
মানবিকতার বিরল নজির আলিপুরদুয়ারে
মানবিকতার বিরল নজির গড়লেন আলিপুরদুয়ারের এক অখ্যাত গ্রামের বাসিন্দারা। কিছুদিন আগেই কলকাতা শহরে ১৬টি কুকুরছানাকে মেরে ফেলার ঘটনায় গোটা বাংলা শিউরে উঠেছিল। অন্যদিকে ভুটান সীমান্তের কাছে শামুকতলা থানা এলাকার গ্রামবাসীরা সমস্ত রাত জেগে ৩৫ ফুট গভীর কুয়ো থেকে একটা কুকুরকে উদ্ধার করে দেখিয়ে দিলেন, মায়া, স্নেহ, ভালোবাসা, মানবিকতার মতো শব্দগুলো আমাদের বাংলায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়নি এখনো।
চা বাগান লাগোয়া গ্রামটির কার্তিকা চৌপথি এলাকার বাসিন্দা উদয় চক্রবর্তীর ছেলের বৌভাতের অনুষ্ঠান ছিল শনিবার রাতে। যার ফলে অনেক রাত পর্যন্তই জেগে ছিলেন আশেপাশের লোকেরা। হঠাৎ কুকুরের অসহায় চিৎকার শোনা যেতে তাঁরা খোঁজ লাগান। দেখা যায়, উদয় চক্রবর্তীর বাড়িতেই একটি পরিত্যক্ত কুয়োতে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে কুকুরটি। উচ্ছিষ্ট খাবারের লোভে পথের অন্যান্য কুকুরদের মতো এই কুকুরটাও সেই বাড়িতে গিয়েছিল। সম্ভবত দেখতে না পেয়ে কুয়োতে পড়ে যায় কুকুরটি। গ্রামবাসীরা প্রথমে বাঁশ, দড়ি দিয়ে কুকুরটাকে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তখন দমকলে খবর দেন তাঁরা। ৩৫ কিলোমিটার দূরের দমকল কেন্দ্র থেকে সকাল ৭টায় হাজির হয় দমকল বাহিনী। প্রায় ১ ঘণ্টার চেষ্টায় কুকুরটিকে উদ্ধার করতে সমর্থ হন তাঁরা। সারারাত জেগে চেষ্টা করা গ্রামবাসীরাও হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। দমকলকর্মীদের মুখেও স্বস্তির হাসি।
কুয়ো থেকে কুকুরটিকে তুলে আনার পর প্রাথমিকভাবে শুশ্রুষা করেন আশেপাশের মানুষরাই। তারপর পশুচিকিৎসককে ডেকে সারিয়ে তোলা হয় প্রাণীটিকে। ভুটান সীমান্তের অখ্যাত এই গ্রামের বাসিন্দারা যেভাবে সারা রাত জেগে দমকল ডেকে পথের কুকুরটির প্রাণ বাঁচালেন, তা শহর-গ্রাম নির্বিশেষে যে কোনো মানুষের কাছেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।
