
জোরে রিডিং পড়লে কমবে ভুল
আজ একটা অন্য রকমের ভুল নিয়ে আলোচনা করব। সেটা হল, যেখানে পড়ার কথা ‘ক’, পড়ছে ‘গ’। বা ‘ব’-এর জায়গায় বসে পড়ল ‘ভ’। লিখতে বসে এই ভুল হয় ছোটদের, কখনও বড়োদেরও হয়। যেমন ‘কাক’-কে ‘কাগ’, ‘মাথা’-কে ‘মাতা’, ‘পাঁচ’ কে ‘পাঁছ’, ‘কপি’কে ‘কফি’। এই ধরনের ভুলের বিভিন্ন কারণ আছে। এখন ভুলটা চিনিয়ে দিচ্ছি। যদি কেউ লেখে ‘বিদ্যাসাগরের মাথার নাম ভগবতী দেবী’, ভুল লিখল, মাতার বদলে মাথা! মানে গেল পাল্টে, খাতায় লাল কালির দাগ পড়ল। এই বিষয়ে সচেতন করার প্রধান উপায় হল, স্পষ্ট করে জোরে জোরে রিডিং অভ্যাস। শিক্ষকদের মধ্যেও এই ভুল থাকে। তাঁরা হয়তো লিখবেন ঠিক, কিন্তু উচ্চারণে এই ধরনের ত্রুটি অনেক সময় থাকে(আঞ্চলিকতার কারণে), ছোটরা সেখান থেকেও অনেক সময় ভুল শেখে।
সুকুমার রায়ের ‘বুড়ীর বাড়ী’ কবিতায় আছে, ‘কাঁটা দিয়ে আঁটা ঘর-আঠা দিয়ে সেঁটে’। এখানে ‘ট’ এবং ‘ঠ’-এর উচ্চারণ মন দিয়ে কানে শুনবে, ভুলবে না। ‘হযবরল’-তে ‘বাদুড় বলে, ওরে ভাই সজারু, আজকে রাতে দেখবে একটা মজারু।/ আজকে হেথায় চামচিকে আর পেঁচারা/ আসবে সবাই, মরবে ইঁদুর ‘বেচারা’। বেচারার ‘চ’ অনেক সময় ‘ছ’ হয়ে যায়।
রবীন্দ্রনাথের ‘দামোদর শেঠ’ কবিতায় ‘অল্পেতে খুশি হবে দামোদর শেঠ কি?/ মুড়কির মোওয়া চাই, চাই ভাজা ভেটকি’। এখানে শেঠ এর ‘ঠ’ এবং ভেটকি-র ‘ট’ দুটোই ‘ট’ করে উচ্চারণ করা হয় অনেক সময়। ফলে ভুল হয় লেখাতেও। উচ্চারণ অনুযায়ী ঠিক বর্ণ লেখার জন্য ছোটদের একই বর্ণ দিয়ে নানা শব্দ/বাক্য লেখাতে হবে। যেমন কাঠুরিয়া কাঠ কাটতে বনে গেল, সেখানে কাঠঠোকরা আর কাঠবিড়ালি দেখল।
এর জন্য picture reading করানো যেতে পারে। ছবি দেখে ছোটরা বানিয়ে গল্প বলবে। বলার সময় তার উচ্চারণের দিকে খেয়াল রেখে ভুল হলে ধরিয়ে দিতে হবে। আবার, শিশুদের কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে বসিয়ে শব্দের শেষে ট/ঠ আছে বা ত/থ আছে এই রকম চারটি করে শব্দ বলতে বলা হবে। বলার সময় ওদের উচ্চারণ শুনতে হবে।
‘যাচ্ছিল’, খাচ্ছে এই ক্রিয়াপদগুলি উচ্চারণের ভুলে(আঞ্চলিক ভাষাগত উচ্চারণ) যাচ্চিল, খাচ্চে হয়ে যায়। শিষ্ট ভাষায় খাচ্চে লেখা যায় না। ছোটবেলা থেকে এই উচ্চারণগুলি ঠিক না হলেই সমস্যা বাড়ে।
মনে রাখতেই হবে— ১। ‘বাছা’(ছ), বাছুর( ছ) ‘বাচ্চা’(চ)। মনে রাখতে হবে শালিক পাখিতে ক/খ দুটোই হয়।
২। উচ্চারণের ভুলে বড়োরা অনেক সময় ‘রিক্সা’কে রিস্কা, ‘বাক্স’-কে বাস্ক, ‘ট্যাক্সি’কে ট্যাস্কি বলে। ছোটরা শোনে, কিন্তু খাতায় সেটা লিখলেই ভুল। এই ভুল হয় যে যে শব্দে তার তালিকা করে ছোটদের সামনে রাখলে ভালো হয়। যেমন – মাছ, গাছ। অন্য দিকে কাচ, ছাঁচ, নাচ। লাজ, সাজ, তাজ, ভাজ।
যদিও সিলেবাস শেষ করার চাপ আছে, তবুও একদিন যদি ছোটদের গল্প বলা, শব্দ নিয়ে খেলা, বা কবিতা পড়ে শোনানো হয়, তবে এই ভুল কমতে পারে।
