
সাহায্য চাওয়া হবে সমস্ত নাগরিকদের থেকেই
বিশ্বজুড়ে ক্রমশ থাবা বসাচ্ছে উষ্ণায়ন। ইউরোপ পুড়ছে। বরফ গলছে মেরু প্রদেশের। মৃত্যুমিছিল দেখা দিয়েছে পেঙ্গুইন, বল্গা হরিণদের ভিতরে। এরই মধ্যে, ভারতবর্ষে তীব্রতর হয়েছে জলসংকট। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করছেন। বলছেন, পরিবেশ বাঁচিয়ে রাখার কথা। জৈব জ্বালানির ব্যবহার কমানোর কথাও বলছেন। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে রাশ টানতে বলছেন।
পরিবেশ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে রাশ টানার কথা ভাবছে রাজ্য সরকারও। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সপ্তাহে এক দিন আধঘণ্টা করে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার প্রস্তাব উঠে এসেছে। মঙ্গলবার বিদ্যুৎ ও সেচ দফতরের সঙ্গে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে ঠিক হয়েছে এই উদ্যোগের কার্যকারিতা ও উপকারিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হবে।
রাজ্য সরকারের যুক্তি, সপ্তাহে একদিন আধঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ ও কয়লা সাশ্রয় হবে। তাতে পরিবেশ রক্ষাও হবে। তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় প্রচুর কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়। তাতে সামান্য হলেও রাশ টানা যাবে। তবে, শুধু সাধারণ নাগরিকদের ওপর এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না। সরকারি অফিস থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের দপ্তরেও সপ্তাহে এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার আবেদন জানানো হয়েছে নবান্নের পক্ষ থেকে।
তবে, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যবাসীর ওপর বাধ্যতামূলকভাবে চাপিয়ে দিতে রাজি নয় রাজ্য সরকার। গোটা রাজ্য জুড়ে আগে সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে চায় তারা। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে—এই বার্তা পৌঁছে দিতে চায় সর্বস্তরে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকরী হলে গোটা দেশেই যে এটি একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হবে, বলাই বাহুল্য।
