কুম্বলে পুরোনো দিনের ক্রিকেটের নায়ক, যেখানে বিরাট নিজে ‘ইয়ং ইন্ডিয়া’ র প্রতিনিধি
যে অনিল কুম্বলে ক্রিকেটার সহ কোচের বেতন বৃদ্ধির পক্ষে সওয়াল করেছিলেন, সেই অনিল কুম্বলেই আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত টিকিট থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় দলের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গেলেন না!যাবেন কি না এখনো জানা নেই। যদিও গত ১৮ জুন ২০১৭, পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা শেষ হওয়া মাত্রই তাঁর চুক্তি শেষ হয়েছে ভারতীয় বোর্ডের সাথে। সে চুক্তি যে রিনিউ হবে না সেটা আর নতুন খবর কিছু নয়। তাঁকে কোচ হতে হলে নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হবে। ইতিমধ্যেই মুলতানের সুলতান বীরেন্দ্র সেহবাগ, প্রাক্তন অজি খেলোয়ার ও পূর্বতন শ্রীলঙ্কা কোচ টম মুডি সহ একাধিক আবেদনপত্র জমা পড়েছে ভারতীয় বোর্ডে। আরও স্পষ্ট করে বললে সৌরভ গাঙ্গুলি, ভি ভি এস লক্ষণ আর শচীন তেন্ডুলকারের কাছে। ক’দিন আগে অদ্ভুতভাবে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত ভারতীয় বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি (অনিল কুম্বলে) যদি যেতে চান, তাহলে যেতে পারেন আগামী সফরের জন্য। অর্থাৎ তাঁর সামনে চলে যাওয়ার সম্মানজনক রাস্তা থাকছে।
একজন অন্তর্মুখী অথচ কড়া কোচ হিসেবে কুম্বলের খ্যাতি এক বছরে বেড়েইছে। কিন্তু “ বিরাট” এর সামনে “জাম্বো”-র পদ এখন নড়বড়ে। এটা বোধ হয় হওয়ার ছিল, রবি শাস্ত্রী ডিরেক্টরের পদ থেকে পদচ্যুত হওয়ার পর বিরাট যে খুশি ছিলেন এমনটা নয়।
মনে রাখতে হবে সেই অনিল কুম্বলে কোচ যিনি মার্ভিল ডিলনের বলে চোয়াল ভেঙে, ব্যান্ডেজ বেঁধে এসে উইকেট নিয়েছিলেন, সেই কুম্বলের নিয়মের বেড়াজাল বিরাটদের ক্ষেত্রে বিরাট সমস্যা তৈরি করছে। যেখানে রবি শাস্ত্রী ছিলেন অনেক খোলামেলা অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলেন খেলোয়াড়দের সঙ্গে। যার বড় প্রমাণ খেলোয়াড়দের বান্ধবীদের নিয়ে সফরে আসাতেও তাঁর নিষেধাজ্ঞা ছিল না। মনে করা হচ্ছে বিরাট ও কুম্বলের ব্যক্তিত্বের ব্যবধান এতটাই যে, বিরাট ভাবছেন কুম্বলেকে পুরোনো দিনের ক্রিকেটের নায়ক, যেখানে বিরাট নিজে ‘ইয়ং ইন্ডিয়া’ র প্রতিনিধি। এমনিতেও বিরাটের শ্রোতা হিসেবে সুনাম নেই।
এরমধ্যে অনিল কুম্বলে বোর্ডের কাছে বেতন বৃদ্ধির আবেদন করে পড়েছেন দুর্বিপাকে। এদিকে কোহলি সহ একাধিক সিনিয়ার খেলোয়াড়ের সাথে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে দ্রুত। গত এক বছরে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্ট সিরিজ জিতেছে কোহলি- কুম্বলে জুটিতে। ভারতীয় বোর্ডের আর্থিক লেনদেন ঘটিত সমস্যার জন্য I CC Champions Trophy 2017 তে যোগ দেবার পক্ষেও ছিলেন না বোর্ড কর্তাদের একাংশ। সেখানেও বিরাট বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ দিয়ে খেলতে যাওয়ার সমর্থন ছিল কুম্বলের। এরমধ্যে খবর, রবি শাস্ত্রী কোচের পদের জন্য আবেদন করেননি এখনো। হয়তো সৌরভ – রবি যুদ্ধ তিনি এড়িয়েই গেলেন। ভারতীয় বোর্ড থেকে উপযাচক হয়ে বীরেন্দ্র সেহবাগের আবেদন চাওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন কোচ নন ম্যানেজার হিসেবে আবেদন করবেন। হয়তো সেই মর্মে আবেদনও করেছেন। তবে সৌরভের সাধের “ বীরু” আর কতদিন তাঁর নেকনজরে থাকেন সেটাই দেখার। Champions Trophy চলাকালীন প্রাক্তন ক্রিকেটার বীরেন্দ্র সেহবাগ তাঁর এক কালের অধিনায়ক সম্পর্কে বলেন, দুই উইকেটের মাঝে তাঁর(সৌরভের) যাতায়াত একেবারেই ভালো ছিল না। পাশে বসে ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন সৌরভ। এর আগে সুনীল গাভাস্কার অ্যান্ড্রু ফ্লিল্টফ ও একই অভিযোগ আনলেও এবার সেটা পাত্তা দিলেন সৌরভ। পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়েছেন তিনি, তাঁর দৌড়ে রান নেওয়ার ভাগ ৩৬ %, সেখানে বীরেন্দ্র সেহবাগের ২৪ %। সতর্কও করেছেন, তাঁকে কিন্তু সৌরভের সামনে ইন্টারভিউ দিতে বসতে হবে কোচের। এতকিছুর মধ্যে বর্তমান বিশ্ব ক্রিকেটের ভীষ্ম শচীণ তেণ্ডুলকারের কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি। হয়তো তাঁর নীরবতাই তাঁর ভাষা।
