গ্রীষ্মদগ্ধ রাজ্যবাসী চাইছে আরো গাছ, পাখিদের তৃষ্ণার জল

ফেসবুক উত্তাল বৃক্ষরোপণের দাবিতে

দাবদাহে পুড়ছে গোটা রাজ্য। ইতিমধ্যেই তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলা। কলকাতাও পুড়ছে। তাপমাত্রা ছুঁয়ে ফেলছে ৪০ ডিগ্রি। আর, গরমে নাকাল রাজ্যবাসী আকুল হয়ে প্রার্থনা করছে বৃষ্টির। গরমের এহেন দাপটের মধ্যে খানিকটা হলেও পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়া নিয়ে শোরগোল উঠেছে রাজ্যে। প্রচুর গাছ কাটা, সবুজ ধ্বংস যে এহেন মারাত্মক গরমের জন্য দায়ী, তা স্বীকার করে নিচ্ছেন প্রায় সবাই। ফেসবুক প্লাবিত হয়েছে গাছ লাগানোর প্রচারে। হোয়াটস্যাপে ঘুরছে, ‘যদি পরেরবার এমন গরমের হাত থেকে বাঁচতে চান, তাহলে এই বর্ষায় অন্তত পাঁচটা গাছ লাগান’-এর প্রচার। এরই পাশাপাশি, কয়েকটা অন্যরকম প্রচারও চোখ টানছে।

বর্ধমানের কয়েকজন মিলে বানিয়েছে ফেসবুকের জন্য একটা পোস্টার সেট। সেখানে একটা গাছের আঁকা ছবি। তার ওপরে লেখা ‘আমাকে কেটে ফেলুন’। নিচে কারণগুলো বদলে বদলে যাচ্ছে। সেখানে কারণ হিসেবে উঠে আসছে ‘বৃষ্টি নাহলেও চলবে’, ‘আপনার অক্সিজেন চাই না’, ‘ফুল, ফল আপনারা কারখানায় বানিয়ে নেবেন’, ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন মিথ্যে কথা’-র মতো নানা অদ্ভুত যুক্তি। কিন্তু এরই ভিতর দিয়ে ঘুরিয়ে গাছ না কাটার প্রয়োজনীয় বার্তাই দিচ্ছে এই অভিনব পোস্টার সেট। বুঝিয়ে দিচ্ছে, গাছ কতখানি অমূল্য সম্পদ আমাদের জীবনে। সহজ সরল ভাষার পোস্টার, তাই ফেসবুকে এটি সাড়াও ফেলেছে যথেষ্টই।

কয়েকবছর আগে উলুবেড়িয়ার একটি উদ্যোগও বেশ সাড়া ফেলেছিল— ‘পাখি নয়, গাছ পুষুন’। গাছ থাকলেই পাখি আসবে, সঙ্গে মিলবে ছায়াও। এবারে, নানাধরণের প্রচারের ভিতরেও গাছ লাগানোর কথা ঘুরে-ফিরে আসছে বারবার। সঙ্গে নানা পোস্টে অনুরোধ করা হচ্ছে তৃষ্ণার্ত পাখিদের জন্য জানলার কোণে বা ছাদের কার্নিশে জল রাখার কথা। ওদেরও তেষ্টা পায়।
গরমে পুড়তে পুড়তেই এভাবে পরিবেশের দিকে ফের একবার মুখ ফেরাচ্ছে রাজ্যবাসী। 
 

Developed by DXDasia