পুলিশ কি হাঁটতে পারে না? প্রশ্ন লেখক শংকরের

খবর পেয়ে কেন ছুটে আসে পুলিশ?

বেশ কয়েক বছর আগের কথা। রাইটার্সের প্রেস কর্নারে আমরা সাংবাদিকরা বসে হালকা মেজাজে আড্ডা দিচ্ছি। এমন সময় সেখানে হঠাৎ দরজা ঠেলে হাসি মুখে ঢুকলেন শংকর। আমরা অনেকেই উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বসতে বললাম। এ কথা সে কথার পর শংকর আমাদের বললেন, অনেক দিন ধরে ভাবছি সাংবাদিকদের কাছে একটা বিষয় জানতে চাইব। আজ আপনারা সবাই এক সঙ্গে আছেন, আজ ভাবছি বলেই ফেলি। আমরা একটু অবাক হয়েই বললাম, কী প্রশ্ন? শঙ্কর হেসে বললেন, ‘আমার প্রশ্ন, পুলিশ কি হাঁটতে পারে না’?

আমরা সাংবাদিকরা এ ওর দিকে তাকাচ্ছি। বুঝতে পারছি না চৌরঙ্গী, কত অজানারে-র লেখক ঠিক কী বলতে চাইছেন! উত্তরটা কিছু ক্ষণ বাদে নিজেই দিলেন। বললেন, ‘প্রায়ই কাগজে দেখি আপনারা লেখেন, এই খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে ছুটে আসে পুলিশ’। কয়েক মুহূর্ত চুপ সবাই। তার পর সবাই হো হো করে হেসে উঠল। ঘটনাটা ২৩-২৪ বছর আগের কথা। আমি অন্তত এর পর আর কখনও খবর পেয়ে পুলিশের ছুটে আসার কথা লিখিনি।

সাংবাদিকদের এমন অদ্ভুত ভাষা অবশ্য আরও আছে। এক সময় আমরা লিখতাম, নির্ভরযোগ্য সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। এক সময় প্রশ্ন উঠল, সাংবাদিকদের কি দুই ধরনের সূত্র আছে? নির্ভরযোগ্য এবং অনির্ভরযোগ্য? তা তো হতে পারে না। ফলে লেখা শুরু হল, ‘সূত্রের’ খবর। তবে কিছু ভুল, খবরের কাগজে নিয়মিত চোখে পড়ে। যেমন, ‘সব ছাত্রদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন স্থানীয় বিধায়ক’। দু’বার বহু বচন হল। ‘সব’ এবং ‘ছাত্রদের’। ‘সব ছাত্রকে’ বা ‘ছাত্রদের’ লিখলেই যথেষ্ট। বা যেমন,খবরের কাগজে চোখে পড়ে ‘প্রত্যাশিতভাবেই এই ঘটনা ঘটছে’। যদি প্রত্যাশিতই ছিল, তাহলে তো সেটা স্বাভাবিক ঘটনা। খবরই নয়।

এসব গেল ভুলের কথা। এবার বলি খবরের কাগজ বাংলা ভাষাকে কী কী নতুন শব্দ দিয়েছে। এমনই কয়েকটি শব্দ হল, পাতাল রেল, সাংসদ, উড়ালপুল, স্কুল-ছুট, সবুজ বিপ্লব, ছাপ্পা ভোট, সবুজ সংকেত, মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ইঁদুর দৌড়, চিরুনি-তল্লাশি, নল জাতক ইত্যাদি। যখন কলকাতায় সিএডিএ (এখন কেএমডিএ) নিয়মিত এখানে ওখানে মটি খুঁড়ে উন্নয়নের কাজ করছে, তখন খবরের কাগজে সিএমডিএ-র নাম দেওয়া হয়েছিল, ‘কাটছি মাটি দেখবি আয়’।

Developed by DXDasia