
২০ বছর আগে ফিলিপের নির্দেশেই রানিকে খুন
গল্পটা খুবই মুখোরোচক। আর তা ঠিক না ভুল, তা যাচাই করারও কোনও সুযোগও নেই। আর বড় বাড়ির প্রেম, খুন, পরকীয়ার গল্প তো মানুষ বিশ্বাস করতেই ভালোবাসে। তাই ব্রিটিশ এজেন্টের যে দাবি, তিনিই প্রিন্স ফিলিপের নির্দেশে ১৯৯৭ সালের ৩১ অগস্ট যুবরানি ডায়নাকে চক্রান্ত করে খুন করেছিলেল, যা দেখে গোটা দুনিয়ার মনে হয়েছিল, দুর্ঘটনা, তা বিশ্বাস করছেন অনেকেই।
ব্রিটিশ চর জন হপকিন্স হয়তো বাঁচবেন মেরে কেটে আর ৭-৮ দিন। বয়স হয়েছে ৯০। মৃত্যুশয্যায় শুয়ে শুয়ে তিনি এই দুনিয়া কাঁপানো স্বীকারোক্তি করেছেন। যুবরানি ডায়নার মৃত্যু হয়েছিল পাপারাৎজিদের হাত থেকে বাঁচতে প্রবল গতিতে চলা মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িটি আন্ডারপাসের মধ্যে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়ায়। যুবরানির সঙ্গী ছিলেন মিশরের ধনকুবের মহম্মদ আল ফায়েদের পুত্র ডোডি। ডোডির সঙ্গে রানির সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা তখন তুঙ্গে। সেই ছবিটাই পেতে চাইছিলেন ফোটোগ্রাফাররা। ঘটনাস্থলেই মারা যান ডোডি এবং গাড়ির চালক হেনরি পল। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় ডায়নারও।
ব্রিটিশ ইনটেলিজেন্স শাখা এমআই-৫ এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জন হপকিন্স। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের প্রশিক্ষণ ছিল তাঁর। সেই জ্ঞানই তিনি কাজে লাগিয়েছিলেন এই ‘সাজানো দুর্ঘটনায়’। স্বীকারোক্তিতে তিনি দাবি করেছেন, ১৯৭৩-১৯৯৯, এই সময়ে তিনি ২৩ জনকে হত্যা করেছেন। নিহতরা ছিলেন মূলত রাজনীতিক, সাংবাদিক, আন্দোলকারী। বিষ বা রাসায়নিক প্রয়োগ করে তিনি এই সব হত্যাকাণ্ড চালিয়ে গেছেন কর্তব্য পালনের নামে। তবে তাঁর হাতে নিহতের এই দীর্ঘ তালিকায় ডায়নাই একমাত্র মহিলা।
হপকিন্স জানিয়েছেন, খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল রাজপ্রাসাদ বাকিংহাম প্যালেসে। তাঁর কথায় ডায়নাকে খুনের নির্দেশ এসেছিল তাঁর স্বামী প্রিন্স ফিলিপের কাছ থেকে। ‘আমার বস আমাকে এই দায়িত্ব দেন। নির্দেশ ছিল খুনের ঘটনা যেন দুর্ঘটনা বলে মনে হয়।সে ভাবেই কাজ করেছিলাম আমরা।‘তাঁর সহকর্মীদের কেউই আজ বেঁচে নেই। হপকিন্সের ‘বস’-ও প্রয়াত হয়েছেন। ফলে এই নিয়ে নতুন করে তদন্তের কোনও সুযোগ নেই বললেই চলে। জন হপকিন্স আরও বলেছেন, ‘ডাক্তারি পরীক্ষা করালে অবশ্যই ফিলিপের মানসিক সমস্যা ধরা পড়বে’।
