‘প্রিন্স অব ক্যালকাটা’র অপেক্ষায় বালুরঘাট

সৌরভ নিজে তত্ত্বাবধান করেছেন সমস্ত কাজের

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের আট ফুট উচ্চতার মূর্তি তৈরির কাজ প্রায় শেষ। বাকি শুধু পুটিং, প্রাইমার আর রং। শীঘ্রই সেই মূর্তি শিলিগুড়ি সুভাষপল্লী থেকে চলে যাবে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটে। বালুরঘাট স্টেডিয়ামে সেই মূর্তি বসবে। আর, নিজের মূর্তির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বালুরঘাটে আসছেন স্বয়ং সৌরভও।

শিলিগুড়ি সুভাষপল্লীর তরুণ শিল্পী সুশান্ত পাল কয়েক বছর আগে কলকাতা আর্ট কলেজ থেকে পাশ করেন। তারপর থেকেই ভাস্কর্য তৈরির সাধনা শুরু তাঁর। দার্জিলিং জেলায় সিপিএম পার্টির নেতা প্রয়াত রতনলালের ব্রাহ্মণের মূর্তি তিনি করেন, তা বসেছে শিলিগুড়ি দার্জিলিং মোড়ে। তাছাড়া হায়দারপাড়াতে কালু পালের একটি মূর্তিও কয়েকদিন আগে তৈরি করে দিয়েছেন। ক্রিকেট তারকা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মূর্তি তৈরির বরাত আসে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা স্পোর্টস সংস্থা থেকে। মাস ছয়েক ধরে চলে এই মূর্তি তৈরির কাজ। বারবার মূর্তির একটি অংশ তৈরি করে ছবি তুলে সৌরভের কাছে পাঠাতে হয়। সৌরভ অনুমোদন করেছেন, তারপর কাজ এগিয়েছে। ২০০৩ সালে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন সৌরভ। সেই ছবিই মূর্তিতে ফুটে উঠেছে। শিল্পী বলেন, মূর্তিতে প্যাড তৈরিতে খামতি ছিল। ছবি দেখার পর সৌরভই তা ধরিয়ে দেন। বলেন, এখন প্যাড অনেক আধুনিক হয়েছে। তখন কাপড়ের প্যাড ছিল। এভাবে মূর্তির বিভিন্ন অংশের ছবি দেখে সৌরভ সংশোধন দিয়েছেন। প্রথমে মাটির মূর্তি, তারপর গ্লাস ফাইবারের কাজ। তৈরি করতে খরচ হয়েছে দেড় লক্ষ টাকার বেশি। সুশান্তর দাবি, ভারতে কোনও জীবিত ক্রিকেট তারকার এইরকম ফাইবার মূর্তি এই প্রথম বসছে। ফলে তা নিখুঁতভাবে মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে কাজ করেছেন এই শিল্পী। দু-চারদিনের মধ্যেই তিনি বালুরঘাটের উদ্দেশে রওনা দেবেন মূর্তি বসাতে। বালুরঘাটের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি হয়েছে এই মূর্তি ঘিরে। মূর্তিতে বিসিসিআইয়ের একটি লোগোও তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। 

Developed by DXDasia