
পরিবেশ বাঁচাতে আজ থেকে শুরু প্রচারযাত্রা
স্কুটিতে করে হাওড়ার গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরছেন দু’জন। জয়িতা কুণ্ডু এবং যূথী পাত্র। উদ্দেশ্য, ভোটের মুখে যে কথাগুলি বলতে ভুলে যায় রাজনৈতিক দলেরা, সেগুলিই জোরের সঙ্গে বলা। আসন্ন ভোটে যেন আঘাত না পড়ে গাছদের গায়ে। গাছের গায়ে পেরেক সেঁটে পোস্টার, হোর্ডিং যেন না টাঙানো হয়। ফ্লেক্স টাঙানোর স্বার্থে যেন অনৈতিকভাবে ডাল না ছাঁটা হয় কোনো গাছের। গাছেদেরও প্রাণ আছে। এই পৃথিবী শুধু মানুষের নয়। মানুষের নেতা নির্বাচনের উৎসবে গাছেদের জীবন যেন বিপন্ন না হয়।
একটি হ্যান্ড মাইকে এমনই সব কথা বলতে বলতে স্কুটিতে চেপে প্রচার শুরু করেছেন জয়িতা এবং যূথী। সঙ্গে রয়েছে প্লাস্টিক, থার্মোকল বর্জনের আহ্বান। আজ থেকেই শুরু হয়েছে প্রচার। উলুবেড়িয়া কোর্ট থেকে যাত্রা শুরু করে আজ তাঁরা পৌঁছবেন শ্যামপুর থানা, বাগনান থানা, রাজাপুর থানা, বাউড়িয়া থানা, পাঁচলা থানা, সাঁকরাইল থানা এলাকায়। এরপর আমতা হয়ে ডোমজুড়েও প্রচার চলবে। বিলি করা হবে দশ হাজার লিফলেট। রাস্তায় থেমে থেমে মানুষদের সচেতন হতে বলবেন জয়িতা এবং যূথী। প্রচারপত্র দেওয়া হবে থানাগুলিতেও।
দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশ-রক্ষা নিয়ে কাজ করছে মাধবপুর পরিবেশ চেতনা সমিতি। গাছের গা থেকে পেরেক তোলার আন্দোলন স্থানীয় অঞ্চলে জারি অনেকদিন ধরেই। জয়িতা কুণ্ডুর নেতৃত্বে বটগাছ সংরক্ষণের কাজও তারা করে চলেছে। চলছে প্লাস্টিক ও থার্মোকল বর্জন নিয়ে প্রচারও। কোনো রাজনৈতিক রং এই সমিতির গায়ে লাগতে দেননি জয়িতা-সহ অন্যান্য সদস্যরা। আজ থেকে শুরু হওয়া প্রচারে মাধবপুর পরিবেশ চেতনা সমিতি-র সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিষদ-এর উলুবেড়িয়া শাখাও। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আরো অনেকেই।
গাছের গায়ে পেরেক না সাঁটানোর পাশাপাশি নির্বাচনের আগে-পরে প্লাস্টিক-থার্মোকলের ব্যবহার বন্ধ করা, শব্দবাজি বর্জন, নির্বাচনের পরপরই রাজনৈতিক দলগুলির ফ্লেক্স, পতাকা সরিয়ে দৃশ্যদূষণ রোধের মতো দাবিও রয়েছে এই প্রচারযাত্রার লিফলেটে।
ছবি: সংগৃহীত
