
কুকুরের পাশে মশা
মশা কোন কাজে লাগে? তাহলে পৃথিবীতে মশা এল কেন? প্রচীন উপকথায় বলা হয়েছে, জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ত। ফলে মাছ ধরা হত না। রুটি রুজিতে টান পড়তো। কিন্তু কী করা! নদী খাল বিলের ধারে রাতের ঠান্ডা হাওয়ায় ঘুম না এসে পারে? তখন জেলেরা দল বেধে ভগবানের কাছে গিয়ে বলল, এমন একটা কিছু দাও ভগবান যাতে রাতে ঘুম না আসে। ভগবান সামান্য মাটি আঙুলে নিয়ে একটু ডলে মশা বানালেন। তার পর জেলেদের বললেন, এটা নিয়ে যা। সেই থেকে নাকি মশা এল পৃথিবীতে। এলো তো! সঙ্গে নিয়ে এল ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু হাবি জাবি নানা বাজে জিনিস। মশার উৎপাতে যখন টেকে দায়, তখনই খবর এল, মশা নাকি চোর ধরবে। কুকুররা এসব পারে আমরা জানি। তাই বলে কুকুরের পাশে মশা? কিন্তু বিশ্বাস না করে উপায় নেই। জাপানের বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরা বহু বছরের গবেষণার পর এমনই দাবি করেছেন। তাঁদের সেই প্রবন্ধ জাপানের গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশিতও হয়েছে।
গবেষণায় জানা গেছে মশা কারও রক্ত পান করলে সেই ব্যক্তির ডিএনএ মশার পেটে দুদিন ধরে থেকে যায়। ফলে কোনও অপরাধী অপরাধ করে যদি কোনও চিহ্নও না রেখে যায়, তাও সে ধরা পড়তে পারে যদি ওই সময় তাকে কোনও মশা কামড়ায়। শুধু তাতেই অবশ্য হবে না। পুলিশ এসে ঘরের সেই মশাকে পেতে হবে। কী করে পাবে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেখানকার মশা মোটামুটি সেখানেই বা ধারে কাছেই তারা থাকে। মশা ধরবে কী করে? হয়তো এবার পুলিশে প্রচুর মসকিউটো ক্যাচারের চাকরি হবে। যাই হোক, সন্দেহভাজন অপরাধীর রক্তের ডিএনএ-র সঙ্গে যদি মশার পেটের রক্তের ডিএনএ-র সঙ্গে মিলে যায়, অপরাধ প্রমাণীত। আদালতেও নাকি এই প্রমাণ গ্রাহ্য হবে। বলা যায় না, এর পর হয়তো নিরাপত্তার জন্য কুকুরের বদলে লোকে বাড়িতে মশা পুষবে। আদর করে ডাকবে আয়রে আমার পুনপুনি। অমনি পোষা মশা এসে বসবে নাকের ডগায় বা কানের উপর।
