
পেশায় গাড়িচালক সাজু তালুকদারের অভিনব এই উদ্যোগ
বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য বস্ত্র ব্যাঙ্ক। উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চলের বন্ধ চা বাগান থেকে শুরু করে অন্য বাগানের শ্রমিকদের জন্য অভিনব বস্ত্র ব্যাঙ্ক খুলেছেন এক গাড়ি চালক। আর তাঁর সেই প্রয়াস ঘিরে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। তিনি ডুয়ার্সের বীরপাড়া ডিমডিমা হাটখোলার বাসিন্দা সাজু তালুকদার।
ডুয়ার্স থেকে শিলিগুড়ি, শিলিগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি পর্যন্ত সাজু গাড়ি চালান। তার ফাঁকেই শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে পুরানো জামাকাপড় সংগ্রহ করেন সাজু। ছয়-সাত বছর ধরে নিঃশব্দে তাঁর এই কাজ চলছে। পুরানো জামাকাপড় সংগ্রহ করে সাজু চলে যান বন্ধ চা বাগানে। তারপর লাইন দিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে সেই সব জামাকাপড় বিলি করেন। বন্ধ বাগান ছাড়া অন্য চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যেও তিনি বিলি করেন এই কাপড় জামা। বছরে এভাবে তিনি ৫০ হাজার জামাকাপড় বিলি করেন তিনি। নিজেই তৈরি করে নিয়েছেন বিরসা মুন্ডা বস্ত্র ব্যাঙ্ক। কোনও দুঃস্থ ব্যক্তি তার কাছে গিয়ে আবেদন করলে তিনি তাকে জামাকাপড় দিয়ে দেন। আবার বছর খানেক ধরে বাড়ির মধ্যে আশ্রয়হীনদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। এই সময় তাঁর আশ্রয়ে চারজন দুঃস্থ মানুষ রয়েছেন। বন্ধ চা বাগানের এক বৃদ্ধও তাঁর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের থাকা ও খাওয়ার সব ব্যবস্থা করছেন সাজু। সাজু বলেন, আমরা ডাল ভাত খেলে ওরাও ডাল ভাত খায় আমাদের সঙ্গে। ৪৫ বছরের সাজুর পরিবারে তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, দুই ছেলেমেয়ে রয়েছেন, তাঁদের সংসার চালাতে খরচ আছে। সাজু সামান্য গাড়ি চালক। কিন্তু তারপরও এই সব সামাজিক কাজ কেন, প্রশ্ন করলে সাজু বলেন, ছোটবেলায় তিনি টাকার অভাবে পড়তে পারেননি। স্কুলের পোশাক না বানাতে পারায় স্কুলে একসময় প্রবেশ করতে পারেননি। পড়াশুনাকে বিদায় জানাতে হয়। তারপর বড় হয়ে তাঁর মাথায় ঘুরতে থাকে বস্ত্রহীনদের জন্য কীভাবে পাশে দাঁড়াবেন। আর সেই ভাবনা বাস্তবায়িত করতে তিনি মাঠে নেমে পড়েন। এবারে পুজোর সময় তিনি ৩৫ হাজার বস্ত্র বিলি করেছেন। এখন শীত এসেছে। তাই তিনি শীত বস্ত্র সংগ্রহের জন্য এখন প্রচারে নেমেছেন।
