বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দশক হল আশি (বিংশ শতকের আটের দশক)। আশির দশকের কবিতা-র অন্যতম বৈশিষ্ট্য যোগাযোগমুখী চিন্তাধারা। আত্মকেন্দ্রিক না হয়ে কবিরা যেন যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের চিন্তাভাবনাকে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায়। উত্তাল সত্তরের দশক কীভাবে দেখেছেন আশির কবিরা? মেয়েদের কবিতা কীভাবে হয়ে উঠেছে প্রতিবাদ? সিনেমা, থিয়েটার, রাজনৈতিক পালাবদল কীভাবে ভাবনার রসদ জুগিয়েছে তাঁদের? বঙ্গদর্শনের নতুন পডকাস্টে আশির দশকের বাংলা কবিতা ও নিজের লেখালেখি নিয়ে বলছেন রবীন্দ্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায় (Poet Sanjukta Bandyopadhyay)।
আশির দশকের প্রখ্যাত কবি সংযুক্তার জন্ম ১৯৫৮ সালে, কলকাতায়। বেড়ে ওঠা ও লেখালিখির শুরু হাওড়া জেলার বেলুড়ে। শিক্ষা স্থানীয় স্কুল, প্রেসিডেন্সি কলেজ ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্কুলের চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত। প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে – অবিদ্যা। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে – আরব্য উপন্যাসের মেয়ে বা মেয়েদের ব্রতকথা, ঠাকুরমার ঝুলির ভূমিকা, কাজলরেখার বাড়ি, আতপ্ত আতপ, ইহজন্ম ইত্যাদি। দে’জ থেকে প্রকাশিত হয়েছে সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা, রাবণ প্রকাশ করেছে সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা সংগ্রহ ১। মূলত লিটল ম্যাগাজিনেই লেখালিখি এই বর্ষীয়ান কবির। পেয়েছেন কৃত্তিবাস পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং রবীন্দ্র পুরস্কার (পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার)।
আশির দশকের মূলত মহিলা কবিদের ধারায় আজও অব্যাহত সোচ্চারে সমস্ত ট্যাবু দূর করে দেওয়া। কবি সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায় নিঃসন্দেহে তাঁদের অগ্রগণ্য। তবে ওঁর কবিতায় বারংবার ভাঙচুর হওয়া মনোলগ, নিঃসঙ্গতার সৌন্দর্য, সর্বোপরি অন্তর্লীন রাজনীতি তাঁকে স্বতন্ত্র করে তুলেছে। নিজের দৈনন্দিন যাপন ও ‘কীভাবে বেঁচে আছি’-র তীব্র সংঘাত সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতার ভুবন। যেখানে আড়াল নেই, তর্ক আছে; আক্রমণ নেই, দাবি আছে। এবং সেগুলি খুবই স্বচ্ছ। কবিতায় এই ট্রান্সপারেন্সি পাঠককে নিজের মুখোমুখি হতে বাধ্য করে। অথবা এ যেন কবির সঙ্গে পাঠকের কথোপকথন। বা কবিমনের সঙ্গে পাঠকমনের সংলাপ৷ তাঁর কবিতায় আলাদা করে প্রমাণ করার কিছু নেই। যা সত্য এবং যার মুখোমুখি দাঁড়ালে নিজেকে ক্রমাগত রক্তাক্ত করা যায় সেইটুকু সংঘাত। মনোবিশ্বের এই অসামান্য জায়গাটি সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতার অন্তর্লীন রাজনীতি। এখানে যুদ্ধ নেই, শান্তি আছে। নিজেকে চিনতে পারার শান্তি৷
বঙ্গদর্শন পডকাস্টে দুটি পর্বে রইল কবিতা বিষয়ক এই আলাপ-আলোচনা।
