অহিংস বিপ্লবের স্বপ্ন দেখেছিলেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১২১তম জন্মদিন

সমকাল বা সমকালের রাজনীতি একজন সৎ শিল্পীকে ভাবিয়ে তোলে। শুধু শিল্পী কেন, যেকোনো সাধারণ মানুষই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত হয়ে পড়েন রাজনীতির সঙ্গে। সাহিত্যিকদের জীবনও সেদিক থেকে ব্যতিক্রম নয়। পাশাপাশি একজন সাহিত্যিক যদি নির্দিষ্ট কোনো আদর্শে বিশ্বাসী হন, তাহলে তাঁর শিল্পকর্মে সেই বিশেষ আদর্শটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

ভারতবর্ষের বিশ শতক। চরম চাপান-উতোর এবং টানাপড়েন বোধহয় তার আগে বা পরে দেখেনি ভারতবাসী। চলছে দেশ স্বাধীনের কাজ। বীরভূমবাসী তারাশঙ্কর জীবনের প্রথমদিকে শ্রেণিহীন সমাজ গড়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। যুক্ত হয়েছিলেন বিপ্লববাদের সঙ্গে। কিন্তু পরবর্তীকালে তাঁর মনে হয়েছিল এই আদর্শ আদতে হিংসার বীজ ছড়াচ্ছে। তারপরেই এই পথ থেকে সরে এসে অহিংসার পথে যুক্ত হলেন। বিশ্বাস করলেন, “ভারতবর্ষে বিপ্লব হবে, কিন্তু সে হবে অহিংস বিপ্লব”।

নিশ্চিতভাবে তারাশঙ্কর একজন কালের কথাকার। সেইসময় তাঁর নিজস্ব সময়টাকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে পেরেছিলেন। বীরভূমের রাঢ় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে যে গ্রামীণ মানুষ ও জীবনচর্যার নকশা বুনেছিলেন, তা বাংলা সাহিত্যে এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। বিশ শতকের সমাজব্যবস্থা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে চরমভাবে বিবর্তিত হয়েছে। বিবর্তনের সেই রাস্তাই ধরতে চেয়েছেন তারাশঙ্কর। বারবার চেয়েছিলেন গ্রামের পুনর্গঠন এবং পুরোনো গ্রামীণ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখে অহিংসার মধ্যে দিয়ে গণচেতনা ও গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে। তাঁর উপন্যাসে বলেওছেন সে কথা। তাঁর সেই ছেলেবেলার বন্ধু, নলিনী বাগচী। যাঁর সঙ্গে পরিচয় হবে তারাশঙ্করের। কৈশোর ও যৌবনের সন্ধিক্ষণে জেগে উঠবে বিপ্লবী চেতনা। তারপর একের পর এক উপন্যাস-ছোটোগল্পের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করবেন তৎকালীন রাজনৈতিক অবস্থা। আজ মহান কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১২১তম জন্মদিন। তাঁরই সৃষ্টির মধ্যে আমরা স্মরণ করব তাঁকে।

Developed by DXDasia