
একসময় আদিবাসীরা এর চাষ করতেন। রাজারা চাষবাস বন্ধ করে দেন
যাঁরা ভাত খাওয়ার সময় একটু বেশি প্রোটিন বা আয়রন আছে এমন চাল খুঁজছেন, তাঁদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে রাজ্যের কৃষি দপ্তর। যেসব মহিলা রক্তাল্পতায় ভুগছেন, তাঁরা বাজার থেকে কম খরচে আর কিছুদিন বাদেই পেয়ে যাবেন কালো চাল বা ব্ল্যাক রাইস। শিলিগুড়িতে ফুলিয়া থেকে নিয়ে আসা হল কালো ধানের কিছু বীজ। তার সঙ্গে নিয়ে আসা হয়েছে কেরালা সুন্দরী, অগ্নিবাণ, চমৎকার খাড়া সহ নয় রকম চালের বীজ।
শিলিগুড়ি শালবাড়ি এলাকায় রয়েছে সরকারি চাষবাসের জন্য সিড ফার্ম। জৈব পদ্ধতির চাষবাস বাড়াতেও ওই সিড ব্যাঙ্ক থেকে কৃষি দপ্তর বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে। ফুলিয়াতে রয়েছে রাজ্য সরকারের বীজ ব্যাঙ্ক। সেখানে ৪০০ প্রজাতির ধানের বীজ সংরক্ষণ করে কাজ হচ্ছে। সেখান থেকেই উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি আর ধুপগুড়িতে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু ধানের বীজ নিয়ে আসা হয়েছে। শিলিগুড়িতে কৃষি আধিকারিক পার্থ রায় জানিয়েছেন, দু-তিন কেজি করে তাঁরা ন’রকম ধানের বীজ নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে এক হাজার বছরের পুরনো কালো ধান বা ব্রাউন রাইস রয়েছে। একসময় আদিবাসীরা এর চাষ করতেন। রাজারা চাষবাস বন্ধ করে দেন। সেই ধানের বীজ এখন আবার সরকারিভাবে সংরক্ষণ করে চাষ বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। এই ব্রাউন রাইসের দাম বাজারে ২৫০ টাকা প্রতি কেজি। কিন্তু কৃষি দপ্তরের প্রয়াসে সেই চাল বাজারে এলে তা ১২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যেতে পারে। এক হাজার বছরের পুরনো এই কালো ধান শিলিগুড়িতে চলতি বছরের শেষে কৃষকদের কাছে পাওয়া যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কৃষি আধিকারিক পার্থবাবু জানিয়েছেন, শালবাড়িতে তাদের সিড ফার্মে ৩০ একর জায়গা। দশ একর জমিতে বীজ চাষের কাজ হচ্ছে। তবে ধানের জমির পাশ দিয়ে আলের মধ্যে ডাল চাষ হচ্ছে। সেই ডাল চাষজমির মধ্যে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সরবরাহ করে। বাড়িয়ে তোলে জমির উর্বরতা শক্তি। তারা এখন সেই সব পুরনো ও সুগন্ধি চাল বা ধানের বীজ উৎপাদন বাড়িয়ে তা কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে এর উৎপাদন বাড়ানোর দিকেই নজর দিয়েছেন।
