
একসময় ছোট-বড় মিলিয়ে শখানেক পুতুলনাচের অপেরা ছিল নদিয়া জেলায়
আধুনিক করার ইচ্ছে তো রয়েছেই, প্রয়োজনও। কিন্তু অর্থাভাবের কারণে বাংলার ঐতিহ্যমণ্ডিত পুতুলনাচ-কে আধুনিক করতে পারছেন না শিল্পীরা। ফলে ক্রমশই ইতিহাসের পাতায় চলে যাচ্ছে বাংলার প্রাচীন এই পুতুলনাচ শিল্প।
নদিয়া জেলা পুতুল নাচের জন্য বিখ্যাত। একসময় ছোট-বড় মিলিয়ে শখানেক পুতুল নাচের অপেরা ছিল সেখানে। এখন তা একেবারেই তলানিতে ঠেকেছে। যাঁরা এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত, তাঁরা কাজ না থাকলে দিনমজুরি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ এর সঙ্গে জড়িত নৃত্যশিল্পী ও কণ্ঠশিল্পীদের প্রতিভাও অস্বীকার করার নয়। পুরুষ ও নারী কণ্ঠের অনেক রকম শব্দ দিনের পর দিন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিখতে হয় কণ্ঠশিল্পীদের। নদীয়া জেলার বড়বড়িয়া, মুরাগাছা এলাকার পুতুলনাচ শিল্পী শচীন বিশ্বাস, দিলীপ রায়রা জানালেন, আগের মতো পুতুলনাচের সব অপেরা না থাকায় তাঁরা কয়েকজন মিলে চুক্তির ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে পুতুলনাচের শো করে আসছেন। কোথাও ক্লাব ঘরের মধ্যেই বসছে তাঁদের পুতুলনাচের আসর। তাঁদের কাছে বিভিন্ন রকম পুতুল আছে। সবই শোলার তৈরি। এখন শোলাও কম পাওয়া যায়। আর পাওয়া গেলেও তার দাম অনেক। ফলে সেভাবে পুতুলও তারা তৈরি করতে পারেন না। পুরানো পুতুলই রং করে নিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। আর নতুন প্রজন্ম পয়সা নেই বলে আর এই কাজ শিখতে আসছে না। পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে পালারই শো হয় বেশি। নাটক তেমন লেখার লোকও তাঁদের নেই। ফলে আধুনিক গল্পের ওপর নাটক তাঁরা পাচ্ছেন না। তাই গ্রামবাংলায় পৌরাণিক কাহিনী দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে।
যদিও এর মধ্যেই কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, বাল্যবিবাহ, উন্মুক্ত শৌচালয় বন্ধ করা নিয়ে তারা গানের মাধ্যমে প্রচার করছেন। বলা বাহুল্য সামাজিক অনেক সমস্যা প্রতিরোধ করতে বা সচেতনতা আনতে গ্রাম বাংলায় পুতুলনাচ একসময় সেরা মাধ্যম ছিল। কিন্তু এখন এর ভবিষ্যৎ কী, তা নিয়ে সকলের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
