
দাবদাহে কাতর প্রাণীদের রক্ষণাবেক্ষণে নানা উদ্যোগ
গরমে নাজেহাল ওরাও। ওরা বলতে শিম্পাঞ্জি, হরিণ, বাঘ, সিংহ, ক্যাঙারু, লেপার্ড, শিয়াল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের চিড়িয়াখানায়, অভয়ারণ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে তারা। অত্যধিক গরমে যাতে এদের কোনো বিপত্তি না হয় তার জন্য চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না চিড়িয়াখানা ও অভয়ারণ্য কর্তৃপক্ষরা। আলিপুর চিড়িয়াখানায় নানা জাতের প্রাণীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। বাঘ, সিংহ-র মতো প্রাণীদের ডায়েট চার্ট থেকে মাংসের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাড়ানো হয়েছে জলের পরিমাণ। দেওয়া হচ্ছে অ্যান্টিটেস্ট ভিটামিন। ক্যাঙারু, মার্মোসেট, পাখিদের জন্য রয়েছে ঢালাও ফলাহারের বন্দোবস্ত। পাখিদের খাঁচার সামনে রাখা হচ্ছে কচি ঘাস। শিম্পাঞ্জি চুমুক দিচ্ছে লস্যিতে। ভাল্লুক চেটেপুটে খাচ্ছে দইভাত। খাঁচার সামনে বসেছে ফ্যান। চলছে পাইপে করে জল ছিটিয়ে পরিবেশ ঠান্ডা রাখার চেষ্টা। হাতিদের স্নানের সময় বেড়েছে অনেকখানি।
ঝাড়গ্রামের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র জঙ্গলমহল জুলজিকাল পার্কেও একই ছবি। সেখানে একশোরও বেশি বার্কিং ডিয়ার, চিতল হরিণ, নীলগাই ছাড়াও চিতাবাঘ, হায়না, ভাল্লুকও রয়েছে এখানে। গরম ঠেকানোর জন্য বিশেষ শেড নির্মাণ করা হয়েছে। ওআরএস দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত। চলছে প্রাণীদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা। শান্তিনিকেতনের বল্লভপুর অভয়ারণ্যেও হরিণদের গরমের হাত থেকে বাঁচাতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে বন দপ্তর। মোট ৩০৮টি হরিণ আছে বল্লভপুরে। তাদের পানীয় জলে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে ওআরএস। জল যাতে গরম না হয়ে যায়, তাই বদলে দেওয়া হচ্ছে বারবার। দেওয়া হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে কাঁচা ছোলা এবং সবুজ ঘাসও।
নিবিড় রক্ষণাবেক্ষণের কারণেই এখনো অবধি তাপপ্রবাহে অসুস্থ হয়নি কোনো প্রাণীই। আশার খবর বলতে এটাই।
