ছোটদের বানান শেখানোর সহজ পথ

ছোটদের জন্য বানান

উচ্চারণের সঙ্গে বানানের তফাৎ, এই সমস্যা সব ভাষাতেই কম বেশি আছে। তা না হলে ইংরেজিতে ‘এনাফ’ বানান কখনও ough দিয়ে শেষ হয়! পুজো তো শেষ! বিজয়া করতে আত্মীয়দের (‘ম’ উচ্চারণ হল না ) বাড়ি যেতে হবে। বেশ কথা। বাড়ির ছোটরা কিন্তু এখন বেশ বিপদে, দিন কয়েক পরে ইস্কুল খুলবে। অনেক কিছু বলতে হবে, অনেক কিছু লিখতে হবে যে! ক্লাসে জিজ্ঞাসা করতেই পারে দুর্গাপুজোতে কয়টি পদ্মফুল লাগে। একশো আটটি পদ্ম লাগে বলা যেতে পারে। কিন্তু লিখতে হলেই তো অসুবিধা। বলছি মুখে ‘পদ্দো’, কিন্তু বানান তো পদ্ম(পদমো)। উচ্চারণে ম-এর দেখা নেই, কিন্তু বানানে তিনি দিব্বি বহাল তবিয়তে দ-এর নীচে ঘাপটি মেরে বসে।

দুর্গাপুজো শেষ হতে না হতেই, পূর্ণিমাতে লক্ষ্মীপুজো, অমাবস্যায় কালীপুজো, ভূগোল ক্লাসে এই সব নিয়ে কিছু কথা হতেই পারে। মানে অমাব্যাসা পূর্ণিমায় জোয়ার-ভাটা নিয়ে। এসব ভাবতেই গায়ে জ্বর আসে(জ্বরে আবার ‘ব’ উচ্চারণ করা হয় না)। লক্ষ্মীপুজোর উচ্চারণেও নেই ‘ম’। অথচ বানান, ল+খ+ষ+ম+ী= লক্ষ্মী।

লিখতে বসে কোথায় ব-ফলা, কোথায় ‘সাইলেন্ট’ বা নীরব ‘ম’, সেসব মনে রাখা কঠিন। বিশ্ব, অশ্ব, ধ্বজা, আত্মীয়, পদ্ম, স্মরণ, আত্মা, স্মৃতি, গ্রীষ্ম, শ্মশান – এইসব শব্দের লুকোনো ‘ব’/ লুকোনো ‘ম’-গুলো মনে না রাখলেই কিন্তু খাতায় টিচারের লাল কালি।

তাহলে উপায় কী? ছোটদের একটা চার্ট তৈরি করে দিতে হবে এই ধরনের একগুচ্ছ শব্দের। যেমন – বিশ্ব, অশ্ব, স্বর, ধ্বনি, ধ্বজা, স্বাধীন, ধ্বংস, দ্বিধা, দ্বিপ, দ্বীপ. দ্বন্দ্ব, প্রতিদ্বন্দ্বী, নিঃশ্বাস, তত্ত্ব, স্বপ্ন, স্বর্গ, জ্বর, জ্বালা, অন্বেষা, ঈশ্বর, সরস্বতী, স্বর্ণ ইত্যাদি শব্দ। একই ধরনের আরেকটি চার্ট করতে হবে অনুচ্চারিত ‘ম’ আছে (আগে দেখানো হয়েছে)এমন শব্দগুলি দিয়ে। দুটি চার্টেরই প্রতিটি শব্দ পড়ে পড়ে ছোটদের উচ্চারণ করে দেখাতে হবে silent বা অনুচ্চারিত ‘ব’ এবং ‘ম’ কোথায় আছে। এই কাজটা বার বার দেখিয়ে দিতে হবে। তাহলেই এই ধরনের বানান ভুল অনেকটাই কমে যাবে।

Developed by DXDasia