সেই কোন দেশ ছেড়ে আমরা যাচ্ছিলাম…

ফেসবুক জুড়ে ভাইরাল এই কাল্পনিক মহাদেশের মানচিত্র

ধরা যাক আমরা সব্বাই পরিবার-সহ গ্রীষ্মের ছুটিতে ঘুরতে বেরোলাম। ট্রেনের টিকিট কাটা হল। প্রথম ভ্রমণ আশ্চর্য ঘুমপরীর দেশ। ঘুমপরীর বাস একদম উত্তরে। সারাবছর হু হু হাওয়া বইছে। বরফ পড়ছে দিন-রাত। সেখানে সাতদিন কাটিয়ে হেসোরাম হুঁশিয়ারির আবিষ্কৃত দেশ। কে জানে, তার ঠিক পাশেই অবস্থান করছে আমাদের ছেলেবেলারা। ডাকছে। কান পাতলেই শোনা যাবে আদুরে ডাকের আওয়াজ। ভুশুণ্ডির মাঠ, হীরক রাজ্য, শুণ্ডি, বোম্বাগড় আরও কত কি! এই সফরের পর কেটে যাবে দীর্ঘ ছ’টা মাস। শীত এসে দরজায় কড়া নাড়বে। মনে হবে বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও একটা গেলে হয়। বন্ধুরা জেনে যাবে মনের কথা। তারপর চট করে একটা প্ল্যান মাথায় নিয়ে বেরিয়ে পড়া যাবে শীতকালীন দশটা দিন। এবার ছোট্ট কয়েকটা দ্বীপ। রসের সাগরের কয়েকটি ছোটো ছোটো দ্বীপপুঞ্জে ক্যামেরা, মোবাইল সব ত্যাগ করে শুধু দেখার চোখ নিয়ে ঘুরে বেড়াব তেপান্তর, নিশ্চিন্দিপুর, মোহিনীগ্রাম। ভালোবেসে ফেলব তাদের। আর ফিরতেই ইচ্ছা করবে না।

এমন কি কখনও সম্ভব? হয়তো সম্ভব নয় বলেই প্রতি দিবাস্বপ্ন আমাদের চেতনায় জুড়ে বসছে। প্রতিদিনের ব্যস্ততা কাটিয়ে ঘরে ফেরার ফুরসতটুকু দেখিয়ে দিচ্ছে একটা ম্যাপ। যেখানে দিব্য জ্বলজ্বল করছে বইয়ে পড়া বা সিনেমার পর্দায় দেখা কয়েকটি দেশ-রাজ্য। উঁকি মারছে সাত সমুদ্রের পার, অচিনপুর, খিচুড়িস্তান, রাক্ষসরাজ্য, মৎস্যকন্যা পুরী ইত্যাদি ইত্যাদি। গত দুইদিন ধরে ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে উঠেছে এই কাল্পনিক মহাদেশের মানচিত্র। এমন একটি মহাদেশের স্বপ্নই কি আমরা দেখতে চেয়েছি বারবার? কে জানে! হয়তো স্বপ্নই বারবার কথা বলে উঠছে। ব্যস্ততা কাটিয়ে কয়েকদিনের লম্বা সফরের ডাক দিয়ে কেউ বলছে, “চলো, বেরিয়ে পড়ি।” সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় রোজ কত কি ঘটে যাহা তাহা/ এমন কেন সত্যি হয় না, আহা!

Developed by DXDasia