
বাঙালিকে নতুন রং-এ রাঙানোর পথ দেখাচ্ছেন কৃষি অধিকর্তা অনুপম পাল
এবার থেকে লিপস্টিকও হয়ে উঠবে পরিবেশ-বান্ধব। শুধু লিপস্টিক নয়, এমন এক জৈব রং-এর খোঁজ পাওয়া গিয়েছে সম্প্রতি, যা দিয়ে জিলিপি, বোঁদে, চকলেট, জ্যাম, জেলির মতো খাবারও দিব্বি রাঙিয়ে দেওয়া যায় কৃত্রিম রাসায়নিক রং-কে বর্জন করেই। আবার সুতি অথবা রেশমের কাপড়ে কিংবা আবির তৈরিতেও স্বচ্ছন্দে ব্যবহার করা যায় এই ম্যাজিক কালার। অর্থাৎ কিনা এক ঢিলে অনেক পাখি।
যে গাছে এমন আজব রং ফলে, তার দেশি নাম লটকান বা সিঁদুরি, বিজ্ঞানসম্মত নাম বিক্সা অরিলেনা। বাঙালির দরবারে এই গাছকে হাজির করেছেন যিনি, তাঁর নাম অনুপম পাল। নদিয়ার ফুলিয়ায় রাজ্য সরকারের কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তিনি সহকারী কৃষি অধিকর্তা। নিজের দপ্তরে এই গাছের পরিচর্যা তো বটেই, বাঁকুড়া, বর্ধমান, নদিয়া সহ বিভিন্ন জেলায় আগ্রহী চাষীদের কাছে ‘লিপস্টিক ট্রি’-র বীজও তিনি বিলি করছেন। অনুপম পাল জানিয়েছেন, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ভারতে আসা এই সিঁদুরি কর্ণাটক, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের মতো গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ভালো বেড়ে ওঠে। ভেনেজুয়েলা এবং আমেরিকায় গাছটি পরিচিত আনাত্তো নামে। এই গাছ দেখতে অনেকটা বড়ো আম বা পেয়ারা গাছের মতো। শীতকালে লিচুর মতো দেখতে ফল হয়। ফলের খোসায় হালকা কাঁটা কাঁটা ভাব থাকে, তবে সেগুলো ধরলে চামড়া কেটে যাওয়ার কোনো ভয় নেই।
এই গাছের বীজকে গরম জল অথবা ইথাইল অ্যালকোহলে মিশিয়ে তৈরি করতে হয় রং, যার বাণিজ্যিক ব্যবহার ইতিমধ্যেই দুনিয়ার অন্যান্য প্রান্তে শুরু হয়ে গেছে। লাতিন আমেরিকার পেরু এই রং সবচেয়ে বেশি উৎপাদন এবং রপ্তানি করে। পশ্চিমবঙ্গের রং শিল্পে সিঁদুরি গাছ অনেক সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করে দেবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাজারে কালারিং এজেন্টের বিপুল চাহিদা মেটাতে এই গাছের বীজ তো কাজে লাগবেই, তার সঙ্গে পরিবেশ সচেতন ক্রেতাদের কাছেও এর আলাদা কদর থাকবে।
ছবি সূত্র – রিচার্ড লিওনস নার্শারি
