
দিনযাপনে বাছাই করা খবর
বাংলা টেলিভিশনে এই প্রথমবার ‘বৃহন্নলা মা’-এর জীবন
‘মা’ নামের মধ্যে কি আদতে কোনো লিঙ্গ আছে? নাকি ‘মা’ নারী/পুরুষের ঊর্দ্ধে গিয়ে একজন স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘মানুষ’ হয়ে উঠতে চান? সমাজের একরৈখিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসা খুবই কঠিন। কমল চক্রবর্তী তাঁর ‘ব্রহ্মভার্গব পুরাণ’ উপন্যাসে বলেছেন, ‘হিজড়ে’ দেখলেই কি গা ঘিনঘিন করে মানুষের? তাহলে হিজড়ে মানুষ নন? আলাদা প্রাণীবিশেষ? সম্প্রতি বাংলা টেলিভিশন সেই স্পর্ধা দেখিয়েছে। বৃহন্নলাদের জীবন ফুল ফ্রন্টে নিয়ে এসে তাঁদের করে তুলছে ‘হিরো’। এতদিনকার স্টিরিওটাইপ ধ্যানধারণা থেকে অবশেষে বেরোতে পারল তবে বাংলা টেলিভিশন! একজন বৃহন্নলা মা কুড়িয়ে পাওয়া মেয়েকে মানুষ করতে চেয়েছিল। তারপর আদরে, আহ্লাদে সেই শিশু মেয়ের নাম রেখেছিল ‘ফিরকি’। একজন বৃহন্নলা মায়ের গল্প টেলিপর্দার আসরে আগে দেখেননি দর্শক। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক ‘ফিরকি’। অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেনমেন্ট প্রযোজিত, বিধান পাল পরিচালিত ধারাবাহিকটি দেখা যাচ্ছে রাত ৯টার স্লটে।

অবশেষে বাণিজ্যিকভাবে পরিষেবার সূচনা হতে চলেছে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর
ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর প্রথম পর্যায়ে ট্রেন চলাচল শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত হল। মেট্রো রেল সূত্রের খবর, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি নয়া লাইনে সেক্টর ফাইভ থেকে সল্টলেক স্টেডিয়াম পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে পরিষেবার সূচনা হতে চলেছে। রেলবোর্ড থেকে সোমবার দুপুরে মেট্রো রেলকে ওই দিনে পরিষেবা সূচনার জন্য বলা হয়েছে। রেলবোর্ডের থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই সূচনা অনুষ্ঠানের আয়োজনের তোড়জোড় শুরু করেছে মেট্রো। ২০১১ সালে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর কাজ শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ের সমস্ত পরিকাঠামো তৈরির কাজ মিটিয়ে নিয়মিত ট্রায়াল রান চালানো হয়েছে। প্রথম পর্বে ৪.৮৮ কিলোমিটারের মধ্যে ট্রেন চলাচল করবে। এই পর্বে মোট ছ’টি স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। সেগুলি হল- সেক্টর ফাইভ, করুণাময়ী, সেন্ট্রাল পার্ক, সিটি সেন্টার, বেঙ্গল কেমিক্যাল এবং স্টেডিয়াম। এই মেট্রো পথের জন্য ইতিমধ্যেই ১১টি রেক এসে গিয়েছে। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোয় দুর্ঘটনা এড়াতে স্টেশনগুলিতে বসানো হয়েছে প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন গেট। এই ব্যবস্থায় প্ল্যাটফর্মে ট্রেন এলে তবেই এই স্ক্রিন গেট খুলবে।

রেল ইঞ্জিন তৈরিতে রেকর্ড গড়ল চিত্তরঞ্জন
বিশ্বে সবথেকে বড়ো রেল ইঞ্জিন তৈরির কারখানা চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস। পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত এই সংস্থা রেল ইঞ্জিন উৎপাদনে অন্য নজির সৃষ্টি করল। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে মাত্র ২৫০ কর্মদিবসে ৩৫০টি ইঞ্জিল গড়ল এই সংস্থা। যা কিনা ছিল এক বছরের লক্ষ্যমাত্রা। গত আগস্ট থেকে প্রতি মাসে এখানে গড়ে ৪০টি করে ইঞ্জিন তৈরি করা হচ্ছে, প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১০টি। ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে যথাক্রমে ২৯৯ এবং ২৮১টি রেল ইঞ্জিন বানিয়ে রেকর্ড তৈরি করেছিল চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস।

কিংবদন্তি সাহিত্যিক ও শিক্ষক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের আজ ১০২তম জন্মদিন
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের আসল নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। ‘নারায়ণ’ তাঁর ছদ্মনাম। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফলের জন্য তিনি ব্রহ্মময়ী স্বর্ণপদক লাভ করেছিলেন। তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন ১৯৬০ সালে। অল্প বয়সেই সাহিত্যচর্চা শুরু করেছিলেন নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়। তিন খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘উপনিবেশ’ পাঠকদের মুগ্ধ করেছিল। টেনিদা চরিত্রের স্রষ্টা হিসেবে বাঙালিদের মনে চিরকালীন জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হওয়া ‘সুনন্দর জার্নাল’-ও খুব বিখ্যাত। তিনি লিখেছেন ‘অসিধারা’, ‘পদসঞ্চার’, ‘কালা বদর’, ‘টোপ’-এর মতো আরও বহু গল্প-উপন্যাস। প্রবন্ধ সাহিত্যেও তাঁর জুড়ি মেলা ভার। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন একজন ছাত্রদরদী অধ্যাপক। অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী হয়েও তাঁর কোনো অহংকার ছিল না। ছাত্রছাত্রীদের যে কোনো অসুবিধেয় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন অকুণ্ঠভাবে। আজ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ১০২ বছরে পা দিলেন।
