সিপিএমের বোসবাবুর পর বিজেপির ঘোষবাবু

দু’জনেরই স্বপ্ন মুখ্যমন্ত্রীরর চুলের ঝুঁটি ধরে এখানে ওখানে নিয়ে যাওয়ার

সিপিএমের বোসবাবুর পর বিজেপির ঘোষবাবু। দু’জনেরই স্বপ্ন মুখ্যমন্ত্রীরর চুলের ঝুঁটি ধরে এখানে ওখানে নিয়ে যাওয়ার। তবে তাঁর এই গোপন বাসনা জানাজানি হওয়ার পর, একদা রেকর্ড ভোটে জেতা অনিল বসু রাজনীতি থেকেই হাওয়া হয়ে গিয়েছেন এক বছরের মধ্যে। দিলীপ ঘোষ মশাই সতর্ক হোন, নাহলে মানুষ আপনাকেও অনিল বসুর পাশের চেয়ারে বসিয়ে দিতে পারে। ২০১১-র ভোটের আগে অনিল বসু বলেছেলেন, বামফ্রন্ট সরকারের উচিত ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চুলের মুঠি ধরে সিঙ্গুর থেকে সরিয়ে দেওয়া। আর দিলীপবাবু বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে লাফালাফি করছিলেন, ইচ্ছে করলেই বিজেপি ওঁকে চুলের ঝুঁটি ধরে সরিয়ে দিতে পারত।

বিধানসভায় ক্ষমা চাইলেন দিলীপ ঘোষ। দেরিতে হলেও বিজেপি নেতার এই ভূমিকা স্বাগত। দলের রাজ্য সভাপতি এবং বিধায়ক অধ্যক্ষের অনুরোধে মঙ্গলবার বিধানসভায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর কথায় আহত হয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। এদিকে টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম মৌলানা নুরুর রহমান বরকতি, তৃণমূল সাংসদ ইদ্রিশ আলি এবং রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী গিয়াসুদ্দিন মোল্লাকে পাশে নিয়ে সোমবার বলেছিলেন, দিলীপ ঘোষকে পাথর মেরে বাংলা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ফতোয়া দিচ্ছি। এই কথায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তৃণমূল শীর্ষ নেতা মুকুল রায় জানিয়ে দেন, এটা তাঁদের দলের বক্তব্য নয়। বঙ্গদর্শন মনে করে, এই কথা যাঁরা বলেছেন, সুস্থ রানীতির স্বার্থে তাঁদেরও ক্ষমা চাওয়া উচিত।

সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্ব অনিলের ওই মন্তব্য অনুমোদন করেনি। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি।  আমরা দেখলাম, অনিল দ্রুত রাজনৈতিক সন্ন্যাসের দোর গোড়ায় পৌঁছে গেলেন। দিলীপবাবু, এই রাজ্যে তো আপনার দলের আপনিই নেতা। আপনিই রাজ্য নেতৃত্ব। ফলে ধরেই নেওয়া যায়, এটা রাজ্য নেতৃত্বেরই ভাষা। ফলে আপনার এবং আমাদের, উভয়েরই ভয়টা একটু বেশিই। আমাদের ভয় এই কারণে যে, সিপিএম-সহ অনিল বিদায় নিলেও, দেখা যাচ্ছে আপনারা আছেন নর্দমার কাদা মাখা মুখের জোগান দিতে! ভয় আপনারও, কারণ, সুপণ্ডিত প্রকৃত নেতা শ্যামাপ্রসাদ এই রাজ্যের মানুষ হয়েও বাংলায় ধর্মের রাজনীতির চাষ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তার মধ্যেো এটা ঠিক, গত উপনির্বাচনে আপনাদের কিঞ্চিৎ ভোটবৃদ্ধি হয়েছিল। কিন্তু, তার পরই অতি উৎসাহী দলের মোগাম্বোবাবু আম বাঙালির সামনে যে যে উৎকট মুখ হাজির করলেন, আসন সংখ্যা আরও দু’চারটে বাড়লে তো দেখছি এই হাফ প্যান্ট সংস্কৃতির দুর্গন্ধে টেকা দায় হবে! আপনি এমন একটা দল করেন, যে দলের অতীত সংগঠনের কোনও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস নেই। আপনাদের এক এক শীর্ষনেতা আন্দামানে গিয়ে ইংরেজদের সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুচলেকা লিখে মুক্তি পেয়েছিলেন, সেই মুচলেকার চিঠি ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছে www.thewire.in  ওয়েবসাইটে। হ্যাঁ, মনে রাখতে হবে, তারাই সারা দেশে মিষ্টি বিলি করেছিল মহাত্মা গান্ধীর হত্যার খবর পেয়ে। এটা জানা গিয়েছে, জওহরলালকে লেখা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বল্লভ ভাই প্যাটেলের চিঠি থেকে। সেই চিঠিও এখন প্রকাশিত।

এটা ঠিকই, দিলীপবাবুর এই সব কথার জবাবে রাজ্যমন্ত্রিসভার দুই মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক মারব ধরব বলে যে সব কথা বলেছেন, তাও সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু দিলীপের ‘বানী’র পাশে ও তো গঙ্গার পানি। তবে ফিলটার্ড নয়। খেতে হলে ফুটিয়ে নিতে হবে।

 

Developed by DXDasia