মমতার দিল্লি চলো ডাকে বামেরা জাতীয় স্তরে আরও গুরুত্বহীন হয়ে পড়তে পারে

মমতার দিল্লি চলো ডাকে বামেরা জাতীয় স্তরে আরও গুরুত্বহীন হয়ে পড়তে পারে

২১ জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দিল্লি চলো’ ডাক। আর এই ডাক দিয়েই বামেদের তৃতীয় ফ্রন্টের ধারণাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে, জাতীয় স্তরে নতুন বিকল্প গঠনের ইঙ্গিত দিলেন মমতা। তিনি ২১ জুলাই মঞ্চ থেকে যা বললেন তা থেকে স্পষ্ট, তিনি চান, আগামী লোকসভা ভোটের আগে আঞ্চলিক দলের জোট তৈরি হোক। তৃণমূল কংগ্রেস যে জাতীয় স্তরে সক্রিয় হচ্ছে তার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল আন্তঃরাজ্য বৈঠকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেও। ওই দিন তিনি কিন্তু শুধু তাঁর নিজের রাজ্যের সমস্যার কথা বলেননি, বলেছিলেন তামলিনাড়ু, কেরল, পাঞ্জাবের ঋণের ফাঁদের কথাও। আবার, যখন তৃণমূল সাংসদের দল গুজরাটে গিয়ে নিপীড়িত দলিতদের পাশে দাঁড়ান, সেটাও জাতীয় স্তরে সক্রিয়তারই পরিচয়।

২১ জুলাই মঞ্চ থেকে মমতা যা বললেন, তা থেকে পরিষ্কার তিনি বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ তো কখনওই যাবেন না। বিহারে বিজেপির ভরাডুবি ঘটিয়েছে যে মহাজোট, তাতে কংগ্রেসও সামিল হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বিকল্প জোটের কথা বললেন, তাতে কংগ্রেস থাকবে কী থাকবে না তা সময়ই বলবে। কিন্তু সেই জোটে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণেই, বামেরা যোগ দিতে পারবে না। এবং এর ফলে জাতীয় স্তরে বামেদের আরও বেশি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

গত লোকসভায় মাত্র ৩১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বিজেপি। এনডিএ-র জোট ক্ষমতায় থাকলেও নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তায় যে টান ধরেছে, অসম দখল করলেও, দিল্লি, বিহারের নির্বাচনের ফলে তা পরষ্কিার। এখন পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশের ভোটের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই।

এই পরিস্থিতিতে বিকল্প আঞ্চলিক জোট গঠনের ডাক দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস অন্য আঞ্চলিক দল গুলির থেকে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকল।

Developed by DXDasia