নিঝুম দ্বীপ – হেমন্তের নৈঃশব্দ্য আর বিস্তৃত জলরাশি

এরশাদুল হক রকির চট্টগ্রামের ডক্যুমেন্টারি ফটোগ্রাফি

নিঝুম দ্বীপ। বাংলাদেশের হাতিয়া উপজেলার (চট্টগ্রাম) একখান ছোট্ট দ্বীপ। মেঘনা নদীর মোহনার বুকে জেগে ওঠা এক চর। নিঝুমের আগে বেশ কয়েকটি নাম ছিল। ইছামতীর দ্বীপ, বাইল্লার চর, চর ওসমান। কালের বিবর্তনে তার নাম আজ নিঝুম। এই কাব্যিক নামের দ্বীপে বাস করে চরাচর ব্যাপী নৈঃশব্দ্য। চিত্রা হরিণের পাল, নানা প্রজাতির পাখি, বৃত্তাকারে ১২ কিলোমিটার জুড়ে থাকা বিশাল সৈকতের উচ্ছ্বল জলরাশি দেখে মুগ্ধ হতে হয়। শুনশান। বিস্তৃত জলরাশি। শেষ বিকেলে শিশুদের দল মেতে ওঠে রঙিন আনন্দে।

আজকের ছবিমহল জুড়ে এমনই এক নিঝুম দেশের ছবি। একঝটকায় মনে হওয়া স্বাভাবিক, পৃথিবী থেকে আলাদা হয়ে গেছে এই দ্বীপ।

এরশাদুল হক রকি। ফটোগ্রাফির ছাত্র। তাঁর এই ফটোগ্রাফি চর্চা শুরু হয়েছিল ২০১৬ সাল থেকে। তিনি মনে করেন, নিজের চিন্তাধারা, দেখার পরিপ্রেক্ষিত এবং মতামত প্রকাশের জন্য ফটোগ্রাফি একটি দুর্দান্ত মাধ্যম। কাজের স্বাধীনতা খুঁজে পেয়েছেন বলেই হয়তো ফটোগ্রাফি এরশাদুলকে টানে।

এরশাদুল বলেন, "দর্শকদের আমি যা দেখাতে চাই, তা হল একান্ত নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কিছু মুহূর্ত। পৃথিবীর বুকে কিছু ঘটনা একবারই দেখা সম্ভব,  তারই কিছু অংশ আমি ধারণ করে ছড়িয়ে দিতে চাইছি মানুষের মধ্যে।"

আরও জানান, "আমাদের বসবাস চারপাশে হাজার রকম মানুষ এবং হাজার রকম ঘটনা নিয়ে। বরাবর মানুষের সান্নিধ্য আমার পছন্দ। সবার নিজস্ব গল্প থাকে, লড়াই থাকে। আমি সেই মানুষদের ছবি ক্যামেরাবন্দি করি আর তাঁদের পারিপার্শ্বিকতা, সমস্যা কিংবা তাদের গল্প বলার চেষ্টা করি।"

যে কোনো শিল্পমাধ্যমই আসলে মানুষ নিয়ে তৈরি। কাজের উদ্দেশ্যও মানুষ। এপার বাংলা স্বাগত জানাচ্ছে ওপার বাংলার ছোট্ট এক দ্বীপ নিঝুমকে। মানুষের শব্দ অত্যন্ত ধীর লয়ে শোনার জন্য ডানা ঝাপটানোর হাওয়া জানান দিচ্ছে এ-ও এক নভেম্বর। এ-ও এক আশা ছড়ানোর দিন। যে দ্বীপে জলের রেখায় লুকিয়ে আছে ফেলে আসা শৈশবের ছিপছিপে হাসি।

চিত্রগ্রাহকঃ এরশাদুল হক রকি

Developed by DXDasia