ভোটের মরশুমে চৈত্র সর্বনেশে মাস নয় ডোমপাড়ার কাট-আউট কর্মীদের কাছে

রাজনৈতিক দলের অর্ডারি ব্যস্ততার মধ্যেও বাড়তি রোজগারের আনন্দ

ডোমপাড়ায় এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। ডাঁই করে রাখা সারি সারি প্লাইউড। চলছে কাগজ কাটা, আঠা লাগানোর কাজ। রাস্তা ধরে হাঁটলেই নাকে আসবে আঠা, প্লাই আর কাঁচা রঙের একটা মিশ্র গন্ধ। পুজোর সময় বাদ দিলে যে গন্ধটার তীব্রতা থাকে একমাত্র ভোটের মরসুমেই। এবছরও ভোট এসে গেছে। অর্ডার ঢুকতে শুরু করেছে একে-একে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে তাই কাজে মেতেছেন উত্তর কলকাতার রমশ দত্ত স্ট্রিট, অদ্বৈত মল্লিক লেন এবং যোগেন দত্ত লেনের বাসিন্দারা।

এমনিতে পুজো বাদ দিলে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ ও সৌন্দার্যয়নের কাজে সারা বছর কম-বেশি ব্যস্ততা থাকেই ডোমপাড়ায়। কিন্তু, ভোট এলেই সেই ব্যস্ততা মাথাচাড়া দেয় কয়েক গুণ। কাজের চাপে দম ফেলার ফুরসত-ই মেলে না এইসময়। তবু, ভোট এলেই মেজাজ বদলে যায় গোটা তল্লাটের। ব্যস্ততা মানেই উপরি রোজগার। এমনিতে চৈত্রমাসে কাজ কম থাকে, সেখানে ভোটের ঢাকে কাঠি পড়লে রোজগার উলটে বেড়ে যায় কয়েক গুণ। আনন্দ স্বাভাবিক।

প্লাইউড কেটে ডিজাইন বানানো, রং করা আর লেটারিং—এই তিনধরণের কাজের কর্মী আছেন ডোমপাড়ায়। প্লাইউডকে দলের প্রতীক অনুযায়ী কাটা হয়, তৈরি হয় কাট আউট। রং, লেটারিং-এর কাজও চলে সমানতালে। অর্ডার ঢুকতে শুরু করলেই রাত-দিন এক করা খাটনি শুরু হয়। এই ভোটের মরসুমি অর্থনীতিতে উপকৃত হন ঠিকাদার, কাটিং মিস্ত্রি, রং, লেটারিং মিস্ত্রি, ম্যাটাডোর মালিক-সহ অনেকে। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ শিকেয় তুলে তখন অর্ডার অনুযায়ী দলের প্রতীক, কাট আউট তৈরিতে মজে থাকেন ডোমপাড়ার বাসিন্দারা। এঁরা অনেকেই কলকাতার আদি বাসিন্দা নন। কাজের খোঁজেই বর্ধমান, মেদিনীপুর বা অন্যত্র থেকে আসা কলকাতায়। ভোট এলে তাঁরাও উত্তেজিত হন, কিন্তু অন্য কারণে। রোজগার বাড়ে যে।

ভোটের মরশুমে চৈত্র তাঁদের কাছে সর্বনেশে মাস নয়। 

Developed by DXDasia