্যন্ত শিল্পের পাশেই দাঁড়াতে হবে। তাহলে সমাজও রক্ষা পায় যে! রাজু সে-শিক্ষা আমাদের দিয়েছে।

 

পাকিজা (১৯৭২)

নৃত্যশিল্পকে বিষয় করে ভারতবর্ষে সিনেমা কম তৈরি হয়েছে এটা যেমন সত্যি আবার এটাও ঠিক যে কিছু এমন ছবিও নির্মিত হয়েছে যাতে নৃত্যশিল্পের বিশেষত ভারতীয় শাস্ত্রীয়নৃত্যের ব্যবহার এক কথায় অভূতপূর্ব। কমল আমরোহির পাকিজা ভারতবর্ষের সিনেমাতিহাসে আজ কাল্ট। এর নির্মাণের গল্প নিয়েই আলাদা করে একটা ছবি হতে পারে কিংবা মীনাকুমারী-র অভিনয়শিল্পকে ঘিরে। কিন্তু কথকনৃত্যের যে অনাবিল ব্যবহার এ ছবিতে রয়েছে তা এক সম্পদ। দিল্লি, লখনৌ, লাহোরের মুসলিম হাই-লাইফ নিয়ে অনেক ভারতীয় সিনেমা তৈরি হয়েছে যেখানে একটা চেনা কাহিনি থাকত বড়োলোক বাড়ির ছেলের কোনও তাওয়াইফের প্রেমে পড়া। পাকিজা সেই শ্রেণিরই নির্মাণ কিন্তু তাওয়াইফ জীবন বোঝানোর জন্য কথকনৃত্যের ব্যবহার বিশেষত ‘ঠারে রাহিও’ গানের সঙ্গে মীনাকুমারীর নৃত্য যা নাকি কথকের দিকপাল শ্রদ্ধেয় লচ্ছু মহারাজের কম্পোজিশন, তা কোনওদিন ভোলার নয়। তবে পাকিজা যে-ভাবে শাস্ত্রীয়নৃত্যের ‘অথেনটিসিটি’ (নির্ভেজালত্ব) ধরে রেখেছিল সেটা ভারতীয় সিনেমা বিশেষত হিন্দিছবি পরবর্তীকালে হারিয়েই ফেলেছিল বলা চলে অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া।

ভারতবর্ষে নৃত্যশিল্প বা নৃত্যশিল্পীদের নিয়ে ছবি আজও খুবই কম তৈরি হয়। তা সত্ত্বেও এ-বিষয়ের এমন অনেক ছবি আছে যেগুলো আমাদের মনে গভীর দাগ কেটে গিয়েছে।

বালা (১৯৭৬)

রবীন্দ্রনাথ যেমন সাহিত্যের সব শাখাতেই স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন সিনেমার ক্ষেত্রে সত্যজিৎ রায়ও কতক তাই করেছেন। তাঁর বিশ্ববন্দিত কাহিনিচিত্রগুলির পাশাপাশি তাঁর তথ্যচিত্রের তালিকাটিও আমাদের অবাক করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুকুমার রায়, বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি যে নৃত্যসম্রাজ্ঞী বিদূষী বালাসরস্বতী-কেও বেছে নিয়েছেন, এটা গর্বের। আজ আমরা তথ্যচিত্রের যে প্রকরণ বুঝি সেই বিচারে সত্যজিতের বালা ছবিটি হয়তো খানিকটা খাটো কারণ চরিত্র বা বিষয় যিনি অর্থাৎ বালাসরস্বতী, তাঁর বক্তব্য এই ছবিতে সত্যজিৎ রায়ের ব্যারিটোনি ভয়েস-ওভারের থেকে যথেষ্ট কম। কিন্তু নৃত্যশিল্পীকে বিষয় করে একটা গোটা তথ্যচিত্রের নির্মাণ সত্তরের দশকে দাঁড়িয়ে একটা মাইলস্টোন। এবং সেই পথ ধরে কাহিনিচিত্র না হতে পারুক বহু তথ্যচিত্র নৃত্যশিল্পীদের জীবন ও কর্মকাল নিয়ে তার পরে সরকারি, বেসরকারি নানা উদ্যোগে পরবর্তীকালে তৈরি হয়েছে। সেই ইতিহাস অবশ্যই ওই বালা-র কাছে কৃতজ্ঞ। আর ওই যে দৃশ্যটি- সমুদ্রের ধারে সাধারণ একটা শাড়ি পরে বালাসরস্বতী নাচছেন; সামুদ্রিক বাতাসে তাঁর চুল উড়ছে, পোশাক ফুলে ফুলে উঠছে আর শিল্পী তাঁর নৃত্যে বিরাট সমুদ্রের মতোই ডুবে আছেন- এমন সূক্ষ্ম শৈল্পিক দৃশ্য ভারতীয় যে-কোনও সিনেমাতেই খুব কম আছে।

দাদার কীর্তি (১৯৮০)

তরুণ মজুমদার-এর মতো চিত্রপরিচালক যে-কোনও ভাষার সিনেমাতেই বিরল। ওঁর বেশিরভাগ সৃষ্টিই শৈল্পিক গুণে ভরপুর শুধু নয়, বক্স-অফিসেও সফল। বাঙালি সাংস্কৃতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তরুণ মজুমদারের দাদার কীর্তি। খুব কম সিনেমারই বঙ্গজীবনে এত প্রভাব ছিল। তার চেয়ে বড়ো কথা রবীন্দ্রনাথের গান ও তার ওপর নৃত্য, এ ছবির প্রকৃত সম্পদ। মহুয়া রায়চৌধুরী (এখানে চরিত্রের নাম সরস্বতী)-এর ওই যে ‘বঁধু কোন আলো লাগল চোখে’ গানের ওপর নাচ তা যে কত শত বাঙালিকে উদ্বুদ্ধ করেছিল এক সময় তার ইয়ত্তা নেই। বাংলার প্রতি পাড়ায় কোনও না কোনও মেয়ে বোধ হয় রবীন্দ্রজয়ন্তীতে একবার এই নাচটা করেইছে কোনও ফাংশানে! বাঙালি জীবনের সঙ্গে রবীন্দ্রনৃত্যের যে সম্পৃক্ততা সেটা নিঃসন্দেহে দাদার কীর্তি অনেকখানি বাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল।

পৃথিবীর নানা প্রান্তের মতো ভারতে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে নৃত্যশিল্পীদের জীবন চলচ্চিত্রে আরও অনেক উঠে আসে না। কিছু উল্লেখযোগ্য সিনেমা, দিকপাল সিনেমা অবশ্যই তৈরি হয়েছে কিন্তু প্রয়োজন ছিল আরও অনেক বেশি।

ডিস্কো ডান্সার (১৯৮২)

মিঠুন চক্রবর্তী অভিনীত অনিল চরিত্রের ‘জিমি’ হয়ে ওঠা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক বিরাট দিক বদল। অমিতাভ বচ্চনের ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ চরিত্রগুলির থেকেও অনেকের মতে মিঠুন চক্রবর্তীর জিমি ভারতের তৎকালীন যুবসমাজের ওপর অনেক বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিল। এই যে স্ট্রিট ডান্সার-এর ধারণা, রাস্তার এক নৃত্যশিল্পীর তারকা হয়ে ওঠার এই কাহিনি, আসমুদ্রহিমাচল শুধু নয় পৃথিবীর নানা প্রান্তের বহু যুবককে (বিশেষত রাশিয়া ও আফ্রিকা) নাচে উদ্বুদ্ধ করেছিল। মিঠুন চক্রবর্তীর ঝলমলে পোশাক, গানের তালে তালে অপূর্ব ডিস্কোনাচ এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল। আজকের প্রভু দেবা, ঋত্বিক রোশন কিংবা টাইগার শ্রফ মিঠুন চক্রবর্তীর ডিস্কো ডান্সার-এরই মানসসন্তান। একজন নৃত্যশিল্পীর জীবন নিয়ে, সেই জীবনের বহুবিধ সমস্যা নিয়ে বব্বর সুভাষের ডিস্কো ডান্সার প্রকৃত অর্থেই একটি দিকপাল ভারতীয় ছবি।

উনিশে এপ্রিল (১৯৯৪)

শিল্পী জীবনের নানা ঘাতপ্রতিঘাতের গ্ল্যামারাস কাহিনি যদি বিরাট ক্যানভাসে ‘ডিস্কো ডান্সার’ বলে থাকে তবে কেবলমাত্র ঘর-গেরস্তের ছোটো অলিন্দে, গভীর অভিঘাতপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে বাংলার ঋতুপর্ণ ঘোষ তাঁর বিখ্যাত ছবি উনিশে এপ্রিল-এ সরোজিনী গুপ্ত (অপর্ণা সেন)-এর চরিত্রের মধ্যে দিয়ে অনেক বেশি কিছু বলেছেন। কী সেই বলা? সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ, শিল্পীর সঙ্গে সাধারণ কোনও মানুষের সহাবস্থানের কঠিন দিকগুলোর কথা। সরোজিনী গুপ্ত ভারতখ্যাত নৃত্যশিল্পী। তিনি সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার পাচ্ছেন। অথচ তাতে খুশি হতে পারছে না তাঁর নিজের মেয়ে মিঠু (দেবশ্রী রায়)। কেন? সরোজিনীর সঙ্গে মিঠুর যে বহুযোজন দূরত্ব। মিঠুর মা যদি ইকোনমিস্ট হত তবে বোধহয় তার অসুবিধা হত না। নৃত্যশিল্পী মাকে মিঠুর অপছন্দ। ছোটোবেলা থেকেই সে মাকে দেখেছে মা ‘নেচে বেড়াচ্ছে!’ ছবির শেষে আমরা দেখি সরোজিনী উপলব্ধি করেন মায়ের প্রতি মিঠুর যে অসন্তোষ তা সরোজিনীর মৃত স্বামী মনীশেরই তৈরি করে যাওয়া। সরোজিনীই মিঠুকে বলেন মনীশ যদি খুব সাধারণ একটি মেয়েকে বিয়ে করত তাহলে সুখী হত। একজন সাদামাটা মানুষের আরেকজন মানুষ যিনি মনে-প্রাণে শিল্পী তাঁর সঙ্গে থাকা খুব সহজ নয়। নৃত্যশিল্পীর জীবন নিয়ে এমন মানবিক কাহিনির সিনেমা ভারতবর্ষে তৈরি হয়েছে হাতে-গোনা।

বাণপ্রস্থম (১৯৯৯)

তবে তার মধ্যে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য শাজি এন করুণের সিনেমা বানপ্রস্থম। মোহনলাল একজন কথাকলি নৃত্যশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার জিতে নেন বাণপ্রস্থম-এর জন্য। এবং ভীষণ অন্যরকম একটি গল্পের ছবি এই বাণপ্রস্থম। একজন নৃত্যশিল্পী পুরুষের মঞ্চচরিত্রটি তার প্রেমিকার ভালো লাগছে অথচ তাকেই যখন বেশভূষা ছাড়া দেখছে সাধারণ কেবলমাত্র নিচু জাতের বলে সেই পুরুষকে প্রত্যাখ্যান করছে তার প্রেমিকা। এমনকি স্ত্রী হয়েও সেই মেয়ে বিচ্ছেদ চাইছে। সন্তানকে পিতার কাছ-ছাড়া করছে। মোহনলালের কুন্হিকুট্টন চরিত্রটি অর্জুনের চরিত্রে কথাকলি করতে করতে পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাক্ষুসে চরিত্র বেছে নেয় কেবলমাত্র জীবনযন্ত্রনার জন্য। পুরো ছবিটিই নৃত্যশিল্প ও নৃত্যশিল্পীদের বিশেষত শাস্ত্রীয় কথাকলির নানা চড়াই-উৎরাই নিয়ে। এবং অনন্যসাধারণ একটি ছবি বাণপ্রস্থম।

পৃথিবীর নানা প্রান্তের মতো ভারতে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে নৃত্যশিল্পীদের জীবন চলচ্চিত্রে আরও অনেক উঠে আসে না। কিছু উল্লেখযোগ্য সিনেমা, দিকপাল সিনেমা অবশ্যই তৈরি হয়েছে কিন্তু প্রয়োজন ছিল আরও অনেক বেশি। যে দেশের প্রায় সব ভাষার সিনেমাতেই নৃত্যের এত ব্যবহার আজও আছে, সেখানে নৃত্যশিল্প ও শিল্পীদের বিষয় করে ছবি এত কম কেন তৈরি হয় এটা ভাববার। চলচ্চিত্র উৎসবগুলিতে এমন ছবির অভাব না হয়, এটাই কাম্য।

______
কলকাতাকেন্দ্রিক শাস্ত্রীয় নৃত্যের চাপা-ইতিহাস ও নানা শিল্পীদের বর্ণময় জীবন নিয়ে ভাস্কর মজুমদারের কলামে চলছে বঙ্গদর্শন.কম-এর নতুন ধারাবাহিক – নাচে জন্ম নাচে মৃত্যু।

Written by