
পাহাড়ের প্রত্যন্ত স্থানে রেশন পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা
সোমবার কালীঝোরায় এক ট্রাকচালককে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল মোর্চার বিরুদ্ধে। ট্রাকচালকের নাম অনিকেত ছেত্রী। তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে। মন্ত্রী গৌতম দেব এদিন তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যান। ট্রাকচালকের দাবি, বন্ধ না মেনে ট্রাক চালানোয় তাঁর ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিন পাহাড়ের ৪০টি স্থানে মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুতুল পোড়ানোর কর্মসূচি নেয় মোর্চা। দার্জিলিঙে সিংমারি সহ অন্যত্র মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুতুল পুড়েছে। কুশপুতুল পোড়ানোর সময় ‘সিআরপিএফ গো ব্যাক’ বলে স্লোগান ওঠে। পুলিস প্রশাসন অবশ্য তাদের সেই সব কুশপুতুল পোড়ানোর কাজে বাধা দেয়নি। ফলে কোনো সংঘর্ষের খবর নেই।
বন্ধ সমর্থকরা সোমবার শিলিগুড়ি থেকে সিকিমগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করায় সিকিম থেকে অনেক পর্যটক শিলিগুড়ি ফিরতে পারছেন না। অবরোধ হয়েছে রংপো সেতুর কাছে। আটকে আছেন প্রায় তিন হাজার পর্যটক। সেখানে বিরাট যানজটও তৈরি হয়েছে। এদিকে শিলিগুড়ি খালপাড়ার অগ্রসেন ভবনে দার্জিলিং থেকে মোর্চার তাড়া খেয়ে আসা ২৫ জন তৃণমূল কর্মীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিঙের সিংমারি, লেবং ভ্যালি থেকে তারা শিলিগুড়ি এসেছেন। চারজনের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঐ ২৫জনের মধ্যে সাত জন মহিলা, ১৮জন পুরুষ। রয়েছে একজন শিশুও। তৃণমূলের পাহাড় শাখার সহ সভাপতি ও যুব তৃণমূলের পাহাড় শাখার সভাপতির বাড়ি পুড়েছে। বাকিদের বাড়ি ভাংচুর হয়েছে। ঐ ২৫ জন ছাড়া আরও ৯ জন ঘরছাড়া তৃণমূল কর্মী সোমবার পাহাড় থেকে শিলিগুড়ির ত্রাণ শিবিরের দিকে রওনা দিয়েছেন। জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব অগ্রসেন ভবনে গিয়ে ঐ কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন।
পাশাপাশি, গৌতমবাবু পাহাড়ের আন্দোলনকারীদের অশান্তি বন্ধ করারও আবেদন জানান। পাহাড়ে গণতন্ত্র ধ্বংস করে হিংসার রাস্তাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। বন্ধ আর হিংসার রাস্তা পরিহার করলেই আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি। পাহাড়ের বহু প্রত্যন্ত স্থানে রেশন পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক শিলিগুড়ি এলে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করা হবে রেশন নিয়ে, এমনটাই জানান গৌতমবাবু। এদিকে পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া জনজাতিদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর তৈরি করা ১৫টি বোর্ড সদস্য রবিবার রাত থেকে শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউসে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের পাহাড়ে উঠতে দেওয়া হবে না বলে রবিবার রাত থেকে মোর্চার হুমকির কথা বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও মন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, সেই রকম কোনও হুমকির খবর তাঁর জানা নেই। তবে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ২২ তারিখে শিলিগুড়িতে পাহাড় নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকের জন্য ঐ বোর্ড সদস্যরা শিলিগুড়িতে রয়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে, দার্জিলিঙে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার মোর্চা সহ ৬ দলের বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকে কী হয় তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে পাহাড়ের রাজনৈতিক মহল।
