ক্যানসার-প্রতিরোধী বিলিতি ‘ড্রাগন ফ্রুট’ এখন চাষ হচ্ছে কালনাতেও

মাত্র দেড় বছরেই বিপুল ফলনের মুখ দেখেছেন চাষিরা

গোলাপি রঙের ফল, ভিতরটা সাদা। খেতে অসামান্য। শুধু দর্শনধারী এবং সুস্বাদুই নয়, ড্রাগন ফ্রুট ক্যানসার-প্রতিরোধীও। সঙ্গে রয়েছে আরো হাজারো খাদ্যগুণ। মধ্য আমেরিকার এই ফলের চাষ ভারতে বিশেষ হয় না। এখন অবশ্য হচ্ছে কালনার মাটিতে। 

মধ্য আমেরিকা, থাইল্যান্ডের বিখ্যাত ফল এই ড্রাগন ফ্রুট। কালনায় বছর দেড়েক আগে পরীক্ষামূলকভাবে এই ফলের চাষ শুরু হয়েছিল রাজ্য সরকারের উদ্যান পালন দফতরের উদ্যোগে। কালনা-২ ব্লকের পনেরো জন কৃষককে বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছিল চারা। তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল চাষের পরিকাঠামোও। মাত্র দেড় বছরেই গাছে গাছে ফল ধরেছে। বাইরেটা গাঢ় গোলাপি, ভিতরটা সাদা। অসামান্য স্বাদ। অপরিচিত এই ফলের জাদুতে মজেছেন কালনার কৃষকরা। লাভের আশা করছেন সকলেই।

ড্রাগন ফ্রুটের জন্মস্থান মধ্য আমেরিকা। থাইল্যান্ডে বিপুল পরিমাণে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয় এই ফলের। দেখতে যেমন বাহারি, খেতেও তেমনই সুস্বাদু এই ফল। সঙ্গে ক্যানসার-প্রতিরোধী ক্ষমতা রয়েছে এর। রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। ত্বক ভালো রাখা সহ অন্যান্য নানাবিধ উপকারী গুণ রয়েছে ড্রাগন ফ্রুটে। ভারতে কোথাও সেভাবে চাষ হয় না এই ফল। আমদানি-নির্ভর হওয়ায় বাজারে দাম বেশ চড়া। তিনশো-সাড়ে তিনশো টাকা কেজি। এদিকে চাহিদাও প্রচুর।

কালনায় সফলভাবে এই ফলের চাষ সম্পন্ন হওয়াতে এবারে রাজ্য থেকেই ড্রাগন ফ্রুটের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে মনে করছে উদ্যান পালন দফতর। ক্যাকটাস জাতীয় গাছ, চাষে ঝামেলা নেই। খরচও নাগালের মধ্যে। ফলন প্রচুর। অজানা রোগে মড়ক লাগার সম্ভাবনাও কম। সব মিলিয়ে ড্রাগন ফ্রুট নিয়ে খুবই আশাবাদী চাষিরা। আর, আমরা অপেক্ষায় এই ফল সহজলভ্য হওয়ার জন্য।

Developed by DXDasia