‘শিল্প বিরোধী’ লোবা স্বাগত জানালো ডিভিসি প্রতিনিধিদের

লোবায় খনির কাজ শুরু করল ডিভিসি

বন্যা নিয়ে রাজ্য সরকারের তোপের মুখে পড়লেও, ডিভিসি-র প্রতিনিধিরা পুষ্পস্তবক সহ দারুণ অভ্যর্থনা পেলেন দুবরাজপুরের লোবার চাষিদের কাছ থেকে।

গত বুধবার দীর্ঘ পাঁচ বছর পর, প্রথম লোবায় কয়লা খনির কাজ করতে এলাকায় আসেন ডিভিসির সার্ভে টিমের প্রতিনিধিরা। এলাকার বাসিন্দাদের আন্তরিকতায় আপ্লুত তাঁরা। এদিনই প্রথম জমির প্রকৃত মালিকানা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়। বুধবার দিনভর ফকিরবেড়া গ্রামে চাষিদের কথা শোনেন ও কাগজপত্র দেখেন প্রতিনিধিরা। লোবায় ডিভিসির অফিস খোলার তোড়জোড়ও শুরু হয়েছে।

বাম আমলে চাষিদের সঙ্গে আলোচনা না করেই লোবায় শিল্প করতে এসে কার্যত ঘাড়ধাক্কা খেয়েছিলেন শিল্পপতি থেকে সরকারি প্রতিনিধিরা। এবার সেখানেই উলটো ঘটনা ঘটল। বাম আমলে লোবায় খোলা মুখ কয়লা খনি করার উদ্যোগ নেয় রাজ্য সরকার। কয়লাখনি ব্লকের বরাত পায় ডিভিসি। কিন্তু পরিকাঠামো গড়ার দায়িত্ব ডিভিসি তুলে দেয় একটি অন্য সংস্থার হাতে। অন্যদিকে চাষিদের সঙ্গে আলোচনা না করেই জমির মালিকানা ও দাম ঠিক করে তৎকালীন প্রশাসন ও শিল্পদ্যোগীরা। আন্দোলন শুরু করেন এলাকার চাষিরা। তারা আটকে রাখে বেশ কিছু মেশিন। তাঁদের দাপটে আর এলাকায় পা দেওয়ার সাহস দেখায়নি শিল্পসংস্থা। ২০১২সালে সেই মেশিন উদ্বার করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রক্তপাত হয় লোবায়। সেই থেকে লোবার কপালে জোটে শিল্প বিরোধী তকমা।

এদিন দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। এলাকার চাষিরা বৃষ্টি উপেক্ষা করেই হাসিমুখে স্বাগত জানায় সার্ভে করতে আসা ডিভিসির প্রতিনিধিদলকে। প্রতিনিধি দলের প্রধান বদিউজ্জামান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমরা জমির দাম নির্ধারণ করতে আসিনি। প্রকৃত জমির মালিককে চিহ্নিত করার জন্যই আমরা সার্ভে করব। কেউ জমি কিনে থাকলেও হয়তো রেকর্ড করা হয়নি তাও দেখা হবে। আমরা চাই প্রকৃত জমির মালিকই যেন ক্ষতিপূরণ পায়।

Developed by DXDasia