
বজ্রপাতে মৃত্যু ঠেকাবে নতুন পরিষেবা
ঝড়বৃষ্টি হলেই ঘন ঘন বজ্রপাত এখন রোজকার ঘটনা। বজ্রপাতে মৃত্যুও তাই লাফ দিয়ে বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে। শুধু এই রাজ্যেই নয়, গোটা দেশেই বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়ের চাইতেও বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে বজ্রপাত। গত বছর দেশজুড়ে বজ্রাঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল দু’হাজারেরও বেশি। ঝড়-বৃষ্টির সময় পথচারীদের সতর্ক করার জন্য তাই আসতে চলেছে মোবাইল অ্যাপ। বজ্রপাতের আগাম হদিশ দেবে সে।
পুনের ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল মেটিরিওলজি তৈরি করেছে এই অ্যাপ। নাম ‘দামিনী’। গুগল প্লে স্টোর থেকে যে কোনো স্মার্টফোনে ডাউনলোড করা যাবে। তবে, ‘দামিনী’ এখনই সব জায়গায় কাজ করবে না। যেসব জায়গায় লাইটনিং লোকেশন নেটওয়র্ক-এর বিশেষ সেন্সর বসানো রয়েছে, সেইসব অঞ্চলেই বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিতে পারবে এই অ্যাপ। আপাতত, এই রাজ্যের কলকাতা, রামপুরহাট ও দার্জিলিং-এ বসানো হয়েছে মোট তিনটি সেন্সর। দ্বিতীয় দফায় আরো কয়েকটি জায়গায় সেন্সর বসবে। যেসব এলাকায় বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি, সেন্সর বসানোর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে সেইসব অঞ্চলই।
যে যে এলাকায় সেন্সর বসানো হয়েছে, তার ২০ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে ৫-১৫ মিনিট আগে বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম ‘দামিনী’ অ্যাপ। ঠিক কোন বাড়িতে বা জায়গায় বাজ পড়বে, সেটা সুনিশ্চিত করে বলা না গেলেও বজ্রপাত সম্পর্কে এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে এই অ্যাপ যে বড়ো ভূমিকা নেবে বলাই বাহুল্য। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরে বসানো সেন্সরটির সাহায্যে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বজ্রপাতের পূর্বাভাস দেওয়া যাবে। এই অঞ্চলের বাসিন্দারা তাই স্বচ্ছন্দে ব্যবহার করতে পারেন এই অ্যাপ। একইভাবে দার্জিলিং ও রামপুরহাটের সেন্সরটিও সক্রিয় থাকবে ৪০কিমি ব্যাসের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে।
গ্রীষ্ম আসছে। ফলে, শুরু হতে চলেছে কালবৈশাখীর মরসুম। ঝড়-বৃষ্টির সময়ে এই অ্যাপ কতখানি কার্যকরী হয়, এখন সেটাই দেখার।
