শেষ হল মতুয়া আন্দোলনের একটি অধ্যায়

আজ বড়মার শেষকৃত্য

আজ বিকেল চারটের পর মতুয়া মহাসংঘের ‘বড়মা’ বীণাপাণি দেবী শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তার আগে বড়মার মরদেহ নিয়ে গোটা ঠাকুরনগর পরিক্রমা করবে একটি মৌনমিছিল। সেই মিছিল ঠাকুরবাড়িতে এসে পৌঁছলে গান সেল্যুটের মাধ্যমে তাঁকে শেষ বিদায় জানানোর পর শুরু হবে দাহকার্য।

মঙ্গলবার রাত ৮টা ৫২ মিনিটে এসএসকেএম হাসপাতালে বীণাপাণি দেবীর জীবনাবসান হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। বুধবার সকাল আটটা নাগাদ ‘বড়মা’-র দেহ আনা হয়েছিল ঠাকুরনগরে। তাঁর প্রয়াণের খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাত থেকেই কাতারে কাতারে মানুষ ঠাকুরবাড়িতে জমায়েত হতে শুরু করেন। ভিনরাজ্য থেকেও এসেছেন প্রচুর মানুষ।

১৯১৯ সালে অবিভক্ত বাংলাদেশের বরিশালের জব্দকাঠি গ্রামে জন্ম বীণাপাণি দেবীর। খুব অল্প বয়সেই তাঁর বিয়ে হয় প্রমথরঞ্জন ঠাকুরের সঙ্গে। দেশভাগের পর ইছামতী পেরিয়ে স্বামীর সঙ্গে অশোকনগরের ঠাকুরনগরে চলে আসেন। বীণাপাণি দেবী যখন অশোকনগরে এলেন, তার আগেই ওপার বাংলায় পথ চলা শুরু করে মতুয়া সম্প্রদায়। ফরিদপুরের কৃষক পরিবারের সন্তান হরিচাঁদ ঠাকুর প্রবর্তন করেছিলেন বৈষ্ণব ধর্মের নতুন এই শাখা। হরিচাঁদের ছেলে গুরুচাঁদ তৈরি করেন মতুয়া সংগঠন। আর সেই সংগঠনকেই বিস্তার করেছিলেন বীণাপাণি দেবী ও তাঁর স্বামী প্রমথরঞ্জন। স্বামীর মৃত্যুর পর মতুয়া সম্প্রদায়ের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন বীণাপাণি দেবী। তাঁর মৃত্যুতে একটা যুগের অবসান হল বলেই মনে করছেন বহু মানুষ।  

ছবি সূত্র – ইন্টারনেট 

Developed by DXDasia