
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, নিম্নচাপটি এই মুহূর্তে অবস্থান করছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের উপর
টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা। বন্দর এলাকার ভূকৈলাশ রোড থেকে শুরু করে মধ্য কলকাতার মহাত্মা গাঁধী রোড, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের কোনও কোনও অংশ রীতিমতো নদীর চেহারা নিয়েছে। দমদম, পাতিপুকুর, শিয়ালদহ, বেহালা— উত্তর থেকে দক্ষিণ, সর্বত্রই জলে জলাকার। পাম্প চালিয়ে জল সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। মেয়র পারিষদ (নিকাশি) তারক সিংহ জানান, রবিবার দিনভর শহরের ৭৩টি পাম্পিং স্টেশন থেকে ৪৫০টিরও বেশি পাম্প চালানো হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, নিম্নচাপটি এই মুহূর্তে অবস্থান করছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের উপর। নিম্নচাপটি খুব দ্রুত শক্তি হারিয়ে ফেলবে না। কারণ, পশ্চিম ভারতেও নিন্মচাপ তৈরি হয়েছে। ফলে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের নিম্নচাপটি স্বাভাবিক গতিতে পশ্চিম ভারতে সরে যেতে পারছে না। তাই চলবে বৃষ্টি। বাড়তে পারে রাজ্যে বৃষ্টির দাপট। সোমবার সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা তাই জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। নদী, খাল-বিলগুলির জলস্তরও বেড়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের সূত্রে খবর আগামী ৪৮ ঘণ্টায় টানা ভারী বৃষ্টি হবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়।
দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ দিন সকালে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ৩৩ হাজার ৩০০ কিউসেক জল ছাড়ে ডিভিসি। বৃষ্টি যদি আরও বাড়ে, সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জল ছাড়া হতে পারে বলে ডিভিসি সূত্রে জানানো হয়েছে। বিরামহীন বৃষ্টিতে বর্ধমানে দামোদর, ভাগীরথী এবং অজয় নদে জল বেড়েছে। দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ায় বর্ধমানের নদীগুলির জলস্তর বাড়বে। রাজ্য সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন- বিভিন্ন রাজ্যে অতিবৃষ্টির ফলে জলস্তর বৃদ্ধির জন্য ভিডিও কনফারেন্সে যোগাযোগ করেছেন প্রতিটি জেলা প্রধানের সঙ্গে। নবান্ন তরফে জানানো হয়েছে- প্রতিনিয়ত বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন জায়গায় জল জমেছে। গঙ্গা তথা অন্যান্য নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
