ডাক্তার সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের আত্মহননের দিন আজ

ভারতের প্রথম টেস্ট টিউব বেবির জন্মদাতা

না, মোটেও খুব গৌরবের দিন নয়। বরং, আজ বাংলার চিকিৎসাক্ষেত্রের একটি কালো দিন। ১৯৮১ সালে আজকের দিনেই সহপাঠীদের ঈর্ষার আগুনে পুড়তে পুড়তে, অপমানে, অবসাদে কুণ্ঠিত হয়ে একটি মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন। ডাক্তার সুভাষ মুখোপাধ্যায়। ভারতের প্রথম টেস্ট টিউব বেবির জন্মদাতা।

১৯৭৮ সালে ভারতের প্রথম টেস্ট টিউব বেবি কানুপ্রিয়া আগরওয়াল ওরফে দুর্গার জন্ম হল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে। তার মাত্র ৬৭ দিন আগে লন্ডনে জন্ম নিয়েছে বিশ্বের প্রথম টেস্ট টিউব বেবি লুইজি ব্রাউন। সেখানে তার পিছনে ছিল বিপুল সরঞ্জাম, প্রচুর অর্থব্যয়ে হওয়া গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি, পরিকাঠামো। আর এই রাজ্যে সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে লড়তে হচ্ছিল পরিকাঠামোর সঙ্গে, অর্থের সঙ্গে, সহপাঠীদের ঔদাসীন্য এবং ঈর্ষার সঙ্গেও। তারপরেও জন্ম নিল দুর্গা। তাঁর পদ্ধতিও ছিল লন্ডনের টেস্ট টিউব বেবির জন্মদাতা ফিজিয়লজিস্ট রবার্ট এডওয়ার্ডস এবং গাইনকলজিস্ট প্যাট্রিক স্টেপটো-র থেকে অনেক সাহসী। তিনি বেলা আগরওয়ালের (দুর্গার মা) শরীরে যৌন হরমোন প্রয়োগ করলেন। তারপর, একাধিক ডিম্বাণু সংগ্রহ করে তৈরি করলেন ভ্রূণকোষ আর সেগুলোকে স্থাপন করলেন গর্ভে। এর আগে, পাঁচটি ভ্রূণ তরল নাইট্রোজেনে ৫৩ দিন হিমায়িত রেখেছিলেন সুভাষ ও তাঁর সহকারীরা। কিন্তু, এই পদ্ধতি উদ্ভাবনের স্বীকৃতিও তাঁর জোটেনি। সেই কৃতিত্ব আরো বেশ কয়েক বছর পেলেন মার্কিনি গবেষক হাওয়ার্ড জোন্স।

স্বীকৃতি? সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের এই সাফল্যকে উলটে নস্যাৎ করে দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গঠন করা তদন্ত কমিটি। তারা রায় দিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের দাবির কোনো সত্যতা নেই। এই রায়ের আড়ালে রাজ্যের নানা প্রভাবশালী চিকিৎসকদের ভূমিকার কথা আর নাই বা বলা হল। নিজের শহরেই কোণঠাসা হতে শুরু করলেন ডাঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়। তারই ফলাফল, ১৯ জুন ৫০ বছর বয়সে তাঁর আত্মহত্যা।

আত্মহননের দেড় মাস আগে এসেছিল বদলির চিঠি। মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিভাগে বদলি। চোখে হরমোন গ্রন্থিই নেই আর ডাক্তার সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কাজ হরমোন গ্রন্থি নিয়েই। সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হত তাঁর। উপহার লিফটহীন চারতলা বিল্ডিঙে বদলি।

ভারতের দ্বিতীয় টেস্ট টিউব বেবি হর্ষ-র জন্মদাতা টি সি আনন্দ কুমার নিজেই যদি পরে সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি না দিতেন, তাহলে তাঁর অবদান ভুলেই যেত ভারতের চিকিৎসামহল। রমাপদ চৌধুরীর উপন্যাস কিংবা তপন সিনহার একটা সিনেমা হয়তো কাঁটার মতো বিঁধত। তাতে খুব বেশি কিছু যেত-আসত না আমাদের। এখনো কি খুব যায়, জানি না। 

Developed by DXDasia