
কংক্রিট-প্লাস্টিক মুক্ত অঞ্চল, বলা যেতেই পারে অক্সিজেন হাব…
শহরের ঘিঞ্জি রাস্তাঘাট, গাড়িঘোড়া, ধুলো আর ধোঁয়া ছাড়িয়ে যদি আশেপাশে কোথাও পাওয়া যায় দূষণহীন প্লাস্টিকহীন খানিকটা টাটকা বাতাস, তাহলে কেমন হয়? মেদিনীপুর শহরে ঠিক পাশেই গড়ে উঠছে এরকমই একটা পরিবেশ, যেখানে শহরের মানুষ সময়-সুযোগ মতো প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটিয়ে আসতে পারবে। আধুনিক ‘আরবান নেচার পার্ক’-এর ধাঁচে বন দপ্তর সেখানে এই ধরনেরই উদ্যোগ নিচ্ছে।
বন দপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, টিকিট কেটে ঢুকতে হবে সেই পার্কে, যদিও টিকিটের দাম এখনও ঠিক হয়নি। ৪০ হেক্টর পার্কের চারদিকে পাঁচিলের বদলে থাকবে পরিখা। হাঁটার জায়গার সঙ্গে থাকবে শরীর চর্চার ব্যবস্থা, হার্বাল ম্যাসাজ সেন্টার, বিশ্রামের শেড, ফুড কোর্ট, ইকো চিল্ড্রেন পার্ক এবং ফিস থেরাফি। চৌবাচ্চার জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকলে মাছের দল এসে খেয়ে সাফ করে দেবে পায়ের ময়লা। কংক্রিটের বদলে নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত হবে বাঁশ, খড় ও গাছের পাতা। ইতিমধ্যেই মেদিনীপুর শহরের বিভিন্ন বয়সের এবং পেশার মানুষ এই প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়েছেন। দূষণমুক্ত এরকম একটি উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন নাগরিক সমাজ। দূষিত এবং ঘিঞ্জি পরিবেশ থেকে মুক্তির আশায় মেদিনীপুর শহরের বহু মানুষই এই অক্সিজেন হাবের খবর পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।
দূষণমুক্ত পরিবেশ তো বটেই, পার্কের মধ্যেই থাকবে ‘আরবান ক্র্যাফট হাট’, যেখানে জঙ্গলমহলের মহিলাদের তৈরি হস্তশিল্প সংগ্রহ করার ব্যবস্থা থাকবে। নির্দিষ্ট জায়গায় খাবার ছড়িয়ে রাখা হবে পাখিদের জড়ো করার জন্য। পরবর্তীকালে বাটারফ্লাই গার্ডেন এবং স্পাইস গার্ডেন তৈরি করার পরিকল্পনাও আছে বনদপ্তরের। এক কথায়, প্রকৃতির কোলে একসঙ্গে মনের শান্তি এবং হরেক বিনোদনের আয়োজন থাকবে সেই পার্কে।
