
বকখালি থেকে উদ্ধার ৬০০ কেজি বর্জ্য
সমুদ্র সৈকত থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য উদ্ধার করতে হবে। পাশাপাশি রাস্তার দু’পাশে বুনে দিতে হবে গাছের বীজ, চারা। সচেতন করতে হবে স্থানীয় মানুষ, গ্রামবাসী, ছাত্রছাত্রীদেরও। সবুজ নিয়ে সচেতনতা। এই লক্ষ্য নিয়েই সাইকেলে রওনা দিয়েছিলেন তিরিশ জন সাইকেল অভিযাত্রীর একটি দল। তাতে রয়েছেন বিশিষ্ট পর্বতারোহী রুদ্রপ্রসাদ হালদার, সাইকেলে প্রথম ভারতীয় হিসেবে কিলিমাঞ্জারোর চুড়োয় পা রাখা উজ্জ্বল পাল, সাইকেলে ট্রান্স হিমালয় পাড়ি দেওয়া চন্দন বিশ্বাসের মতো মানুষরা। ১৩ জুলাই শনিবার, শুরু হয়েছিল অরণ্য সপ্তাহ। অরণ্য সপ্তাহের প্রথম ভোরেই তাঁরা সোনারপুর থেকে পৌঁছে গেছিলেন নামখানা। সেখান থেকে সাইকেলে ২৬ কিমি পাড়ি দিয়ে বকখালি। এই অভিযানের নাম তাঁরা দিয়েছিলেন—‘আমাদের বিপ্লব, অনেকটা সবুজ, খানিকটা সাইকেল’। সম্প্রতি কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানে গিয়ে মৃত পর্বতারোহী বিপ্লব বৈদ্যর স্মৃতিতেই এমন নাম।

সাইকেল অভিযানের পথে রাস্তার দু’ধারে তাঁরা ছড়িয়ে দিয়েছেন কয়েক হাজার সিড বল, যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন বুনে দিয়েছেন বীজ। অভিযানের প্রথম দিনেই রাজনগর হাই স্কুলে পৌঁছে সেখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের অ্যাডভেঞ্চার, প্রকৃতিকে বাঁচানোর পাঠ দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে মিলে যোগ দিয়েছেন সিড বল ছোঁড়াছুঁড়ি প্রতিযোগিতায়। যাদের ছোঁড়া সিড বল যত বেশি দূর যাবে, সে-ই জয়ী। খেলার ছিলেই রাস্তার অনেকটা দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সিড বল। এই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উজ্জ্বল পাল। তিনি নিজে সাইকেল নিয়ে অভিযানে গেলে সেই অভিযানের নাম হয়—‘গ্রিন অন হুইল’। সারাজীবনে অন্তত একটি গাছ লাগান এবং তাঁকে বড়ো করে তুলুন—এই তাঁর স্লোগান। সেই বার্তাই তিনি ছড়য়ে দিতে চেয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসী, কচি-কাঁচাদের মধ্যেও। চারাগুলো যেন বেঁচে থাকে, বড়ো হয়। উজ্জ্বল বলছিলেন, গাছকে বড়ো করে তোলার সময়েই তো আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে প্রকৃতি আর মানুষের মধ্যে। এই সম্পর্কটারই বড়ো প্রয়োজন আজ।

বন দপ্তরের অফিস থেকে মিলেছে রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, তেঁতুল, বাঁদরলাঠি গাছের চারা ও বীজ। অভিযানের খবর পেয়ে তাঁদের কাছে সারা বছর ধরে জমানো আম-জাম-কাঁঠালের বীজ তুলে দিয়েছেন গৃহবধূও। এমন কত ম্যাজিকের জন্মই যে হয়েছে এই অভিযানে। বকখালি পৌঁছে তাঁরা উদ্ধার করেছেন প্রায় ৬০০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য। আরো অনেক বর্জ্য এখনো পড়ে, ক্লান্তির কারণে আর সেইসব উদ্ধার করতে পারেননি উজ্জ্বলরা। স্থানীয় প্রশাসনকে তাঁর অনুরোধ জানিয়েছেন সচেতন হওয়ার জন্য, সমুদ্র-সৈকত প্লাস্টিকমুক্ত রাখার জন্য।

আজ ফেরা। ফেরার পথে এখনো বীজ ছড়াচ্ছেন ‘সোনারপুর আরোহী’ দলের সাইকেল অভিযাত্রীরা। স্কুলে স্কুলে সাময়িক আস্তানা গেঁড়ে ছাত্রছাত্রীদের চোখে বুনে দিচ্ছেন সবুজের স্বপ্ন। গ্রামবাসীদের বুঝিয়ে বলছেন। এইভাবেই হবে। পৃথিবীটা এখনো মরে যায়নি। এখনো বাঁচানো যায় তাকে।

