চিনের রাখি বয়কটের ডাক উত্তরবঙ্গে

পরিবর্তে পাটনা থেকে ভারতীয় রাখি আনছেন ব্যবসায়ীরা

সাত আগস্ট রাখিবন্ধন। সেদিন গোটা রাজ্যের সঙ্গে সঙ্গে শিলিগুড়িতেও অনেক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চিনের রাখি বয়কট করার আওয়াজ উঠল শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। শিলিগুড়িতে এই সময় রাখির বাজার জমে উঠলেও রাখি ব্যাবসায়ীরা আর কেউ চিনের রাখি আনছেন না। ভারতের সীমান্তে চিনের গোলমাল পাকানোর চেষ্টার কারণেই চিনের রাখি বয়কট করার দাবি উঠেছে।

রাখিবন্ধন উৎসব প্রতি বছরই হয়। এবারে দার্জিলিং জেলার সমতল ও বাকি উত্তরবঙ্গে তা অন্যভাবে পালিত হবে বলে খবর। কেননা পাহাড়ে একটা অস্থিরতা চলছে। ফলে পাহাড় ও সমতলে বিভেদ না করে ঐক্য বন্ধন করতে অনেকেই রাখিবন্ধন উৎসবের আয়োজন করতে চলেছেন। এর মধ্যেই ভারতের সীমান্তে চিনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠেছে। তাই চিনের পণ্য বয়কটের দাবি উঠেছে। শিলিগুড়ি মহাবীরস্থান ব্যবসায়ীদের তরফে ফয়জল আলম ও সিদ্ধার্থ প্রসাদ জানালেন, গত বছরও প্রচুর চাইনিজ রাখি দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি এসেছে। এর মধ্যে ছোটা ভীম, পকেম্যানও রয়েছে চিনের রাখির মধ্যে। দশ টাকায় কিনে আনা চিনের রাখি তাঁরা পনেরো কুড়ি টাকায় বিক্রি করতেন। এবার তা বন্ধ। চিন ভারতের বাজার দখল করে কম দামের খারাপ জিনিস দিয়ে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ করছে। আর ভারতীয় ক্ষুদ্র কুটির শিল্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই তারা কেউ এবার চিনের রাখি আনছেন না। তার পরিবর্তে পাটনা থেকে ভারতীয় রাখি আনছেন তাঁরা। শিলিগুড়ি বিধাননগর ব্যবসায়ী সমিতির কার্যকারী সভাপতি শিবেশ ভৌমিক জানালেন, তাঁরা চিনের রাখি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাবেন। এর আগের তাঁরা দেওয়ালির আগে চিনের পণ্য পুড়িয়েছিলেন। বাংলা ও বাংলা ভাষা বাঁচাও কমিটির সভাপতি ডাক্তার মুকুন্দ মুজুমদার বলেন, তাঁরা রাখির দিন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করবেন। আর চিনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবেন। ‘আমরা বাঙালি’র তরফে খুশিরঞ্জন মণ্ডল ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, তাঁরা কদিন আগে চিনের কিছু পণ্য পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন শিলিগুড়ি শহরে। পাহাড়ের গোলমালের পিছনে চিনের উস্কানি থাকতে পারে বলে তাঁরা মনে করেন।

Developed by DXDasia