
দেখলে তো নিয়মিত মিথ্যা কথা বললে এক দিন না এক দিন সুফল পাওয়া যায়
এক পাহাড়ে বেশ কিছু বাঘ থাকত। তারা দিনের বেলায় শিকারে বেরোতো, রাতে গুহায় ঘুমোতো। ওই পাহাড়ের নীচে ছিল এক গ্রাম। সেই গ্রামে সব চাষীর গোয়ালেই ছিল বড় বড় গোরু। বাঘেরা মনে মনে ভাবত যদি ওই গোরুগুলি খাওয়া যেত! কিন্তু গোরুরা ছিল খুবই সতর্ক। তারা কিছুতেই পাহাড়ে বাঘেদের পাড়ার কাছে ঘেষত না। তবু বাঘেরা ছিল খুবই আশাবাদী। রোজই ভাবত, আজ হয়তো পথ ভুলে দু’একটা গোরু এদিকে চলে আসবে। গোরু এলে যাতে সব বাঘ ঠিক সময় খবর পায়, তাই একটা বাঘকে ১০০ দিনের কাজের মজুরি দিয়ে প্রতিদিন গোরু পাহারায় রেখে দেওয়া হয়। বাঘটা একটা বড় পাথরের উপর বসে বহু দূরে গ্রামের মাঠে গোরু চড়ানো দেখত। এই ভাবে দেখতে দেখতে বাঘটা এক দিন কী মনে করে গোরু গোরু বলে চিৎকার করে উঠল। সেই ডাক শুনে সব বাঘ পড়ি কী মরি করে ছুটে এল হাঁপাতে হাঁপাতে। এসে দেখল কোথাও কিছু নেই। গোরু তো দূরের কথা। হতাশ হয়ে বাঘেরা সব ফিরে গেল। এরপর ওই পাহারাদার বাঘ মাঝে মাঝেই গোরু গোরু বলে চিৎকার করে উঠত, আর বাঘের দল ছুটে ছুটে আসত। এসে দেখত কিছু নেই। এমন হতে হতে সব বাঘেরা ধরেই নিল, এটা মিথ্যাবাদী বাঘ। ওর কথায় কান দেওয়ারও দরকার নেই। এমনি চলতে চলতে এক দিন সত্যিই গোরুর পাল পাহাড়ে বাঘেদের পাড়ায় চলে এল ঘাস খেতে। পাহারাদার বাঘ তা দেখে প্রাণপণে চিৎকার করতে থাকল গোরু গোরু বলে। কিন্তু কোনও বাঘই তো ওই মিথ্যেবাদী বাঘকে বিশ্বাস করে না। ফলে কেউই এল না। তখন ওই পাহারাদার বাঘ সব গোরুকে মেরে অনেক দিন ধরে বসে বসে খেল। এর পর থেকে বাঘটা অন্য বাঘেদের ডেকে ডেকে বলত, ‘দেখলে তো নিয়মিত মিথ্যা কথা বললে এক দিন না এক দিন সুফল পাওয়া যায়’।
