
দিনযাপনে বাছাই করা খবর
পাঁচজন সফল বাঙালি কৃতির হাতে পদ্মভূষণ, পদ্মশ্রী
২০২০ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে ঘোষিত হল এবছরের নাগরিক সম্মানের তালিকা। পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ এবং পদ্মশ্রী প্রাপকের তালিকায় এবার পাঁচজন বাঙালির নাম। পদ্মভূষণ সম্মান পাচ্ছেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী। পাতিয়ালা ঘরানার সমসময়ের সবচেয়ে বড়ো সঙ্গীতজ্ঞদের একজন তিনি। অজয় চক্রবর্তী প্রথম ভারতীয় সঙ্গীতজ্ঞ, যাঁকে পাকিস্তান ও চিন সরকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সংগীত শিক্ষার সূত্রপাত বাবার কাছে। এর পরে সংগীত শিক্ষা গ্রহণ করেন কিংবদন্তি সঙ্গীতগুরু জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ, পান্নালাল সামন্ত এবং কানাইদাস বাইগরির কাছে। ২০১১ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়।
পদ্মশ্রী পাচ্ছেন উত্তরপাড়ার সংগীত শিক্ষক মণিলাল নাগ। সব ধরনের যন্ত্র বাজাতে পারতেন তিনি। যেমন বীণা, সুরবাহার, এসরাজ, সেতার, সরোদ, তবলা, তবলা তরঙ্গ, হারমোনিয়াম, জলতরঙ্গ, নাস্তরঙ্গ ইত্যাদি। তাঁর গুণগান শুনে বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয়শঙ্কর উত্তরপাড়া গিয়েছিলেন এবং বাজনা শুনে মোহিত হয়ে অনুরোধ করেছিলেন, “দয়া করে আমার দলে সংগীত রচয়িতা হিসাবে যোগদান করুন।”
বোলপুরে দীর্ঘদিন ধরে ১ টাকার চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে আসছেন সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়। বাড়ি বোলপুরের হরগৌরী তলায়। তাঁর নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে এমবিবিএস, এমএফপিএ, ডিসিপির ডিগ্রি। অথচ রোগী দেখার জন্য স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত এই ডাক্তার ফিজ নেন মাত্র ১ টাকা। তাঁর চিকিৎসায় প্রতিদিন সুস্থ হয়ে উঠছেন অসংখ্য মানুষ। এবছর পদ্মশ্রী পাচ্ছেন এই ১ টাকার ডাক্তার।
বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ – প্রতিকূলতা পেরিয়ে শনি ও রবি সপ্তাহে দুদিনে বিনামূল্যে প্রত্যন্ত সুন্দরবনের চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে পদ্মশ্রী পুরস্কার জিতে নিলেন বাংলার চিকিৎসক অরুণোদয় মণ্ডল। পুরস্কার উৎসর্গ করেছেন স্ত্রীকে।
কলকাতার একটি মাদ্রাসায় জাতীয় সংগীত গাওয়ার ‘অপরাধে’ মৌলবাদীরা লোহার রড দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয় কাজী মাসুম আখতারের। তারপরেও ভয় পাননি তিনি। লড়েছেন বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে, তিন তালাকের বিরুদ্ধে। তাঁর হাতেও এবার পদ্মশ্রী যাচ্ছে।

বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের বন্দিদের হাতে তৈরি হচ্ছে মধুবনী শাড়ি
নিজেদের ভিতরে যে শিল্পীসত্তা আছে, তা আগে কখনও জানা হয়নি। চার দেওয়ালের মধ্যে দীর্ঘদিন বন্দি থাকতে থাকতে এবার খুঁজে পেলেন নতুন এক আলোর পথ। বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের বন্দিদের হাতে তৈরি হচ্ছে মধুবনী প্রিন্টের শাড়ি। তাঁদের হাতে তৈরি এই শাড়িই বাজার মাতাচ্ছে। সম্প্রতি বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার প্রাঙ্গণে বন্দিদের নিয়ে শীতকালীন উৎসব হয়ে গেল। সেখানে এই মধুবনী শাড়ির জন্য আলাদা স্টল ছিল। যেখানে প্রত্যেকটি শাড়িই তৈরি করেছেন বন্দিরা।

পূর্ব কলকাতা জলাভূমিকে বাঁচিয়েই তৈরি হবে উড়ালপুল
চিংড়িঘাটা থেকে নিউ টাউনের সরাসরি যোগাযোগ গড়ে উঠবে পূর্ব কলকাতা জলাভূমির কোনো ক্ষতি না করেই। এরকমই প্রস্তাব তৈরি করেছে কেএমডিএ। কয়েক বছর আগে রাজ্য সরকার ইএম বাইপাস এবং সেক্টর ফাইভের যানজট এড়াতে উড়ালপুল বানানোর পরিকল্পনা করেছিল। পূর্ব কলকাতার প্রায় ১০টি ভেড়িতে ১৪০টি কংক্রিটের পিলার লাগানোর কথা হয়েছিল তখন। পরিবেশকর্মীরা আপত্তি জানায় তাতে। সমস্যাটি আদালত পর্যন্তও গড়ায়। কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যকে নির্দেশ দেয়, বিস্তারিত পরিকল্পনা আদালতে পেশ করে হাইকোর্টের সম্মতির ভিত্তিতে এগোতে হবে। গত বছর কেন্দ্র ও রাজ্যের একটি যৌথ দল সমীক্ষা করে নতুন রুট নির্দিষ্ট করে। এরপরই নতুন প্রস্তাব আনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি, নীতিগত সিদ্ধান্তের পরে বানানো হবে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট। প্রস্তাবিত উড়ালপুলটি লম্বায় হবে সাড়ে সাত কিলোমিটারের কাছাকাছি।
