
ক্যাকটাস ও অর্কিডকে ভিত্তি করে ১৮টি নার্সারি গড়ে উঠেছে কালিম্পং-এ
ক্যাকটাস ও অর্কিডের জন্য বিখ্যাত রাজ্যের কালিম্পং। ষাট থেকে আশির দশকের শুরুতে কালিম্পং-এর ক্যাকটাসের খ্যাতি বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু মাঝে আশির দশক ও পরবর্তীতে আরও রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য কালিম্পং-এর ক্যাকটাসের ব্যবসা ভয়ানক ভাবে পিছিয়ে পড়েছে। আবার ক্যাকটাসকে ভিত্তি করে কালিম্পং-এর পুনরুজ্জীবনের দাবি উঠেছে। সেক্ষেত্রে ক্যাকটাস বিদেশে রফতানিতে কিছু ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও আগের সেই ক্যাকটাস ব্যবসা না থাকলেও পর্যটনের সঙ্গে ক্যাকটাস মিশিয়ে পর্যটকদের কাছে কালিম্পংকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস শুরু হয়েছে।

ভ্রমণ গবেষক ও সিকিম সরকারের পর্যটন উপদেষ্টা রাজ বসু জানাচ্ছেন, ক্যাকটাস ও অর্কিডকে ভিত্তি করে কালিম্পং-এ ১৮টি নার্সারি গড়ে উঠেছে। আর সেই সব নার্সারিকে ভিত্তি করে আবার পর্যটকদের থাকার চারটে বাংলো তৈরি হয়েছে কালিম্পং-এ। এরমধ্যে একটি হল হলম্ব হাউস। সবুজের ক্যাকটাস ও অর্কিডের মধ্যে কয়েকদিন কাটিয়ে পর্যটকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

কালিম্পঙের আবহাওয়া সেখানে ক্যাকটাস, বিভিন্ন অর্কিড ও ফুলের চাষের পক্ষে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেছে। গড় তাপমাত্রা থাকে ১৬ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুব ঠান্ডা নয়, আবার খুব গরমও নয়। ফলে সেই উচ্চতায় ক্যাকটাস চাষের সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেছে। দার্জিলিং-এ কিন্তু সেই আবহাওয়া নেই। ফলে সেখানে ক্যাকটাস চাষের কোনও পরিবেশ তৈরি হয়নি। যদিও বিজনবাড়ি লিজা চা বাগান লাগোয়া এলাকার ব্যবসায়ী রুপেন রাই জানালেন, কালিম্পং-এর মতো ক্যাকটাস চাষ তাঁদের এলাকায় হবে না। এর মধ্যেও তাঁরা কিছু চেষ্টা করছেন। আর অনলাইনে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করছেন।
আরও পড়ুন
হাতি ও বলদে টানা ট্রেন চলত এই বাংলাতেই

কালিম্পং-এর এগারো মাইলের বাসিন্দা ব্রিদ্দা রাই জানালেন, তাঁদের এলাকায় তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ প্রজাতির ক্যাকটাস ও অর্কিড চাষ হয়। আর এই ক্যাকটাসের পরিবেশ কালিম্পং-এ অতিরিক্ত পর্যটক নিয়ে আসে তাতে সন্দেহ নেই। তারা তাই ক্যাকটাস নিয়ে সরকারি আরও সহায়তা ও পরিকল্পনা চাইছেন। ষাটের দশকে কালিম্পং-এর ক্যাকটাস ও অর্কিড সোনার যুগে নিয়ে যায়। কালিম্পং থেকে এক সময় বিভিন্ন ক্যাকটাসের বীজ নিয়ে যাওয়া হয় নিউজিল্যান্ড, থাইল্যান্ড সহ পৃথিবীর কিছু দেশে। ব্রিটিশ আমলেও কালিম্পং-এর ক্যাকটাস চারদিকে ছড়ানোর ভাবনা শুরু হয়। পরবর্তীতে কালিম্পং থেকে নিয়ে যাওয়া ক্যাকটাসের বীজ দিয়ে গবেষণা শুরু হয় এবং হাই ব্রিড অনেক ক্যাকটাস তৈরি হয়। সেই সব হাই ব্রিড ক্যাকটাস এখন কালিম্পং-এর বিভিন্ন নার্সারিতে শোভা বাড়িয়ে তুলেছে। আর এই ক্যাকটাস নিয়ে কাজ করা কালিম্পং-এর উদয়মনি প্রধান বা গনেশমনি প্রধানের নাম জগতবিখ্যাত। একসময় কালিম্পং-এর ক্যাকটাস ও অর্কিড অনেক বিদেশি মুদ্রাও নিয়ে এসেছে। কিন্তু পাহাড়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা এই সম্পদকে অনেক দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে। আশির দশকে অনেক ক্যাকটাস বাগান ও ফুলের বাগান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই পুরনো স্মৃতি ভুলে এখন এই শান্তির পাহাড়ে কালিম্পং তাদের ক্যাকটাস ও অর্কিড দিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে চায় বলে সেখানকার অনেক বাসিন্দা জানান।

কালিম্পং-এর পাইনভিউ নার্সারিতেই আছে ১৫০০ বিরল প্রজাতির ক্যাকটাস। আর গোটা এশিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য ক্যাকটাস সংগ্রহের স্থান হিসাবে তা চিহ্নিত।
ক্যাকটাস সাধারাণত ঘর সাজানোর কাজে ব্যবহার হয়। ড্রইং রুম, রিডিং রুম, বারান্দা, ব্যালকনি, বাড়ির উঠোন বা সিঁড়িতে অনেকে ক্যাকটাস রেখে বাড়ির পরিবেশ সুন্দর করেন। ক্যাকটাসকে বিশেষ কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেকে খাদ্য হিসাবেও ব্যবহার করেন। ক্যাকটাসের আবার ওষধি গুণও আছে। এই ক্যাকটাস চাষও বেশ সহজ। আর এর মাধ্যমে কম খরচে লাভও বেশি। অনেকের কর্মসংস্থানও হচ্ছে এতে। আরও পরিকল্পনা নিলে এর মাধ্যমে বহু বেকারের কর্ম সংস্থান হতে পারে বলে কালিম্পং-এর বাসিন্দা মনি প্রধান, বিজলি প্রধানরা জানালেন।

