
হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান সবাই মিলে এক সঙ্গে পুজো করে আসছেন
জলপাইগুড়ির শিকারপুর চা বাগানের শ্রমিকরা ঐতিহাসিক দেবীচৌধুরানী ও ভবানী পাঠকের মন্দিরের পুজো টিকিয়ে রেখেছেন আজও। রাজগঞ্জ ব্লকের অধীন সেই দেবী চৌধুরানী মন্দির কবে শুরু হয়েছিল তা কেউ বলতে পারছেন না, তবে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান সবাই মিলে এক সঙ্গে পুজো করে আসছেন। একইভাবে জলপাইগুড়ির তিস্তা নদীর পারে মন্থনি হাটে দেবী চৌধুরানী স্মরণে দেবী মন্থনির পুজো হয়
বঙ্কিম চন্দ্রের আনন্দমঠের কথায় উল্লেখ আছে দেবী চৌধুরানীর। বাংলার ইতিহাসবিদ বা কবি-সাহিত্যিক মহলে একটি উল্লেখ করার মতই নাম দেবী চৌধুরানী বা ভবানী পাঠক। শিকারপুর চা বাগানে রয়েছে দেবী চৌধুরানী মন্দির। কবে সেই মন্দির তৈরি হয় তা সঠিকভাবে কেউ বলতে পারছেন না। তবে বর্তমান শিকারপুর চা বাগানে একসময় গভীর জঙ্গল ছিল। তা বৈকুন্ঠপুর ডিভিশনের মধ্যে পড়ে।কথিত আছে, সেই গভীর জঙ্গলের মধ্যেই একসময় দেবী চৌধুরানী ও ভবানী পাঠক ডেরা তৈরি করেছিলেন। সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সময় বহু সন্ন্যাসী সেখানে তাদের ঠিকানা তৈরি করেছিলেন। সেখান থেকে সন্ন্যাসীরা একসময় ইংরেজদের বিরুদ্ধে লাগাতার বিদ্রোহ করেছিলেন। তবে দুর্গাপূজা সেখানে কবে শুরু হয়েছিল তা কেও বলতে পারছেন না। তবে এখন যারা পুজো করছেন, তারা বলছেন, এবারে তাদের পুজো ৯২ বছরে পা দিচ্ছে। শিকারপুর চা বাগানের ভাণ্ডারপুর, নাগপুর ও শিকারপুর ডিভিশনের প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক সেখানে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজোর কাজে অংশ নেয়। তারাই সেই মন্দির দেখভাল করে। দশমীর দিন তারা প্রতিমা বিসর্জন দেন না। চা শ্রমিকরা নিজেরাই চাদা দিয়ে সেই পুজো করে ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। দশেরা উৎসবের পরই তারা প্রতিমা বিসর্জন দেন। সেই উৎসবে আদিবাসীরা নাচ গানে অংশ নেন। অন্যদিকে জলপাইগুড়ির রংধামালির তিস্তা পার এলাকায় মন্থনির পুজো প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইতিহাসবিদদের কারও কারও ভাষায়, জলপাইগুড়ির একসময় বৈকুন্ঠপুরের রাজা ছিলেন রাজা দর্পদেব রায়কত। আর সেখানে ছিলেন জমিদার প্রয়াত শিবচন্দ্রের স্ত্রী জয়দুর্গা দেবী চৌধুরানী। জলপাইগুড়ি শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে মন্থনি হাট। আর সেখানেই মন্থনি মাতার মন্দির। ইতিহাস গবেষক উমেশ শর্মার কথায়, ইংরেজদের হাত থেকে গ্রামবাসীদের রক্ষা করতেন দেবী। খাদ্য, বস্ত্র আর সাহস দিয়ে গ্রামবাসীদের রক্ষা করায় তিনি হয়ে ওঠেন মা। সেই মা কে দেবীর আসনে বসিয়ে পুজো করে চলেছেন মন্থনি এলাকার বাসিন্দারা।
