
অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় শাসকদলের নেতাদের সঙ্গে যোগসাজসে পুলিশ এসব আগেও যেমন করত, এখনও করে চলেছে
ক্ষমতায় আসার আগে ২০১০ সালে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, তিনি অস্ত্রমুক্ত বাংলা গড়তে চান। তারপর ছ’বছর কেটে গিয়েছে। গত শুক্রবার কৃষ্ণনগরে রবীন্দ্র ভবনে সরকারি প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের ডিজিকে সামনে রেখে পুলিশকর্তাদের প্রায় ধমকে প্রশ্ন করেছেন, জেলায় এত খুন হচ্ছে কেন! ডিজি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। প্রশ্নটা নদিয়া নিয়ে করলেও, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন রাজ্যের ডিজির সামনে এই প্রশ্ন করেন, সেটা সব জেলার জন্যই প্রযোজ্য হয়।
খুন তো খুনই। সাম্প্রদায়িক কারণে খুন হলেও খুন, রাজনৈতিক হিংসার বলি হলে, সেটাও খুন। আমরা গর্ব করে বলি বটে, আমাদের রাজ্যে সাম্প্রদায়িক খুনোখুনি নেই। কিন্তু রাজনৈতিক হত্যা? এই ব্যাপারে আমরা অনেক রাজ্যের চেয়েই অনেক এগিয়ে।
একটা পুরোনো হিসেব দিই। ২০০৫ সালে মাওবাদীদের হাতে কয়েক জন সিপিএম নেতা-কর্মী খুন হওয়ার পর, তৎকালীন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক অনিল বিশ্বাস বলেছিলেন, ‘গত ২৭-২৮ বছরে আমাদের দলের ৩৪০০ কর্মী খুন হয়েছেন’। সেই সময় মানস ভুঁইয়া কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্ট উল্লেখ করে দাবি করেছিলেন, ১৯৭৭ থেকে ২০০৪, এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে খুন হয়েছেন ২৪০২৪ জন। অর্থাৎ(মানসবাবুর অভিযোগ সত্যি হলে) বছরে আটশোর বেশি।তিনি দাবি করেছিলেন, এই নিহতদের মধ্যে কংগ্রেস কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার।
এত খুন এখন নিশ্চয় হচ্ছে না।কিন্তু খুনে আমরা এখনও পিছিয়ে নেই। খুন হচ্ছে, তার কারণ পুলিস আগের মতোই এখনও খুনে রাজনীতিতে রং দেখছে। আইন-শৃঙ্খলায় রাজনীতির রং দেখবেন না, এমন কথা মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক বার বলেছেন। শুক্রবার কৃষ্ণনগরে ফের বললেন। আসলে কিছু অফিসার মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করতে সাজিয়ে কথা বলছেন।সবং-এ খুন নিয়ে এফআইআর-এ চলে এল মানস ভুইঁয়ার নাম। চার্জশিটে দেখা গেল সে নাম নেই। খড়্গপুরে এক দাগি খুন হল। পুলিশ এক বিরোধী বিধায়কের দিকে আঙুল তুলল। তার পর দেখা গেল, খুনি অন্য কেউ। হুগলির তপন দত্ত খুনের মামলায় পুলিশের কাজে ইতিমধ্যেই বিরক্তি প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় শাসকদলের নেতাদের সঙ্গে যোগসাজসে পুলিশ এসব আগেও যেমন করত, এখনও করে চলেছে। বদনাম কিন্তু হয় মুখ্যমন্ত্রীর। বদনাম হয় সরকারের।
ফলে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন প্রশ্ন তুলেছেন এত খুন কেন, মাননীয় ডিজি সাহেব, কাজে তার জবাব দিন।
