
ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দিশা
ক্যানসারের জন্য প্রধান দায়ী দুটি জিনকে অবশেষে চিহ্নিত করা গেল। আর সেই চিহ্নিতকরণের কাজটি করলেন বাংলার ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের’ (আইসার) বাঙালি গবেষকরাই। ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দিশা আনবে হইচই ফেলে দেওয়া এই আবিষ্কার। মজার ব্যাপার হল, গবেষকরা এই মারাত্মক কাণ্ডটি ঘটিয়ে ফেলেছেন মূলত অঙ্ক কষে।
অঙ্ক কষেও চিহ্নিত করে ফেলা যায় ক্যানসারের জন্য দায়ী জিন? ঠিক এমনটাই করেছেন কল্যাণীর ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের’ (আইসার) গবেষকরা। ক্যানসারের পিছনে কোন কোন জিনের ভূমিকা প্রধান ক্যালকুলাসের মাধ্যমে সেটাই চিনিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। ফলে, হইচই পড়ে গেছে গোটা দেশের চিকিৎসামহলেও। ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দিশা যোগ করবে এই গবেষণা, বলাই বাহুল্য।
এই প্রকল্পের মুখ্য গবেষক ছিলেন আইসারের জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক পার্থসারথি রায়। গবেষণায় জানা গেছে, এমআইআর-১ টোয়েন্টি ফাইভ বি এবং ট্রিম-টোয়েন্টি ওয়ান নামের দুটি জিন স্তন ক্যানসারের প্রধান নিয়ামক। এতদিন এই দুটি জিন ঠিকমতো চিহ্নিত করতে না পারায়, ক্যানসার চিকিৎসা এমনকি টার্গেটেড কেমোতেই আশাপ্রদ সাফল্য মিলছিল না। এবারে, এই দুটি জিনকে চিহ্নিত করে ওষুধ প্রয়োগ করলে ক্যানসার নিরাময়ের হার অনেকটাই বাড়বে বলে অভিমত গবেষকদের। মূলত স্তন ক্যানসার নিয়ে গবেষণা করলেও গবেষণার ফলাফল জরায়ুমুখ এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
ক্যানসারের মতো মারণ-রোগের গবেষণায় এমন আবিষ্কার কতটা যুগান্তকারী, তা সময়ই বলবে। কিন্তু বঙ্গসন্তানদের এই কাজকে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা দেশের চিকিৎসামহল। তাছাড়া গণিত এবং জীববিজ্ঞানকেও যে মিলিয়ে দেওয়া যায় এইভাবে—সেটাও তো কম বড়ো ব্যাপার নয়।
