দুই বাংলার ‘পাখির চোখ’ সমুদ্র উপকূলে

প্রথমবার শহরে পাখি নিয়ে যৌথ কর্মশালা

সংখ্যায় এবং বৈচিত্র্যে দুই বাংলায় পাখি নেহাত কম নয়। পাহাড়ে কিংবা সমতলে তো বটেই, পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলেও দেখা মেলে রং-বেরং-এর জানা-অজানা রকমারি সব পাখির। দুই বাংলারই দক্ষিণে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। উত্তর গোলার্ধের পাখিরা যখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে যায়, তার মাঝখানেই পড়ে বাংলার সমুদ্র উপকূল। এখানকার পাখিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার উদ্দেশ্যে দুই বাংলার পাখি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আজ ও আগামীকাল ৫ আর ৬ জানুয়ারি চলছে কর্মশালা। আয়োজনে বার্ডওয়াচার্স সোসাইটি। নন্দনে আলোচনাচক্রের পর হাতেকলমে প্রশিক্ষণ হবে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বঙ্গোপসাগর উপকূল এবং গঙ্গার মোহনায়।

দুই বাংলার পক্ষীবিদদের নিয়ে একটি কর্মশালা এবারই প্রথম। উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক পাখির সমীক্ষা আর সুমারির আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে কাজ হবে সেখানে। বাংলাদেশের পাখি গবেষক সায়ম ইউ চৌধুরী, মহম্মদ ফয়জল এবং নাজিমউদ্দিন প্রিন্স যোগ দিচ্ছেন এই কর্মশালায়। থাকছেন ডাব্লিউডাব্লিউএফ-ইন্ডিয়ার কো-অর্ডিনেটর তথা গুজরাটের জলচর পাখি বিশেষজ্ঞ অর্পিত দেওমুরারি। সম্প্রতি বঙ্গোপসাগর উপকূলে ব্ল্যাক লেগড কিটিওয়াক, লেসার ফ্রিগেট বার্ডের মতো প্রায় অপরিচিত পাখির দেখা মিলেছে। রাশিয়ার চিকোটকা আর কামচটকা অঞ্চলের স্পুন-বিলড স্যান্ডপাইপার পাখি বাংলাদেশের কক্সাবাজার অঞ্চলে নিয়মিত দেখা যায়। গত বছর এর দেখা পাওয়া গেছে ফ্রেজারগঞ্জ সৈকতেও। ‘অতি সংকটাপন্ন’ এই প্রজাতির পাখি এখন সারা পৃথিবীতে খুব বেশি হলে ২৫০ জোড়া বেঁচে আছে। এইসব প্রজাতিগুলির সংরক্ষণ কীভাবে সম্ভব তা এই কর্মশালায় আলোচিত হবে। দুই বাংলার পাখি গবেষণা সংক্রান্ত তথ্য এবং পদ্ধতি আদানপ্রদান হলে সব তা উপকৃত করবে সব গবেষককেই। পাখিদের সংরক্ষণ নিয়ে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করতেও এই কর্মশালা নতুন পথের সন্ধান দেবে বলেই আশা করছেন আয়োজকরা। 

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখিদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রতটের বাস্তুতন্ত্রেও পাখিদের সমৃদ্ধ অবদান রয়েছে। দুদিনের কর্মশালায় উপকূলের বিভিন্ন ধরনের পাখিদের সমীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। মোট ৬০ জন অংশ নেবেন এই কর্মশালায়। 
 

Developed by DXDasia