ভূমিকম্পের খবর আগেই জানতে পারেন জয়দেব

৩ বছর আাগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ডান হাতের একটি অংশ অসাড় হয়ে যায়। তারপরও এই গবেষণা ছাড়েননি তিনি

গত ১৮ এপ্রিল পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে  এবং ২১ এপ্রিল আলাস্কাতে হওয়া ভূমিকম্পের পূর্বাভাস  তার যন্ত্রে ধরা পড়েছে। এমনটাই দাবি জয়দেব ধরের। সেভাবে রোজগার না থাকলেও সামান্য ইলেকট্রিক মিস্ত্রীর কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে এখন পর্যন্ত ১২ লক্ষ টাকা তিনি খরচ করে ফেলেছেন বিশেষ এই গবেষণার পিছনে। বাড়িতে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বসিয়েছেন তিনি। মাটির ৫৮ ফুট নিচ পযন্ত প্রবেশ করিয়েছেন তামার তার। সেই তারের মধ্যেই আছে দুটি সেন্সর। একটি মিডিয়াম আরেকটি শট ওয়েভ সেন্সর। সেই সেন্সর থেকে সারাদিন তার মূল মেশিনে চলে আসছে অনেক তরঙ্গ। এরপর সেই তরঙ্গের বিশ্লেষণ হচ্ছে অন্যান্য মেশিনে। এভাবে মোট ১৮টি মেশিন রয়েছে তাঁর ঘরে।

মেশিনের থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ  করে নিজে কিছু অঙ্ক করেন জয়দেব ধর।  আর তা দিয়েই তাঁর দাবি, পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে ভূমিকম্প হওয়ার ৬০ ঘন্টা আগে তার পূর্বাভাস তিনি বলে দিতে পারবেন। তিনি তাঁর বাড়িতে দুটি আ্যলার্ম মেশিনও বসিয়েছেন। শিলিগুড়িতে ভূমিকম্প হওয়ার  সময় ৫ সেকেন্ড আগে সেই মেশিন বেজে উঠছে। জয়দেববাবু বলেন, সরকারিভাবে কিছু সহযোগিতা পেলে একেবারে নিঁখুতভাবে ভূমিকম্প ধরার আরও মেশিন বসিয়ে বহু কিছু বলে দেওয়া সম্ভব।

শিলিগুড়ির সুকান্তনগরের বাড়িতে এসব নিয়েই দিন কাটে জয়দেব ধরের। বয়স ৬৫ বছর। তার মধ্যে ৪৭ বছরই কেটেছে ভূমিকম্প সংক্রান্ত গবেষণায়।  কিন্তু কেন তাঁর এই সাধনা?

একসময় তিনি বার্মাতে থাকতেন। বার্মায় বারবার ভূমিকম্পের কবলে পড়েছেন। এই বিষয়ে তাঁর গবেষণা করার ইচ্ছে হয়, ৪৭ বছর আগে। তারপর বার্মা থেকে শিলিগুড়ি এসে কাজ শুরু করা। এ-বিষয়ে তাঁর নেশা এতটাই যে, ৩ বছর আাগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ডান হাতের একটি অংশ অসাড়  হয়ে যায় তাঁর। তারপরও এই কাজ ছাড়েননি।  কিছুদিন আগে ভয়াবহ নেপাল ভূমিকম্প হলে উৎসাহী বহু মানুষ তাঁর বাড়িতে ভিড় করেন ভূমিকম্পের গতিপ্রকৃতি  জানার জন্য। তাছাড়া উৎসাহী কিছু ছাত্রছাত্রী তাঁর বাড়িতে নিয়মিত ভিড়ও করে কৌতূহল মেটাতে। একসময় কেন্দ্রীয় আবহাওয়া মন্ত্রকও ভূমিকম্প ও অন্যান্য আবহাওয়ার তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করেছে জয়দেববাবুর কাছ থেকে। যদিও আসেনি কোনও স্বীকৃতি।

Developed by DXDasia