পাহাড়ের পুরভোট

মোট বুথের সংখ্যা কত, কোথায় কে প্রার্থী দিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত তো? পাহাড়ের পুরভোটের হাল-হকিকৎ

প্রচার শেষ। এবারে ভোট। রবিবার সকাল থেকে পাহাড়ের চার পুরসভায় ভোটগ্রহণ শুরু। দার্জিলিং-এর জেলা নির্বাচনী আধিকারিক জয়শি দাসগুপ্ত জানিয়েছেন, ভোটকর্মীরা সবত্র ভোট গ্রহণের ইভিএম নিয়ে রওনা দিয়েছেন। নির্বাচনী বিভাগ থেকে ভোটকর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য জিনিসপত্র দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে এমারজেন্সি লাইট এবং জল দেওয়া হয়েছে। সব বুথেই জল রাখার জন্য স্থানীয় নির্বাচনী বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক। তবে সর্বত্র ইভিএমগুলো পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জেলাশাসক জানিয়েছেন।

এবারে পাহাড়ের এই পুরভোটে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেস, জিএনএলএফ, জন আন্দোলন পার্টি, সিপিএম ও কিছু নির্দল প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। দার্জিলিং পুরসভায় ৩২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা হয়েছে ৮১টি। সেখানে মোট ভোটার ৬২৮২৯ জন। ৩০৭০৯ জন পুরুষ ভোটারের তুলনায় মহিলা ভোটার বেশি। মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৩২১২০জন। এখানে ৯৫জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে রবিবার। ৯৫ জন প্রার্থীর মধ্যে জিজেএম ৩২, টিএমসি ২০, জিএনএলএফ ১২, জাপ ৫, সিপিএম ৪ ও নির্দলরা ২২টি আসনে লড়াই করছেন। কার্শিয়াং-এর ২০টি আসনের মধ্যে জিজেএম ২০, টিএমসি ১৫, জিএনএলএফ ৬, জাপ ৬ ও নির্দলরা ১০টি আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। কার্শিয়াং-এর ২০টি ওয়ার্ডের ২৭টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ২০৭৪৮জন ভোটার রবিবার ৫৭ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। এখানেও ৯৮৮২জন পুরুষ ভোটারের তুলনায় মহিলা ভোটার ১০৮৬৬ জন। মিরিকে ৯টি ওয়ার্ডের ১০টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ৮৮৭৫ জন ভোটার ৩৪জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। সেখানে মহিলা ভোটার ৪৫৪২ জন আর পুরুষ ভোটার ৪৩৩৩জন। জিজেএম ৯, টিএমসি ৭, জিএনএলএফ ২, জাপ ৬ ও নির্দল ১০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। কালিম্পং-এ ২৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ৪৬টি। ৩৬৬০১ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৮১১৪ জন আর মহিলা ভোটার ১৮৪৮৭ জন। মোট প্রার্থী সংখ্যা সেখানে ১০২জন। জিজেএম ২২, টিএমসি ১৯, জাপ ২৩, সিপিএম ৯ ও নির্দল ২৬টি আসনে লড়ছেন। যদিও একটি ওয়ার্ডে টিএমসির একজন প্রার্থী শনিবার শেষ মুহূর্তে জিজেএমে যোগ দিয়েছেন বলে খবর। দার্জিলিং পুরসভা আসনে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে জিজেএমের হেভিওয়েট প্রার্থী ডি কে প্রধান লড়াইয়ে নেমেছেন। তিনি এর আগে দার্জিলিং পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন, তিনি একসময় দার্জিলিং-এর জিএনএলএফ বিধায়কও ছিলেন। তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন এন বি খাওয়াস। তিনি দার্জিলিং পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে লড়াই করছেন। তিনি এর আগে ডিজিএইচসির চেয়ারম্যান ছিলেন। টিএমসির সারদা রাই সুব্বা ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে লড়ছেন দার্জিলিং-এ, তিনি এর আগে টিএমসির টিকিটে বিধানসভা ভোটেও লড়েছেন। এর আগে ২০১১  সালের দার্জিলিং পুরসভা ভোটে দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং-এ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সর্বত্র জয়ী হয়েছিল জি জে এম। মিরিকে অবশ্য ৯ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪ টিতে  বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিল জিজেএম। বাকি ৫টিতে লড়েছিল নির্দলরা। এবারের এই ভোটে টিএমসি ও জিএনএলএফের মধ্যে জোট তৈরি হয়েছে।  গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে, তৃণমূল-এর ইস্যুতে রয়েছে  অনেকগুলো উন্নয়ন বোর্ড গঠন, কালিম্পং পৃথক জেলা করে দেওয়া আর মিরিক পৃথক মহকুমা করে দেওয়া। জেলা শাসক জয়শি দাসগুপ্ত জানিয়েছেন, পাঁচশোর বেশি ভোট কর্মী কাজে নেমেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ কর্মী সমতল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সি আর ওই এফ পাহাড়ে যেটা ছিল সেই ২ কোম্পানিই কাজে নেমেছে। ভোট গ্রহণ শুরু সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

 

Developed by DXDasia