
১৯৯২-এর ফেব্রুয়ারি। সময়টা বসন্ত হলেও দিল্লিতে তখনও জমিয়ে ব্যাট করছে শীত। তার মাঝেই ইংল্যান্ডের যুবরাজ প্রিন্স চার্লস আর লেডি ডায়না এসেছেন ভারত সফরে। তাঁদের সম্মানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও-এর বাসভবনে চলছে বিশেষ নৈশভোজের আসর। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আমন্ত্রিত দেশের শিল্প-সংস্কৃতি জগতের তারকারাও।
সেই ওপেন এয়ার হাই প্রোফাইল ডিনারে শীত কিন্তু ছেড়ে কথা বলল না লেডি ডায়নাকেও। ভারতীয় ঠান্ডায় কাঁপছেন যুবরানী! কী হবে! বাঁচালেন সরোদিয়া আমজাদ আলি খান। সস্ত্রীক আমন্ত্রিত ছিলেন তিনি। পরনে শাহী শেরওয়ানি, কাঁধে চারশো বছরের মহার্ঘ্য জামিয়ার। প্রোটোকল যাই বলুক, শালটি তিনি তুলে দিলেন যুবরানীর হাতে। ঠাণ্ডার হাত থেকে নিস্তার পেলেন লেডি। পরে কফি খেতে খেতে এ শাল তিনি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন উস্তাদজীকে। কিন্তু ভারতীয় আতিথ্য ভুবনসেরা। আমজাদ এবং তাঁর পরিবার এই পারিবারিক সম্পদটি উপহার দিলেন যুবরানীকে। সেই শাল অঙ্গে নিয়েই পরদিন জয়পুর রওনা হয়েছিলেন তিনি।

ধর্মতলা, নিউমার্কেট চত্বর, স্টেট এম্পোরিয়াম- কাশ্মীরী পশমিনা কেনার ঠিকানা আছে বহু, তবু কাশ্মীর থেকে আগত শীতের অতিথিদের থেকে শাল কেনার মধ্যে এক অদ্ভুত আবেগ কাজ করে আম বাঙালির!
ভারতীয় আভিজাত্যের প্রতীক পশমিনা শাল। রাজকীয় তার উপস্থিতি। মুঘল আমল থেকেই দিল্লি দরবারে তাকে নিয়ে বহু কাহিনি শোনা যায়। ১৯৮৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজীব গান্ধির গায়ের কাশ্মীরী শাল নজর কেড়েছিল গোটা দেশের। কাশ্মীরী এম্পোরিয়মের সেই শালটির আশির দশকে দাম ছিল প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। কোনও অনুরাগীর থেকে উপহার পেয়েছিলেন ‘শাল প্ৰিয়’ রাজীব। শাল বাঙালি-জীবনের অঙ্গ। আর পশমিনা তার অহংকার, পারিবারিক ঐতিহ্যর স্মারক। বিয়ের তত্ত্বে দেওয়া হত শাল, আর তা যদি হয় পশমিনা, তাহলে তো কথাই নেই! সাবেক কলকাতায় কাশ্মীরী শালের শৌখিন বাবুয়ানী কম ছিল না।
আজও শীত এলেই উত্তুরে বাতাসের সঙ্গে সঙ্গে ডাললেকের হাওয়াও যেন দোল দেয় কলকাতার গায়ে। পরিযায়ী পাখির ডানায় শহরে আসেন কাশ্মীরী শালওয়ালার দল। তাঁদের সঙ্গে থাকে শীত পোশাকের গাঁটরি। ধর্মতলা, নিউমার্কেট চত্বর, স্টেট এম্পোরিয়াম- কাশ্মীরী পশমিনা কেনার ঠিকানা আছে বহু, তবু কাশ্মীর থেকে আগত শীতের অতিথিদের থেকে শাল কেনার মধ্যে এক অদ্ভুত আবেগ কাজ করে আম বাঙালির! কাশ্মীর আর পশমিনা সমার্থক। ফি শীতে এই শালবিক্রেতারা পসরা নিয়ে আসেন বাঙালি বাড়ির দরজায়, উঠোনে।
লুধিয়ানার কম্বল, সোয়েটার, জ্যাকেটের সঙ্গে থাকে ‘পশমিনা’র সম্ভার। তবে এ পশমিনা খানিক আলাদা। আসল পশমিনার গল্প তার সঙ্গে মেলে না। আসল পশমিনা শাল গলে যায় আংটির ফাঁক দিয়ে। ছ’শো বছরের প্রাচীন পশমিনা শাল-শিল্প একান্তভাবে কাশ্মীরের। একাধিক পর্ব পেরিয়ে তৈরি হয় পশমিনা শাল। তাকে নিপুন করে তুলতে শিল্পীর হাত হতে হবে নরম, কোমল। তাঁদের আঙুলে ঈশ্বরের বসত না হলে চিনার পাতায়, নার্গিস ফুলে যেন ঠিক রং লাগে না। তাই ইবাদত চাই। লাদাখে চ্যানট্যাঙ্গের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে মাইনাস চল্লিশ তাপমাত্রায় বেড়ে ওঠে চ্যানটাঙ্গি ছাগ। শীত থেকে বাঁচতে তাদের গায়ে থাকে ঘন সোনালী লোমের চাদর। যেমন নরম তেমন হালকা। গরম পড়লে গায়ের ভার কমাতে লোম কেটে নেন চ্যাংপা উপজাতির মানুষ। পাঁচ হাজার বছর ধরে তারা জড়িয়ে আছে এই পেশায়। সেই লোম বিক্রি হয় স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। তারপর তা আসে কাশ্মীরে।
পশমিনা সংগ্রহের পর বেশ কতগুলি পর্ব পেরিয়ে তবেই তৈরি হয় শাল। এই পর্বগুলি কঠিন এবং দীর্ঘ। রিফুকার চরকা কেটে উল তৈরি করেন। যা সাধারণ সুতোর থেকে ছয় গুণ পাতলা, আর তিন গুণ গরম! তারপর আসে পুরাজগাররা। তাঁরা সেই উল সোজা করেন। উল কতটা মিহি আর উষ্ণ হবে নির্ভর করে তাঁদের অধ্যাবসায়ের উপর। ডাই করে সূর্যের আলোয় শুষ্ক করার পর কাঠের তাঁতে শাল বোনা হয়। শালের উপর এমব্রয়ডারি করতে এক মাস, এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগে। নির্ভর করছে নকশার ধরনের উপর। পশমিনা শালের নানা ধরন রয়েছে। তাদের নকশা এবং বুননের রীতি রেওয়াজও আলাদা। দেশের শাসক বদল সরাসরি প্রভাব ফেলেছে কাশ্মীরি শালের বয়নে। আর তার জেরেই বদলে গিয়েছে শালের গায়ের নকশা।

এক শীতে কেনা শালের দাম পরের শীতেও ক্রেতাদের থেকে নিয়ে যেতেন এমনও হত। সবটাই চলত পারস্পরিক বিশ্বাসের উপর। কিন্তু এখন সে ছবি খানিক বদলেছে।
শুনলে অবাক হবেন এক সময় পশমিনা সাল ছিল এক রঙা। শালের কেন্দ্রে থাকত সাদা-কালো নকশার কাজ। ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি থেকে শিল্পীরা লাল, সবুজের মতো রঙের ব্যবহার শুরু করেন। মুঘল আমলে নকশার মোটিফে নানা বৈচিত্র আসে। ব্রিটিশ চাহিদায় আসে লতাপাতা, জ্যামিতিক আকার। দু’ভাবে তৈরি হয় পশমিনা। হাতের তাঁতে শাল বোনার সময় কাঠের সুচের ফোঁড় তুলে তৈরি হয় কানি পশমিনা। এমব্রয়ডারি করে বোনা হয় আমিলকর শাল। এছাড়া আছে দোশোলা শাল। যার দুই দিক-ই ব্যবহার করতে পারবেন আপনি।
শীতের ক’দিন এ শহরের বাসিন্দা হয়ে যান কাশ্মীরী শালওয়ালারা। বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এই ট্রাডিশন। তালতলা, রিপন স্ট্রিট, মৌলালি, পার্কসার্কাস, খিদিরপুর, দমদম থেকে শুরু করে এখন হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো কলকাতা সংলগ্ন অঞ্চলে বাসা নেন তাঁরা। নভেম্বর-ডিসেম্বরে দল বেঁধে আসেন। থাকেনও দল বেঁধে। এক আস্তানায় ৪-৫ জন। সারাদিন গাঁটরি নিয়ে সওদার জন্য টইটই করেন। বেলা ফুরোলে ফিরে এসে নিজেরাই রান্নাবান্না করেন। অনেক সময় সাধ্যে কুলোলে ঘরের কাজের জন্য সহায়ক রেখেও দেন।
বাঙালি মধ্যবিত্তরাই মূলত ওঁদের ক্রেতা। আগে বছরে ২ বার আসতেন। একবার শীতে আর একবার বছরের মাঝামাঝি। ক্রেতাদের থেকে বকেয়া পেমেন্ট নিতে। এক শীতে কেনা শালের দাম পরের শীতেও ক্রেতাদের থেকে নিয়ে যেতেন এমনও হত। সবটাই চলত পারস্পরিক বিশ্বাসের উপর। কিন্তু এখন সে ছবি খানিক বদলেছে। আসল পশমিনার বদলে নকল নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে মানুষ। তাই দিল্লি লুধিয়নার কালেকশন-ই তাঁদের গাঁটরির সঙ্গী। তবে আসল পশমিনার খোঁজ করলে তা আনিয়ে দেওয়ার বন্দোবস্তও তাঁরা করতে পারেন।
আগের মতো আর বিক্রি হয় না! বেড়েছে থাকা-খাওয়ার ব্যয়। কলকাতা যেমন বদলেছে তেমনই বদলেছে কাশ্মীরী শালওয়ালাদের মন আর ব্যবহারও। নরম, ভদ্র, আন্তরিক, বন্ধু স্বভাবের এই মানুষগুলো আজকাল ব্যবসার খাতিরে কথাবার্তায় চোস্ত হলেও নিজেদের নিয়ে খুব বেশি মুখ খুলতে চান না। যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু। অথচ আগে ছবিটা এমন ছিল না। একবার একটা শাল কিনলে জীবনভরের সম্পর্ক আশ্চর্য ছিল না। কেন এমন বদলে যাওয়া? দিল্লিবাসী কাশ্মীরি সাংবাদিক সুহেল ভটের মতে, একাধিক কারণে কাশ্মীরী শালব্যবসায়ী এবং বিক্রেতারা প্রতিবছর কলকাতায় যান। এই শহরের শীতকালীন আবহাওয়া, আন্তরিকতা, মানুষ সবই তাঁদের প্ৰিয়। কিন্তু উপত্যকার অশান্ত পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সংকট, রক্ত, গুলি, জীবনের ভয় বদলে দিচ্ছে ওঁদের।
একই সুর শোনা শোনালেন কলকাতার বাসিন্দা প্রবীণ নাগরিক দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর কথায়, “ওঁরা এখন ভয়ঙ্কর ভয়ের মধ্যে আছেন। নজরদারি, সন্দেহ এসবের মধ্যে কোনও শহরেই ওঁরা আর আগের মতো ঘুরতে পারেন না।” কাশ্মীরের অর্থনীতির অন্যতম কান্ডারি পশমিনা শিল্প। কাশ্মীর যেমন বদলেছে, বদলেছে পশমিনাও। আসল পশমিনার চাহিদা কমেছে। তার প্রধান কারণ আকাশছোঁয়া দাম। যে কঠোর পরিশ্রমে শালকার একটি শাল তৈরি করেন, সেই অনুযায়ী দাম মেলে না। অতিমারির পর মধ্যবিত্তের ক্রয় ক্ষমতাও কমেছে। আর সেই জায়গায় এসে গিয়েছে তুলনামূলক কম দামে মেশিনে বোনা পশমিনা শাল। কম সময়ে বেশি উৎপাদন। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ক্রেতারা বেছে নিচ্ছেন এই ধরনের পশমিনা শাল-ই।
কলকাতাতেও আসল এখন পশমিনার তুলনায় যন্ত্রচালিত পশমিনার রমরমা। তাহলে কীভাবে পাওয়া যাবে আসলের সন্ধান?
কথায় বলে দাম দিলে নিউমার্কেটে বাঘের দুধও মেলে। লোকমুখে তৈরি সে প্রবাদ বাসি হয়নি আজও। ব্যয়ে যদি কুণ্ঠা না থাকে নিউমার্কেটের অন্দরেই পুরনো কাশ্মীরী শালের দোকানে পেয়ে যাবেন তার খোঁজ। আসল আর নকল দুই ধরনের শাল সামনে ফেলে আপনাকে তাঁরা বুঝিয়ে দেবেন দুইয়ের তফাৎ। আসলের দাম লক্ষাধিক। চিনতেও লাগে জুহুরির চোখ। কাশ্মীরী শাল তিন ধরনের শাহতুষ, পশমিনা, রাফল। আসল পশমিনা শাল হয় মিহি আর নরম। গায়ে জড়ালে স্পর্শেই বোঝা যায়। হাতে বোনা আসল পশমিনা আলো আটকাতে পারে। তাই কেনার আগে আলোর সামনে তা মেলে ধরে দেখে নেবেন আলো দেখা যাচ্ছে কি না। এমব্রয়ডারির কাজ সর্বত্র এক রকম হবে না। এ ছাড়াও থাকবে জিআই লেবেল।
কলকাতার বিখ্যাত সংগ্রাহক জয়ন্ত কুমার ঘোষ, পেশায় ব্যবসায়ী প্যাশনে শাল সংগ্রাহক। পিতৃসূত্রে শালের নেশার উত্তরাধিকারী। তাঁর কথায়, একসময় বাড়িতে শুধু শালের ব্যবহার চলত। ১৯৮১ সালে যখন তিনি অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র, কাশ্মীর বেড়াতে গিয়ে দেখেছিলেন আংটির মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে আসে পশমিনা শাল। কীভাবে বোনা হয় সেই শাল সেসবও প্রত্যক্ষ করেন। গত ১৫ বছর ধরে দুষ্প্রাপ্য শাল সংগ্রহ করে চলেছেন। একসময় অভিজাত বনেদি বাঙালি বাড়িতে বহুমূল্য পশমিনা শাল থাকত। কিন্তু এখন অনেক ক্ষেত্রেই বড়ো পরিবার ভেঙে ছোটো হয়ে যাওয়া, ‘ফ্ল্যাট কালচার’-এ অভ্যস্ত হয়ে পড়া, উপযুক্ত রক্ষনাবেক্ষণের অভাব বা বিদেশ পাড়ি এমন বহু কারণে পারিবারিক বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পশমিনা অনেকেই তুলে দিচ্ছেন সংগ্রাহকদের হাতে। জয়ন্তবাবুর সংগ্রহেও এভাবে শাল আসে। তাঁর কাছে রয়েছে শতবর্ষ প্রাচীন পশমিনা শাল। সঠিক যত্নে একটি পশমিনা শালের আয়ু হতে পারে তিনশো বছরের বেশি।
হাতে বোনা আসল পশমিনা আলো আটকাতে পারে। তাই কেনার আগে আলোর সামনে তা মেলে ধরে দেখে নেবেন আলো দেখা যাচ্ছে কি না। এমব্রয়ডারির কাজ সর্বত্র এক রকম হবে না। এ ছাড়াও থাকবে জিআই লেবেল।

কেমন হওয়া উচিত পশমিনার শালের যত্ন? শহরের বিশিষ্ট এই শালসংগ্রাহকের মতে, পশমিনা বা যে কোনও দামী শালকে সোজা করে রাখলে সবচেয়ে ভাল। সে উপায় যদি না থাকে তাহলে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। ফি বছর রোদে দেওয়ার বদলে হিম খাওয়াতে হবে নিয়ম করে। হিম খাওয়ানো ব্যাপারটা ঠিক কেমন? হেমন্তের রাতে শিশির পড়তে শুরু করলে শালকে খোলা জায়গায় রেখে শিশির বা হিম লাগাতে হবে। তাতে ভালো থাকে পশম। এছাড়াও আলমারি, ওয়ারড্রবে শাল রাখার স্থানটিতে কালো জিরে আর শুকনো লঙ্কা রাখা যেতে পারে।
শীত পোশাকের দুনিয়ায় পাশ্চাত্য পোশাকের দাপটে পশমিনার মতো শাল কি হারিয়ে যাবে? জয়ন্তবাবুর মতে, তেমনটা হবে না। কারণ পশমিনা অভিজাতর অহংকার। এই শালের মূল্য সম্পর্কে এখন সকলেই ওয়াকিবহাল। তাই নতুনরা এর কদর জানে। এখন ধুতির মতো এথেনিক পোশাকের ট্রেন্ড ফিরছে, ফিরছে শাল ব্যবহারের ট্রেন্ড। পশমিনার আঁতুড়ঘর লাদাখ। উপজাতি মানুষের হাতে তার জন্ম। ক্ষতবিক্ষত উপত্যকায় জীবন আজ আছে, কাল নেই। প্রতিদিন প্রাণের ভয়, রক্তপাত আর কান্না। ক্যাশমেয়ার ছাগলের সংখ্যা কমছে। লাদাখ থেকে কাশ্মীর-বিমুখ হচ্ছে নতুন প্রজন্ম। ঘরে চরম অভাব। তবু থেমে থাকে না শালকারের হাত। শত বিপর্যয় পেরিয়েও বেঁচে থাকে ‘পশমিনা’। ফি বছর গাঁটরি কাঁধে নিয়ে কলকাতায় আসেন কাশ্মীরী শাল বিক্রেতারা। সংখ্যায় কমেন, কিন্তু থামে না তাঁদের ডানা।
