প্রকৃতিতে ছাড়া হচ্ছে দুটি হিমালয়ান গ্রিফন শকুন
দক্ষিণবঙ্গ থেকে হারিয়ে গেছে শকুন। উত্তরবঙ্গের আকাশেও শকুনের দেখা মেলে খুব কম। দেশের একমাত্র শকুন সংরক্ষক সংস্থা বম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির সমীক্ষা বলছে গোটা রাজ্যে শকুনের মোট সংখ্যা একশোরও কম। বিলুপ্তির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এই পাখিকে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও তাই শুরু হয়েছিল পুরোদমে। ২০০৬ সালে উত্তরবঙ্গের রাজাভাতখাওয়ায় তৈরি হয়েছিল দেশের দ্বিতীয় শকুন প্রজনন কেন্দ্র। উদ্দেশ্য, কৃত্রিম উপায়ে শকুনের প্রজনন ঘটিয়ে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া। এতদিনের চেষ্টায় বেশ কিছু শকুনের কৃত্রিম প্রজনন ঘটানো সম্ভব হয়েছে রাজাভাতখাওয়ার শকুন প্রজনন কেন্দ্রে। ঠিক হয়েছে, এবারে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হবে তাদের।
এই মুহূর্তে রাজাভাতখাওয়ার শকুন প্রজনন কেন্দ্রে হিমালয়ান গ্রিফন, লং বিল্ড, হোয়াইট ব্যাক্ড, স্লেন্ডার বিল্ড প্রজাতির প্রায় একশোটি শকুন রয়েছে। এদের মধ্যে, দুটি হিমালয়ান গ্রিফনকেই আপাতত ছাড়া হবে মুক্ত পরিবেশে। অন্যান্য প্রজাতির তুলনায় এই প্রজাতির তুলনায় হিমালয়ান গ্রিফনের কষ্টসহিষ্ণুতা এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বেশি বলেই এহেন সিদ্ধান্ত। ছাড়ার আগে দুটি শকুনের পায়েই পরানো হবে কৃত্রিম উপগ্রহ কলার। যাতে তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা যায়। তবে, শকুনদুটিকে এখনই সরাসরি প্রকৃতিতে না ছেড়ে রাখা হবে মুক্ত পাখিরালয়ে। সেখানে অন্যান্য পাখিরাও আসবে। প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়া ছাড়াও খাবার সংগ্রহের প্রবণতাও তৈরি হবে শকুনদের। এরপর, ধাপে ধাপে তাদের এবং অন্যান্য শকুনদের ছেড়ে দেওয়া হবে প্রকৃতিতে।
তবে, শকুনদের সম্পূর্ণরূপে প্রকৃতিতে ছাড়ার আগে প্রতিবেশি দেশ নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ সম্পর্কেও খানিক খোঁজখবর নিতে চায় বনদপ্তর। কারণ, শকুনরা ঘুরে বেড়ায় প্রায় একশো কিলোমিটার ব্যসার্ধ জুড়ে। ওই সব দেশে ডাইক্লোফেনাকের ব্যবহার নিষিদ্ধ কিনা নিশ্চিত হয়েই তবে শকুনদের সম্পূর্ণ মুক্ত করা হবে। ডাইক্লোফেনাক শকুনদের অবলুপ্তির প্রধান কারণ। শকুন বিলুপ্ত হলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হত। সেখানে, নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার মুখ থেকেও যেভাবে শকুনদের ফিরিয়ে এনেছে রাজাভাতখাওয়ার শকুন প্রজনন কেন্দ্র, তাতে নতুন করে আশাবাদী হওয়াই যায়।