
দিনযাপনে বাছাই করা খবর
অফুরান সৃষ্টিশীলতা নিয়ে ৮৮ বছরে পা দিলেন শঙ্খ ঘোষ
আজ কবি, অধ্যাপক, প্রাবন্ধিক, সাহিত্য সমালোচক এবং রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ শঙ্খ ঘোষের ৮৮তম জন্মদিন। তাঁর প্রকৃত নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। অবিভক্ত বাংলার চাঁদপুরে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি, যা এখন রয়েছে বাংলাদেশে। প্রেসিডেন্সি কলেজে স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করে তিনি অধ্যাপনাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর লেখা বইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’, ‘মূর্খ বড়ো, সামাজিক নয়’, ‘গান্ধর্ব কবিতাগুচ্ছ’, ‘ধূম লেগেছে হৃদকমলে’ প্রভৃতি। ‘বাবরের প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান জ্ঞানপীঠ পুরস্কারও লাভ করেছেন তিনি। এছাড়াও বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মাননায় শঙ্খ ঘোষ ভূষিত হয়েছেন। আরও বহু বছর সৃষ্টিশীল থেকে তিনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করুন, এটাই আমাদের কামনা।

কলকাতা বইমেলায় পরিবেশবান্ধব পাউচে জল বিলি করছে রাজ্য সরকার
সেন্ট্রাল পার্কে রমরমিয়ে চলছে কলকাতা বইমেলা। এবারের বইমেলায় পানীয় জল বিলি করা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পাউচে। যে ধরনের প্লাস্টিকে এই পাউচগুলো তৈরি, তা সহজেই প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যায়। প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এরকমই উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকারের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর। এই পাউচগুলি তৈরি করেছে বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার পাউচ বিলি করা হচ্ছে বইমেলা প্রাঙ্গণের নানা জায়গা থেকে। গঙ্গাসাগর মেলাতেই এই পরিবেশবান্ধব পাউচ চালু করতে চেয়েছিল সরকার। কিন্তু বেশ কয়েকটি কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। অবশেষে, কলকাতা বইমেলায় এই বিশেষ ধরনের পাউচে জল বিতরণ শুরু হল।

দার্জিলিং-এ বড়ো হয়ে ওঠা রেড পান্ডা এবার চলল জার্মানিতে
২০১৫ সালে দার্জিলিং থেকে ১৫ কিমি দূরত্বে টোপকে দারোতে অবস্থিত রেড পান্ডা প্রজনন কেন্দ্রে জন্ম হয়েছিল জোয়েল আর শাইনের। রাজ্য বনদপ্তর এমনই নাম দিয়েছে এই দুই রেড পান্ডার। গত চার-পাঁচ বছর ধরে দার্জিলিং চিড়িয়াখানার কর্মীদের দেখাশোনায় বড়ো হয়ে উঠছিল দু’জনে। এবার তারা জার্মানি চলল। একদা বিলুপ্তপ্রায় রেড পান্ডাকে বিশ্বের সবপ্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার যে ব্রত দার্জিলিংয়ের চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নিয়েছিল— এবার তা অনেকাংশে সফল হতে চলেছে। আজই জার্মানির উদ্দেশ্যে রওনা দিল তারা। রেড পান্ডা ভুটানের জাতীয় প্রাণী। কিন্তু সারা বিশ্ব জুড়ে তাদের সংখ্যা অনেকাংশে কমে আসছে। একমাত্র দার্জিলিং চিড়িয়াখানা ছাড়া আর কোথাও তেমন দেখা যায় না এদের। এবার বিশ্বের দরবারে রেড পান্ডাদের পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে রাজ্য বনদপ্তরের এই প্রয়াসকে কুর্নিশ জানাচ্ছে সকল পশুপ্রেমী মানুষজন।

শতবর্ষে সত্যজিৎকে শ্রদ্ধা জানাতে বড়োপর্দায় ফিরে আসছে অপু-দুর্গা
বাঙালিকে নতুন করে কাশফুল আর রেলগাড়ি চিনতে শিখিয়েছিল অপু ও দুর্গা। দুর্গার মুখে বসানো হচ্ছে সেই অমোঘ সংলাপ, “সেরে উঠলে আমায় তুই রেলগাড়ি দেখাবি?” সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবার্ষিকী হচ্ছে ২০২১ সালে। এমন সময় যদি আবার সিনেপর্দায় অপু-দুর্গা তাদের দিগন্তবিস্তৃত মাঠ নিয়ে হাজির হয়, কেমন হবে তবে? পরিচালক সুমন মৈত্র এমনটাই ঘটাতে চলেছেন। বাঙালির নস্টালজিয়াকে উস্কে দিতে নিয়ে আসছেন তাঁর পরবর্তী ছবি ‘আমি ও অপু’। তবে সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালি’ থেকে বেরিয়ে এসে বিভূতিভূষণের মূল উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে আজকের প্রেক্ষাপটে বানানো হয়েছে এই ছবি। শুধুমাত্র বিভূতিভূষণ বা সত্যজিৎ নন, চিত্রনাট্যে জায়গা পেয়েছে জীবনানন্দ দাশ এবং জসীমুদ্দিনের কবিতাও। অপু ও দুর্গার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে নতুন মুখ ঈশান রাণা ও প্রকৃতি পূজারীকে। সবকিছু ঠিক থাকলে এই বছরের শেষেই মুক্তি পাবে ‘আমি ও অপু’।
